ঢাকা, সোমবার 12 February 2018, ৩০ মাঘ ১৪২৪, ২৫ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্মার্টফোনে আকর্ষণ নেই পুতিনের!

শব্দের যেমন প্রয়োগ এবং অপপ্রয়োগ আছে, প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও তেমনি আছে ব্যবহার ও অপব্যবহারের বিষয়টি। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিষয়টি বেশ স্পষ্ট। মুঠোফোন ও আইপ্যাডের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে তো বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। এমন এক বাতাবরণে নিউজউইক জানালো, পুতিনের স্মার্টফোন নেই। খবরটি সচেতন মহলে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের জয়জয়কারের মধ্যেও এই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করেন না রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় বেশ গর্বের সাথে পুতিন স্মার্টফোন ব্যবহার না করার কথা জানিয়েছেন। রুশ কাউন্সিল ফর সায়েন্স অ্যান্ড এডুকেশনের এক বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেখানে এক কর্মকর্তা একটি মোবাইল ভয়েস মেসেজ ও পানি ফুটানোয় কী পরিমাণ জ্বালানি পোড়ে তার তুলনা করছিলেন। রুশ কুর্শেতভ ইনস্টিটিউটের প্রধান মিখাইল কোভালচাক উক্ত আলোচনার সময় রাশিয়ায় প্রায় সবার হাতে স্মার্টফোন থাকার কথা বলছিলেন। তখন তার কথা কেড়ে নিয়ে পুতিন বলে ওঠেন, ‘আপনি বলেছেন সবার হাতেই স্মার্টফোন, ‘কই আমার তো স্মার্টফোন নেই, আপনারও তো নেই।’ আসলে যোগাযোগ করার জন্য অন্য মাধ্যমগুলো ব্যবহারেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন পুতিন।
স্মার্টফোনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না পুতিন। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন আরো ভয়ংকর কথা। স্মার্টফোন কিশোর মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। বিলগেটস ও স্টিভ জবস এর মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা হয়তো মনোবিজ্ঞানীদের কথা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেছেন, মেয়ের বয়স ১৪ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে মুঠোফোন ধরতেই দেননি। ২০০৭ সালে মেয়ে একটি ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে পড়লে তিনি বিধি-নিষেধ আরোপ করেন। আর ২০১১ সালে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টিভ জবস বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত আইপ্যাড সন্তানদের ব্যবহার করতে দেননি তিনি। জবস বলেন, আমরা বাড়িতে সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহার সীমিত রেখেছিলাম। এদের কথায় তো কিছু বার্তা রয়েছে। বার্তা রয়েছে পুতিনের কথায়ও। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের অভিভাবকরা সেই বার্তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবো কী?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ