ঢাকা, মঙ্গলবার 13 February 2018, ১ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৬ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মিডিয়ার কারণে ক্রিকেট আটকে আছে কিনা দেখতে হবে -সুজন

স্পোর্টস রিপোর্টার : ঢাকা টেস্টে শ্রীলংকার কাছে মাত্র আড়াই দিনে ২১৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই পরাজয়ের জন্য টিম ম্যানেজমেন্টই অনেকাংশে দায়ী করেছে স্যোশাল মিডিয়া। মিডিয়ায়ও আসছে এর নানা ব্যাখ্যা। সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার আক্রমণের বেশি আঘাত হানছে দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনকে। মিডিয়ায় দলের বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে যা লেখা হয়েছে তাতে তিনি খুব বিরক্ত। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপরও রাগ রয়েছে তার। তবে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘মিডিয়ার কারণে আমাদের ক্রিকেট আটকে আছে কি না সেটাও দেখতে হবে। আমার আসলে নোংরা লাগছে সত্যি কথা বলতে গেলে।’ পারসোনালি আমি আর আগ্রহী না। আমার আসলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গেই কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। আমার আসলে নোংরা লাগছে সত্যি কথা বলতে গেলে ওইভাবে। এতবছর বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করছি, বাংলাদেশের উন্নতির জন্যই কাজ করছি। এখানে আমার কোন স্বার্থ নাই। আমি আর আগ্রহী না।’ মিডিয়াকে কিছু উপদেশও দিলেন তিনি। জানালেন একজন খেলোয়াড় কিভাবে তৈরি হয় সেই প্রসেসের কথাও। সুজন বলেন, ‘আসলে বেসিক ফিল আমার, ক্রিকেট আমরা এতবছর ধরে খেলছি। এখন এত গসিপিং হয় । মিডিয়াতে ভাল খারাপ সবই হবে; কিন্তু কিছু কিছু জিনিস নেগেটিভ হয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেটের জন্য খুব কঠিন। একটি ছেলেকে তুলে নিয়ে আসা এত সহজ না। একটা ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে তাকে তৈরি করে তোলা অনেক কঠিন। কোচ কাজ করে, নাইনটিন দল, এইচপি অনেক কিছু। এই কথাগুলো যদি ঠিক না হয় তাহলে আমার মনে হয় না বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক দূর যাবে।’ বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী নন বলেছেন, মিডিয়ার উপর রাগ করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? জবাবে আরও আবেগি হয়ে ওঠেন খালেদ মাহমুদ সুজন। সুজন বলেন, ‘আমি তো গড না। আমি তো খালেদ মাহমুদ সুজন। আমি খুবই সামান্য একটা মানুষ। আমি মনে করি আমার সামর্থ্য, আমি এখানে দাঁড়িয়ে কাজ করেছি মানুষ স্বীকার করুক না করুক- আমি এটা ভালোবাসি। আমি যখন শুরু করছি আপনারা হয়ত তখন খুব ছোট। জানেন না, হয়ত জানার কথাও না। আমি যখন শুরু করি ১২-১৩ বছর বয়সে। অন্য কিছু নিয়ে কথা বললে আমার মেজাজ খারাপ হতে পারে। টেকনিক্যাল হয়ত খারাপ হতে পারি; কিন্তু অন্য বিষয় নিয়ে যখন কথা বলে, তখন এটা আমাকে খুবই আহত করে। এটা মনে হয় যে আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভাল কিছু করছি না। তাহলে আমার এখানে থেকে লাভটা কি। স্বার্থের জন্য আসিনি। আমার যা আছি আমি খুব ভালো আছি। আমি খুব খুশি, এখানে চাকরি করি, যতটুকু পাই, বা যেভাবে চলি।’ 

মিডিয়ায় যা এসেছে তা মানতে রাজি নন বলে জানান তিনি। তার ব্যখ্যা, মিডিয়া ভিন্ন কিছু প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে কারণে, মিডিয়া তাদের পেছনে লেগেছে। সুজন বলেন, ‘না, মিডিয়ার দাবি মানছি না। আমি বলতে চাচ্ছি, আপনারা এটা স্টাবলিশ করতে চান। চন্ডিকা চলে গেল কেন- এটা স্টাবলিশ করানো হইছে। আমরা তো বাচ্চা খোকা না এখন। সবাই তো বড় হইছি। অনেক কিছু স্টাবলিশ করা হয়। আমার পিছে যদি লাইগা থাকা হয়, আমি কোনদিন ভালো করলেও ভাল হব না। এত বছর খালি ভাল করতে তো শুনি নাই। সোশ্যাল মিডিয়া বলেন, মিডিয়া বলেন। আজকে এমনও শুনছি যে- রাস্তায় গেলে আমাকে মারও খেতে হতে পারে। তো ক্রিকেট খেলার জন্য মার খেতে হলে- এটা তো অকওয়ার্ড আসলে। কথার কথা বলছি।’এই পরাজয়ের জন্য তিনি কোনো অজুহাত দিতে চান না। টার্নিং উইকেটের যে অজুহাত তোলা হচ্ছে সেটাও মানতে রাজি নন তিনি। সুজন বলেন, ‘আমি কোন অজুহাত দিতে চাই না। টার্নিং উইকেট, বাউন্সি উইকেট- এসব কিছুই না। আমি যদি প্লেয়ার হই, সব উইকেটে ভালো খেলার কথা। উইকেট নিয়ে দোহাই দিয়ে লাভ নাই।’ সিরিজ নিয়ে ময়না তদন্ত করা হবে কি না জানতে চাইলে খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘আমি যেতে চাই না এগুলাতে। কাটাছেঁড়া করলে অনেক কিছুই কাটাছেঁড়া করা হয়। একটা দলের ভাল-মন্দ একটা দলের ভেতরকার কথা। টিমে এখানে অনেক কিছু হতে পারে। আমরা হারছি এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। সেটাতে আমরা কোচরা এসে বলবো না। আমাদের বলার দরকার নেই। বাইরে থেকও বলা দরকার নেই। আমরা খেলায় হেরেছি, মেনে নিতে হবে। আপনি গায়ের জোরে বলতে পারবেন না যে, ফ্ল্যাট উইকেট হলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত। আপনি এটা বলতে পারবেন যে ফ্ল্যাট উইকেট হলে শ্রীলঙ্কার সাথে আবার টেস্ট ম্যাচ হলে আবার চ্যাম্পিয়ন হবো এটা বলতে পারবেন আপনি? এর গ্যারান্টি নেই। এটা হলো আপনার এক্সিকিউশন, আপনি কিভাবে খেলবেন। আমরা অস্ট্রেলিয়ার সাথে ইংল্যান্ডের সাথে যদি জিততে পারি শ্রীলঙ্কার সাথে হারের কারণ তো উইকেট হতে পারে না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ