ঢাকা, শুক্রবার 9 February 2018, ২৭ মাঘ ১৪২৪, ২২ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানত ক্রমাগত কমছে

 

সংসদ রিপোর্টার: রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত ক্রমাগত কমে যাচ্ছে বলে সংসদে অভিযোগ তুলেছেন মো. মামুনুর রশীদ কিরণ। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। তবে বিষয়টি সঠিক নয় দাবি করে প্রশ্নের জবাবে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।  

অর্থমন্ত্রী বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। নভেম্বর ২০১৬ সাল থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের ৬টি বণিজ্যিক ব্যাংকের আমানতের গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এসব ব্যাংকের সংরক্ষিত আমানতের পরিমাণ ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা, যা গত বছর এ সময়ে ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ১৭ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা আমানত বেড়েছে।

বেগম উম্মে রাজিয়া কাজলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, একজন নাগরিকের বাৎসরিক আয় আড়াই লাখ টাকা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আয়কর প্রদান করতে হয়। এ বিবেচনায় কোন কোটিপতির করের বাইরে থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ নাগরিক আয়কর দিয়ে থাকেন। 

আলী আজমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ কবলিত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিনাসুদে ঋণ প্রদান করা হয় না। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় ঋণ দেয়ার আপাতত কোন পরিকল্পনা নেই। তবে, সাম্প্রতিক দুর্যোগ ক্ষতিগ্রস্তদের সহ্য়াতার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কৃষি ঋণ, এসএমই ও ক্ষুদ্র ঋণ গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সকল ব্যাংকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে সংসদে জানান আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বেগম সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদকে বলেন, বর্তমানে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে মাথাপিছু জাতীয় আয়ের পরিমাণ ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০১ টাকা। দেশের আয় বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ প্রতিবন্ধকতা যেমন-বিদ্যুৎ, গ্যাস প্রাপ্তিতে বিলম্ব, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকরণে প্রতিষ্ঠানিক জটিলতা, নিষ্কণ্টক জমির অভাব, ঋণের উচ্চ সুদের হার ইত্যাদি বাধা অপসারণে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনা, রেকর্ড ও রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের কার্যক্রম দ্রুততর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বেগম শিরীন আখতারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানে ৩০৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। যার মধ্যে কারিগরি প্রকল্প ১১১টি এবং বিনিয়োগ প্রকল্প ১৯৬টি। বেগম লায়লা আরজুমান বানুর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংর্কাস সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১০ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের বিভিন্ন পদে মোট ৪ হাজার ৮৩৭ জন জনবল নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এসব পদপূরণে সাধারণ নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের বৈষম্যের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মো আবদুল মুতিনের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সত্যটি সঠিক নয়। বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তরা সঠিক সময়ে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত ঋণ প্রাপ্তির মাধ্যমে দেশীয় জাতীয় উৎপাদনে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রেখে চলেছে। গত বছরের জানুযারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই শিল্পে সরকারি ব্যাংক থেকে ৯ হাজার ৫৩২ কোটি এবং বেসরকারি ব্যাংকসমূহ কর্তৃক মোট ১ লাখ ৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

বজলুল হক হারুণের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ব্যাংকের পাশাপাশি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ এর অধীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ঋণ ও আমানত ঝুঁকি হ্রাসে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দ্য়া-সম্পদ, ঋণ ঝুঁকি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন, মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গাইড লাইন জারি করেছে এবং প্রতিনিয়ত নির্দেশনা মানছে কি না তা প্ররিদর্শন করা হয়।

এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিকে সমগ্র ব্যাংকিং খাতে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৭ টাকা। এই ঋণের বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩ হ্জাার ১১০ কোটি টাকা, যার হার ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ