ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 February 2018, ২৬ মাঘ ১৪২৪, ২১ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিরিয়া প্রশ্নে ইরান রাশিয়া ও তুরস্ককে নিয়ে আমেরিকার আলাদা হিসাব-এরদোগান

৭ ফেব্রুয়ারি, রয়টার্স : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, সিরিয়ায় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসের পতনের পর আমরিকা এখন উত্তর সিরিয়ায় ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। আমেরিকা সেখানে দামেস্ক-বিরোধী কুর্দি গেরিলাদের মদদ দিচ্ছে।
ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্ট বা একেপি'র সদস্যদের উদ্দেশে এরদোগান এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা যদি বলে আইএস বিরোধী লড়াইয়ে আমরা পাঁচ হাজার ট্রাক এবং দুই হাজার কার্গো বিমানে করে অস্ত্র পাঠাচ্ছি তাও আমরা এটা বিশ্বাস করব না।
এরদোগান বলেন, সিরিয়ায় এখন ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ককে নিয়ে আমেরিকার আলাদা হিসাব আছে। সিরিয়ার মানবিজ শহর থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আমেরিকার দু'হাজার সেনা মোতায়েন করা রয়েছে এবং তারা সিরিয়ার কুর্দি গেরিলা পিপল'স প্রোটেকশন ইউনিট বা ওয়াইপিজি-কে সমর্থন দিচ্ছে। ওয়াইপিজি-কে তুরস্ক নিজের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে এবং সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে এসব গেরিলার বিরুদ্ধে গত ২০ জানুয়ারি থেকে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে।
মানবিজে মার্কিন সেনা উপস্থিতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, ‘আমেরিকা আগে প্রতিশ্রূতি দিয়েছিল যে, তারা মানবিজ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে; তারা মানবিজে থাকবে না। কিন্তু তারা সে কথা রাখে নি। তিনি জিজ্ঞেস করেন, কেন আপনারা যাচ্ছেন না?
এরদোগান আরও বলেন, তারা আমাদের মানবিজে যেতে নিষেধ করছেন। কিন্তু আমরা মানবিজে যাব এর প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার জন্য।
ন্যাটো জোটের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে এরদোগান বলেন, জোটের শীর্ষে থেকে আমেরিকা সিরিয়ায় কী করছে? আপনাদের তো সিরিয়ার সাথে সীমান্ত নেই, আপনারা সিরিয়ার প্রতিবেশী নন। আপনার এখানে কী কাজ? আমাদের ৯১১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। কুর্দি গেরিলাদের প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পূর্বসূরী বারাক ওবামাকে সত্য বলতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেন এরদোগান। তিনি বলেন, তারা আমাদের নানান কথা বলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য কথাটা বলেন না। ওবামা সত্য বলেননি, এখন ট্রাম্পও সেই একই পথে চলেছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের সাথে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কর্মকর্তারা সাক্ষাতে সম্মত হয়েছে। শীতল সম্পর্কযুক্ত উভয়পক্ষের প্রতিনিধিদ্বয়ের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ মার্চ বুলগেরিয়ার ভারনা শহরে। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইইউ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইইউ জোটের কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্রের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তুরস্কের সাথে দীর্ঘ দিনের বৈরী সম্পর্ক অবসানের জন্যই অনুষ্ঠিত হবে।
কূটনৈতিকদের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয় যে, তুরস্ক নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি সংগঠন (ন্যাটো) এর দ্বিতীয় বৃহত্তম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে তাদের উপর আমরা কিছুটা নির্ভরশীল। পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রের শরনার্থীদের জন্য তাদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা আমাদের মুগ্ধ করেছে। তাই তুরস্কের সাথে একটা ভাল সম্পর্ক তৈরী এখন সময়ের দাবি। ইইউ জোটের এমন উদ্দোগের ফলে এরদোগান মঙ্গলবার পার্লামেন্টের অধিবেশনের সময় তার দল একেপি এর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসোভ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও ইইউ জোটের নির্বাহী প্রধান জিয়ান-ক্লাউড জাঙ্কারকে তার দেশে নৈশভোজের জন্য দাওয়াত দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ব্যর্থ সেনা অভ্যূত্থানের চেষ্টা এবং ইইউ জোটের অন্যতম প্রধান দুই সদস্যরাষ্ট্র জার্মানি ও ন্যাদারল্যান্ডস এর এরদোগানের বিরুদ্ধে বিষোদগারের কারণে জোটের সাথে তুরস্কের সম্পর্ক শীতল হয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ