ঢাকা, শুক্রবার 9 February 2018, ২৭ মাঘ ১৪২৪, ২২ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মালদ্বীপ নিয়ে চীনের ভূমিকায় ভীত ভারত

৮ ফেব্রুয়ারি, আনন্দবাজার : মালদ্বীপ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। একের পর এক নাটকীয় ঘটনার ফলে দ্বীপ দেশটির দিকে নজর সবার। কী থেকে কী হয় তা বলা যাচ্ছে না। বিশেষ করে দেশটিকে কেন্দ্র করে চীন ও ভারতের রশি টানাটানি বিপজ্জনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। উদ্বিগ্ন দিল্লি শীর্ষক প্রতিবেদনটি এখানে প্রকাশ করা হলো।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের বারুদ জমছে আগে থেকেই। ভারতীয় বিশ্লেষকেদের ভাষায় কথিত কট্টর মৌলবাদকে সক্রিয় মদতও জুগিয়ে এসেছে মলদ্বীপের আবদুল্লাহ ইয়ামিন সরকার। গণতন্ত্রের দফারফা হওয়া এই দ্বীপরাষ্ট্রে এ বার পাক সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ আরো মাথাচাড়া দিতে পারে। পরিস্থিতি না শোধরালে, আগামী দিনে ভারতের নাকের ডগায় একটা ‘মিনি-পাকিস্তান’ই গজিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে উদ্বিগ্ন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তার কথায়, ‘‘ভারত থেকে মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরে মলদ্বীপ। চীনের সহযোগিতায় সেখানে মৌলবাদের ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা অনেক দিন ধরেই চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। লক্ষ্য, সমুদ্রপথে সন্ত্রাস পাচার করা। এখন অস্থির পরিস্থিতিতে গোটা দেশটাই না মৌলবাদীদের হাতে চলে যায়, এটাই এখন ভাবাচ্ছে নয়াদিল্লিকে।’’

এতে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানের মাদরাসায় মালদ্বীপের ছাত্রদের জন্য বিশেষ বৃত্তি চালু রয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরে। ওই বৃত্তি নিতে ইসলামাবাদে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে ইয়ামিনের জমানায়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে, এই যুবশক্তিই ক্রমশ লস্কর-ই- তৈবার প্রশিক্ষিত উগ্রবাদীতে পরিণত হচ্ছে। মালদ্বীপের সরকারের রাজনৈতিক প্রচারেও হিংসাত্মক চরমপন্থাকে লঘু করে দেখা, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কট্টরপন্থা ঢুকিয়ে দেয়া ও রাজনৈতিক দলের চরমপন্থী অংশকে সামাজিক ভাবে প্রশ্রয় দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

আনন্দবাজার জানায়, অথচ এই মালদ্বীপ সম্পর্কেই নৃতত্ত্ববিদ তথা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ক্ল্যারেন্স মালোনি ১৯৭০ সালে বলেছিলেন, দেশটিতে ইসলাম শুধুমাত্র নামাজ আর রোজাতেই সীমাবদ্ধ। ধর্মাচরণ রয়েছে, কিন্তু ইসলাম নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব চাপিয়ে দেয়া কিংবা চরমপন্থাকে আস্কারা দেয়ার প্রয়াস নেই। কিন্তু ছবিটা পুরো বদলে গেছে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু পাকিস্তানের সমর্থনপুষ্ট উগ্রবাদের বাড়বাড়ন্তই নয়। মালদ্বীপ থেকে আইএস-এ যোগ দেয়ার ঢলও রীতিমতো আশঙ্কাজনক। এটা শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও চিন্তার বিষয়। এখানকার এক-একটি পরিবার থেকে ১২ জন পর্যন্ত সিরিয়ায় গিয়ে আইএস-এ যোগ দিয়েছে, এমন নজিরও কম নয়। ভারতের জন্য আইএসের যে মডিউল রয়েছে, তাতে মালদ্বীপের উগ্রবাদীরাই রয়েছে মূল ভূমিকায়। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মালদ্বীপই না একটা খুদে-পাকিস্তানে পরিণত হয়! ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে যা যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ