ঢাকা, সোমবার 12 February 2018, ৩০ মাঘ ১৪২৪, ২৫ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

‘বাংলার হকি টাইগার’ সোনা মিয়া আর নেই

স্পোর্টস রিপোর্টার: ‘হকির টাইগার খ্যাত’ আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া (৬৯ বছর) আর নেই। গতকাল রোববার সকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই কিংবদন্তি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)।  বেশ কিছুদিন ধরেই নানা রোগে ভুগছিলেন বর্তমান জাতীয় দলের হকি তারকা রাসেল মাহমুদ জিমির বাবা। তার দুই ছেলেই হকি খেলোয়াড়। বড় ছেলে রাসেল মাহমুদ জিমি জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় আর অন্যজন রাকিন আহমেদ খেলছেন ঘরোয়া লিগে। জানা গেছে,বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী সোনা মিয়ার নাম এবার জাতীয় পুরুস্কারের জন্য হকি ফেডারেশন থেকে পাঠানো হয়েছে। হয়তো পুরস্কারের জন্য মনোনীত হবেন। কিন্তু দুঃখ থেকে গেলো জীবন দশায় তিনি এই সম্মান পেলেননা।

পুরনো ঢাকার গোলাম মোস্তফা লেনে জন্ম নেওয়া সোনা মিয়া আরমানিটোলা স্কুল ও তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে পড়াশোনা করেছেন। আর স্কুল জীবন থেকেই হকিতে হাতে খড়ি। ১৯৬৩ সালে আজাদ স্পোর্টিং দিয়ে শুরু হকির ক্যারিয়ার।  কম্বাইন্ড, ভিক্টোরিয়া ও আবাহনী দিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ১৯৮৮ সালে।এরই মাঝে ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ অন্য দলেও খেলেছেন। পূর্ব পাকিস্তানের হয়েও খ্যাতি জুটিয়েছিলেন। সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে দুর্দান্ত খেলার কারণে তখন টাইগার উপাধি পান সোনা মিয়া। পাকিস্তান জাতীয় দল ১৯৭০ সালে এশিয়া কাপ খেলতে ঢাকায় এসেছিল।  সেই দলের বিপক্ষেই অভূতপূর্ব পারফরম্যান্স করে দেখান সোনা মিয়া। পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে তার নাম বাংলার টাইগার দিয়ে যান প্রতিপক্ষরাই।

পাকিস্তান জুনিয়র দলে খেলার সুযোগ হলেও মূল দলে তা আর হয়নি।  প্রাথমিক দলে নানা কারণে জায়গা হয়নি।  তবে লাল-সবুজ দলের হয়ে একাধিকবার স্টিকওয়ার্কে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।  খেলোয়াড়ি জীবন শেষে আবাহনী, মেরিনার্স, ঊষা ও অ্যাজাক্সের কোচ ছিলেন।১৯৮৯ সালে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন তিনি। ‘এ’ গ্রেড আম্পায়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।  হকি ফেডাশেনের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

শুধু যে হকি খেলতেন কিংবা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তা কিন্তু নয়।  ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অ্যাথলেটিক্স ও ক্রিকেটও খেলেছেন। অ্যাথলেটিক্সের বিভিন্ন ইভেন্টে আন্তঃকলেজ চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।  এমন এক কিংবদন্তির মৃত্যুতে হকি ফেডারেশন শোক প্রকাশ করেছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ‘আমরা এক সঙ্গে খেলছি। সবাই পছন্দ করতো তাকে।  হাসি-খুশি ছিলেন।পাকিস্তানিরা ঢাকায় এসে সোনা মিয়ার খেলা দেখে তার নাম দিয়ে গেছেন বাংলার টাইগার। তার খেলাতে অন্যরকম আগ্রাসী মনোভাব ছিল। স্কোরিং ভালো ছিল, শুটিংয়েও ছিলেন দারুণ।’উল্লেখ্য হকি ফেডারেশনের সাবেক সাধারন সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ‘র পর আরও একটি নক্ষত্র পতনে দেশের হকি অঙ্গনে বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ। হকি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন হকির টাইগার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ