ঢাকা, শুক্রবার 9 February 2018, ২৭ মাঘ ১৪২৪, ২২ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রায়ে আওয়ামী লীগের উল্লাস-মিষ্টি বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ে আনন্দ মিছিল-মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাস প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তারা জানিয়েছেন, আমরা আশা করেছিলাম তার (খালেদা) ১৪ বছরের জেল হবে। তিনি এতিমদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ রায়ে প্রমাণিত হলো পাপ বাপকেও ছাড়ে না। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীজুড়ে উল্লাস-মিছিল এবং মিষ্টি বিরতণ করেছেন দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রায় শোনার সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও ধানমন্ডি কার্যালয়ের সামনে থাকা নেতাকর্মীরা উচ্চস্বরে উল্লাস করতে থাকে। যুব মহিলা লীগের উদ্যোগেও বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে মিছিল বের করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দেয়-এই মুহূর্তে খবর এলো খালেদা জিয়ার জেল হলো, খালেদা জিয়ার দুই গুণ দুর্নীতি আর মানুষ খুন। এছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দেয়। এছাড়া এ রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রাজধানীর ডেমরা-যাত্রাবাড়ী, রায়েরবাগ বিশ্বরোড, সায়েদাবাদ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এছাড়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউতেও উল্লাসে ফেটে পড়েন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এদিকে রায়ে সন্তোষ বা অসন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ড. হাছান মাহমুদ। খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের সন্তুষ্ট অথবা অন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, এ রায় একজন দুর্নীতিবাজ ও আদালতের বিষয়। এ রায়ের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো দেশে বিচারব্যবস্থা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। আইন সবার জন্য সমান, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এই রায় আওয়ামী লীগ বা বিএনপি’র মধ্যকার কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। এটা আদালত ও দুর্নীতিবাজের মধ্যকার বিচারের বিষয়। ফলে এখানে আওয়ামী লীগের সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির কিছু নেই। 

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আগে বলেছি, খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান দুর্নীতিবাজ। কিন্তু এ রায়ের পর এটা প্রমাণিত হয়েছে। খালেদা জিয়া ও বিএনপি এ মামলার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার জন্য সময়ক্ষেপণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা করেছে। আজও রায়ের চেষ্টা ভ-ুল করার চেষ্টা চালিয়েছিল তারা। সারা দেশে একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এ রায়ে (আওয়ামী লীগ) সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট হওয়ার বিষয় নয়। আইন সবার জন্য সমান, এটাই আসল বিষয়।

তিনি আরো বলেন, এই রায়কে ঘিরে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সারাদেশে একটি ভয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। তারা কিছু কিছু জায়গায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টাও করেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা নাশকতা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলে, এই রায়ের দিন খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর আদালতে যাওয়ার সময় তার দলের নেতাকর্মীরা নাশকতার যে চেষ্টা করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চড়াও হয়ে নাশকতা করার যে চেষ্টা করা হয়, তাতে প্রমাণ হয়, বিএনপি এই বিচারকে বাধগ্রস্ত করার জন্য এবং রায়ের প্রক্রিয়াকে ভ-ুল করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতার কারণে বিএনপি’র নেতকর্মীরা তাদের ষড়যন্ত্র সফল করতে পারেনি। 

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, আমরা আশা করেছিলাম খালেদা জিয়ার ১৪ বছরের জেল হবে। তিনি এতিমদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ রায়ে প্রমাণিত হলো পাপ বাপকেও ছাড়ে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ