ঢাকা, শুক্রবার 9 February 2018, ২৭ মাঘ ১৪২৪, ২২ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সার্টিফাইড কপি হাতে পেলেই আপিল করা হবে ----খালেদা জিয়ার আইনজীবী

 

স্টাফ রিপোর্টার : সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পরই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে একইসাথে জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। গতকাল আদালত চত্বর এবং সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা আজকেই (গতকাল) চেষ্টা করছি রায়ের সার্টিফাইড কপি অথবা অথেনটিকটেড কপি পেতে। যেকোনোভাবে একটা কপি পেতে আমাদের আইনজীবীরা এখন আদালতে অপেক্ষা করছেন। তারা অপেক্ষা করবেন সেখানে যতক্ষণ লাগে সেই কপি পেতে। সেই কপি পেলে রোববারই উনার জন্য এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল ফাইল করা হবে এবং তার সাথে সাথে জামিন চাওয়া হবে।

আইনমন্ত্রী বলেছেন যে, এই মামলার আপীলের নিম্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করতে পারবেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, এটা আইনমন্ত্রীর ব্যাপার না। এটা আদালতে ব্যাপার। উনি (খালেদা জিয়া) পারবেন কি পারবেন না সেটা কী আইনমন্ত্রী ঠিক করবেন? এটা তো আইনমন্ত্রী ঠিক করার বিষয় নয়। এটা তো যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে এটা আদালতে গড়াবে। তখন সুপ্রিম কোর্টই সিদ্ধান্ত দেবে তিনি পারেন কি পারেন না। 

মওদুদ বলেন, আমাদের মতে তিনি (খালেদা জিয়া) পারেন। আমরা মনে করি এই মামলার আপীল হলো, এটা কনটিনিউশন অব ট্রায়াল। আপীল হলো ফাস্ট কোর্ট, তারপরে হাইকোর্ট, তারপরে সুপ্রিম কোর্ট। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত না হলে ততক্ষণ তিনি অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আমরা মনে করি যতদিন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হবে ততদিন পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

তিনি বলেন, এটা কোনো ফৌজিদারি মামলা নয়, এটা একটি রাজনৈতিক মামলা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়ে এই মামলা পরিচালনা করা হয়েছে। যেহেতু নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সেটাই আমরা দেখলাম। আইন ও সংবিধানকে লঙ্ঘন করে যে রায় দেয়া হয়েছে সেটা আমরা মনে করি এটা আইনসম্মত হয় নাই, সাক্ষ্য প্রমাণভিত্তিক হয় নাই। এটা একটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন হিসেবে আমরা দেখছি।

গতকাল দুপুরে বকশীবাজারের বিশেষ আদালত রায় ঘোষণার পর পরই খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। তবে সেটি নির্ভর করছে রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার উপর। তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বিশেষ আদালত যে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন, তা ‘ন্যায়বিচার পরিপন্থী ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত’। 

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এ রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত দেয়া হয়েছে। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আমরা ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে যাব। মামলার রায়ের অনুলিপি আদালতের কাছে চাওয়া হয়েছে। আদালত আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। এ সময় আইনজীবী অভিযোগ করেন, রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হয়নি। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রেখেছেন।

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, আমরা শীঘ্রই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ