ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 February 2018, ২৬ মাঘ ১৪২৪, ২১ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মালদ্বীপ সুপ্রিম কোর্টের ইউটার্ন

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে পুলিশের টহল

৭ ফেব্রুয়ারি, বিবিসি/গ্লোবাল টাইমস/টাইমস অব ইন্ডিয়া : দুই বিচারপতিকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দণ্ডিত নয় বিরোধী রাজনীতিককে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ প্রত্যাহার করেছে মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট।
গত মঙ্গলবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের অবশিষ্ট তিন বিচারক এক বিবৃতিতে ‘প্রেসিডেন্টের উত্থাপিত উদ্বেগের আলোকে’ আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের এ ঘোষণা দেন বলে খবর বিবিসির।
সপ্তাহখানেক আগে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারক সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ এবং বিরোধী দলের ১২ এমপিকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচার করে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে ‘অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বর্ণনা করে তাদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ওই এমপিদের সংসদ সদস্যপদও বহাল ঘোষণা করেন তারা।
আদালতের ওই রায়ের পর মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি (এমডিপি) নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট মালদ্বীপের ৮৫ সদস্যের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়।
প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মানবেন না বলে জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পার্লামেন্টের কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। কারাদণ্ড পাওয়া ১২ এমপির মধ্যে নয় জন কারাভোগ করছেন। এছাড়া, স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা আব্দুল্লাহ সিনান ও ইলহাম আহমেদ রোববার দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ইয়ামিন মিত্রদের আশঙ্কা ছিল, সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার বা অভিশংসনের আদেশ দিতে পারে।
এ অবস্থায় সোমবার প্রেসিডেন্ট ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারক আব্দুল্লাহ সাঈদ এবং অন্য আরেক বিচারপতি আলী হামীদকে গ্রেপ্তার করে। প্রায়ই একসময়ে ইয়ামিনের সৎভাই ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমকেও আটক করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বাকি বিচারপতিরা আগের আদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
ইয়ামিন বলছেন, তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের তদন্ত করতেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
“বিচারকদের বিরুদ্ধে তদন্তের অন্য কোনো পথ না থাকায় আমাকে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়েছে,” মঙ্গলবার টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে এমনটাই বলেন প্রেসিডেন্ট।
জরুরি অবস্থা জারির ফলে দেশটির সংবিধানে বর্ণিত নাগরিক অধিকারের বেশ কিছু বিধান এখন কার্যকর থাকবে না। নিরাপত্তা বাহিনীও বাড়তি ক্ষমতা ভোগ করবে।
২৬টি প্রবাল প্রাচীর ও ১১৯২টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ভারত মহাসাগরের এ রাষ্ট্রে ভরা পর্যটন মৌসুমে জরুরি অবস্থা জারি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ঘটনায় বিভিন্ন দেশও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশসহ অনেক দেশই দেশটিতে থাকা তাদের নাগরিকদের সতর্ক হয়ে চলাফেরার পরামর্শ দিয়েছে। 
যদিও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও জনগণের চলাফেরা, চাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর জরুরি অবস্থার প্রভাব পড়বে না। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, জরুরি অবস্থা জারি প্রেসিডেন্টের ‘মরিয়া ভাবের কথাই বলছে’।
এদিকে মালদ্বীপের রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ আহবান করার প্রেক্ষিতে চীন বলেছে দেশটির এধরনের কোনো সুযোগ নেই। এর আগে ভারত বলেছিল তারা মালদ্বীপে বিশৃঙ্খলার দিকে নজর রাখছে এবং সতর্ক রয়েছে। কিন্তু চীনের সরকারি মিডিয়ার এক নিবন্ধে বলা হয়েছে মালদ্বীপের মত একটি সার্বভৌম দেশে কোনো সংকট বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার অধিকার ভারতের নেই। ডব্লিউআইওএন
পত্রিকার নিবন্ধে আরো বলা হয় ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চায়। এর ফলে এ অঞ্চলটি পিছিয়ে আছে। দিল্লি মালদ্বীপের পরিস্থিতির ওপর প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়। কারণ নতুন দিল্লি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রচেষ্টায় স্পর্শকাতর হস্তক্ষেপ করে অভ্যস্ত। এবং ভারত তা বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে মিলেই তা করে।
এর আগে মালদ্বীপ চীনের সঙ্গে ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড উদ্যোগ বা সিল্করুটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার পর ভারত তা কঠোরভাবে সমালোচনা করেছিল। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। গ্লোবাল টাইমস অভিযোগ করে বলছে, মালদ্বীপ ভারতের কঠিন চাপে রয়েছে। কিন্তু নতুন দিল্লির এধরনের হস্তক্ষেপের কোনো যুক্তি নেই। উল্লেখ্য ১৯৮৮ সালে মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের আহবানে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধীর নির্দেশে দেশটিতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংকট নিরসনে মালদ্বীপ সরকারের ভারত সরকারের সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে এ বিবেচনায় দিল্লি সামরিক অভিযানের জন্যে এবারো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ভারতের নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজগুলো মালদ্বীপের উপকূল বরাবর অবস্থান নিয়েছে। মালদ্বীপে কর্মরত ভারতের নাগরিকদের সতর্ক এবং পুনরায় আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশটি ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ