ঢাকা, শুক্রবার 9 February 2018, ২৭ মাঘ ১৪২৪, ২২ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

১৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম লেনদেন পুঁজিবাজারে

 

স্টাফ রিপোর্টার:  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ভাগ্যে কি ঘটছে তা নিয়েই জল্পনা কল্পনা ছিল মতিঝিলের ব্যাংক পাড়ায়। খালেদা জিয়ার ভাগ্যের সাথে জড়িয়ে পড়ে শেয়ার ব্যবসায়ীদের ভাগ্য। খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজায় ডিএসই’র সূচক এবং লেনদেন ফের পতনের মুখে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে (বৃহস্পতিবার) লেনদেন শেষে ডিএসই’র সার্বিক লেনদেন বিগত ২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।

জানা গেছে,খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের ঘোষণার পর থেকে পতনের কবলে পড়ে দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজার। প্রতিষ্ঠানিক নিয়োগে মঙ্গলবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাড়ায়। কিন্তু সে দাড়ানো স্থায়ী হলো না। গতকাল আবার পতনের কবলে পড়ে বাজার। সারা দিন জুড়েই বাজার আলোচনা ছিল রায় কি হয়। আর এ রায়ের ওপর নির্ভর করে দেশের পুঁজিবাজার। দিন শেষে হয়েছেও তাই।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারিরা মনে করেন,দেশের রাজনীতির ওপর নির্ভর করে অর্থবাজার। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে অর্থনীতিও স্থিতিশীল হবে না। তাই রায়ের ওপর নির্ভর করেই নিয়োগ করতে চান তারা। আর এ কারণে বড় ধরনের বিনিয়োগের যাওয়ার সাহসা করছে না বিনিয়োগকারিরা। এতে করে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও বাজার আগের অবস্থা ফেরাতে পারেনি।

এদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গ্রামীণফোনের প্রভাবে লেনদেনে উল্লম্ফন দেখা গেছে। দিনশেষে সিএসইতে ৪৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ডিএসই ও সিএসই’র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৫টির, দর কমেছে ৯০টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৬০টি প্রতিষ্ঠানের। এসময় ডিএসইতে ৭ কোটি ৪৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৭৮টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

দিনশেষে ডিএসইতে ৩০০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই ডিএসইতে ২৭২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। অর্থাৎ বিগত ১৯ মাসের মধ্যে ডিএসইতে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।

 লেনদেনের ব্যাপক নিম্নমুখী প্রবণতায়ও দিনশেষে ডিএসই’র সার্বিক মূল্য সূচক ২৯ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বেড়েছে। এসময় ডিএসই’র প্রধান সূচক ৫৯৬৫ দশমিক ৬২ পয়েন্টে স্থিতি রয়েছে। এসময় শরীয়াহ্ ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মূল্য সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ৫ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট ও ডিএস-৩০ সূচক বেড়েছে ৯ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট।

দিনশেষে টার্নওভার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে স্কয়ার ফার্মা। কোম্পানিটির ১৫ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। টার্নওভারের দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল গ্রামীণফোন, কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে মুন্নু সিরামিকের।

টার্নওভার তালিকায় ছিল- ন্যাশনাল ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ফার্মা এইড, বিবিএস ক্যাবলস, উসমানিয়া গ্লাস ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।

এদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হওয়া ২২১টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৭টির, দর কমেছে ৭৮টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের। এসময় সিএসইতে ৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

দিনশেষে সিএসই’র সার্বিক মূল্য সূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়েছে। এসময় টার্নওভার তালিকায় উঠে এসেছে গ্রামীণফোন। ব্লকট্রেডের কারণে আজ কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ