ঢাকা, শুক্রবার 9 February 2018, ২৭ মাঘ ১৪২৪, ২২ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মালদ্বীপের বন্ধুরাষ্ট্রের তালিকায় নেই ভারত

৮ ফেব্রুয়ারি, রয়টার্স/টাইমস অব ইন্ডিয়া/এনডিটিভি/এপি/ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস : মালদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা জানাতে ‘বন্ধু রাষ্ট্রগুলোতে’ দূত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালে কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের কার্যালয় থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। জানানো হয়, চীন, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে দূত পাঠানো হবে। মালদ্বীপে বাইরের শক্তি হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়বে বলে চীনের সতর্কতার কয়েক ঘণ্টা পরই এ ঘোষণা এলো। তবে আলোচনার জন্য মালদ্বীপের ‘বন্ধু’ তালিকায় ভারতের নাম নেই বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ।

সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক আদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার সন্ধ্যায় মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। 

মালদ্বীপে চলমান ঘটনাপ্রবাহে কড়া নজর রাখছে ভারত। আর চীনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে বলা হয়, মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে বহির্বিশ্ব হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আর এ সতর্কতা প্রদানের কয়েক ঘণ্টা পরই মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয়, তাদের দূতরা ‘মালদ্বীপের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো’ সফর করবে এবং ‘বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্যগুলো’ জানাবে।

মালদ্বীপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন চীন ও সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ। দুই দেশই মালদ্বীপে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ শিপিং লেনগুলোর নিকটে অবস্থানের কারণে চীনের কাছে মালদ্বীপের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। অন্যদিকে মালদ্বীপে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে চায় ভারত।

সশস্ত্র বাহিনী সূত্রের বরাত দিয়ে গত বুধবার খবরে বলা হয়, ভারতীয় বাহিনী প্রতিবেশি দ্বীপরাষ্ট্রটির সব বিষয়ে কড়া নজর রাখছে। আর যেকোনও ধরনের ঘটনার মোকাবিলা ও সংক্ষিপ্ত নোটিশের মধ্যে সেখানে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধ জাহাজ সব সময় দেশের দক্ষিণ জলসীমায় টহল দিচ্ছে। প্রয়োজন হলেই তা মালদ্বীপের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। এর আগেও মালদ্বীপে অবিযান চালিয়েছিল ভারত। ১৯৮৮ সালে মালদ্বীপের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দুল গাইয়ুমের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান দমনের জন্য তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়েছিল ভারত। সে সময় রাজীব গান্ধি সরকারের নির্দেশে ‘অপারেশেন ক্যাকটাস পরিচালনা করা হয়। ওই অভুত্থানে মালদ্বীপের আবদুল্লাহ লুথুফি ও শ্রীলঙ্কান তামিল টাইগাররা জড়িত ছিল।

ঘুষের বিনিময়ে বিতর্কিত ওই রায় দিয়েছিলেন বিচারপতিরা : এছাড়া, ঐতিহাসিক এক আদেশ প্রদানকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপে আটক হওয়া সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ এনেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধান আব্দুল্লাহ নওয়াজ। তার দাবি, লাখ লাখ ডলার ঘুষ নিয়ে কারাবন্দি সরকারবিরোধী রাজনীতিবিদদের মুক্তির আদেশ দিয়েছিলেন ওই দুই বিচারপতি। এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে প্রমাণ আছে বলেও দাবি করেন নওয়াজ। মার্কিন বার্তা সংস্থা খবরটি জানিয়েছে।

গত বুধবার, মালদ্বীপের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধান অভিযোগ করেন, প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লাহ সাঈদ এবং বিচারপতি আলি হামিদ ওই রায় প্রদানের বিনিময়ে বিরোধী রাজনীতিকদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন। ঘুষ আদান-প্রদানের প্রমাণ পুলিশের কাছে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নওয়াজ দাবি করেন, গ্রেফতারকৃত জুডিশিয়্যাল কমিশনের প্রশাসক হাসান সাঈদের ‘বিছানার নিচ থেকে নগদ টাকা’ পেয়েছে পুলিশ। ঘুষ হিসেবে পাওয়া অর্থগুলো থেকে আবার অন্য বিচারপতিদের ঘুষ দিয়ে তিনি বিচার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন নওয়াজ।

ওই ঐতিহাসিক রায়ে বিরোধী ৯ নেতার বিরুদ্ধে আনা সরকারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি গত বছর সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বরখাস্ত হওয়া বিরোধীদলের ১২ সংসদ সদস্যকেও পুনর্বহালের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার দুই বিচারপতি গ্রেফতার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ৯ রাজনীতিককে মুক্তির আদেশ দিয়ে জারি করা রুলটি প্রত্যাহার করে নেন বাকি তিন বিচারপতি। তবে এখনও জেলেই আছেন আটক দুই বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলি হামিদের সঙ্গে কারাগারে বাজে আচরণ করা হচ্ছে বলে বুধবার অভিযোগ করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ। গ্রেফতারকৃত সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমও খাবার খাচ্ছেন না বলেও দাবি করেছেন ২০১৬ সাল থেকে ব্রিটেনের আশ্রয়ে থাকা এ নেতা। নাশিদের বক্তব্যের ব্যাপারে এখনও মালদ্বীপ সরকারের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। ইয়ামিন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও গাইয়ুমের মেয়ে দুনিয়া মামুন বাবাকে নিয়ে নাশিদের করা দাবিটি নাকচ করে দিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে দুনিয়া দাবি করেন, ‘আমি মাত্রই বাবার সঙ্গে দেখা করে এসেছি। তিনি ভালো আছেন। নাশিদ গুজব ছড়াচ্ছেন কেবল।’

বাইরের হস্তক্ষেপ চায় না চীন : মালদ্বীপে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট সমাধানে দেশটির নেতারা ভারতের হস্তক্ষেপ চাইলেও চীন জানালো বাহিরের কোনও হস্তক্ষেপের বিপক্ষে তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা জানায়, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মালদ্বীপের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি মাথায় রেখে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, ‘কোনও দেশের এমন কিছু করা উচিত হবে না যেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে।’

তবে চীন জানায়, মালদ্বীপের নিজেরই উচিত এই সমস্যার সমাধান করে ফেলা। গেং বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট কর বলেছি। মালদ্বীপের নিজেদেরিই এই সমস্যাসার সমাধান করতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব তাদের। আমি বিশ্বাস করি সেই সক্ষমতা তাদের রয়েছে।’

মালদ্বীপের বিরোধী দলগুলোর দাবি প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনকে সমর্থন করছে চীন। তবে চীনের দাবি,  মালদ্বীপে যা হচ্ছে সেটা অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আর চীন তাদের পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ