ঢাকা, মঙ্গলবার 13 February 2018, ১ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৬ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেগম জিয়ার কারাভোগ ও আসন্ন নির্বাচন

আট ফেব্রুয়ারী নিয়ে দেশব্যাপী যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা আর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর এবং অন্যান্যদের জারিমানা ও দশ বছরের রায়ের মধ্য দিয়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটেছে বলে মনে হয়। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ন্যায় এই রায়ও সম্ভবত: ফাস হয়ে যাবার কারণে আগে থেকেই বেগম জিয়াকে জেলে প্রেরণের যাবতীয় উদ্যোগ সমাপ্ত হয়েছিল এবং পরামর্শ মত তিনি ও আদালতের যাবার সময় জেলে যাবার প্রস্তুতি নিয়েই গিয়েছিলেন। নাজিমুদ্দিন রোডের বৃটিশ আমলের যে জেলখানাটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে কাশিমপুর ও কেরানীগঞ্জে দু’টি জেলখানা স্থাপন করা হয়েছে তার কোনটিতে না নিয়ে পুরানো জেলেখানাতেই তাকে নেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তাকে সাধারণ কয়েদীর ন্যায় রাখা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের একজন শীর্ষ নেতা ও একজন মন্ত্রী বলেছেন কয়েদী কয়েদীই, এতে সাধারণ ও অসাধারণ বলে কিছু নেই। আবার জেলখানা আরামের জায়গাও নয়। তিনি হয়ত রাজবন্দীদের মর্যাদার কথা ভুলে গেছেন। আর না ভুললেও বেগম জিয়াকে প্রকৃত অর্থে সরকারী অর্থ আত্মসাৎকারী একজন অপরাধী হিসেবেই গণ্য করে থাকবেন। কিন্তু দেশের মানুষ তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেই মনে করেন। একটি কথা এখানে মনে পড়ে। ২০১১ সালের ২৪ মে মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তৎকালীন উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আপনি শেখ হাসিনারে দেখেননি। বাঘে ধরলে বাঘে ছাড়ে শেখ হাসিনা ধরলে শেখ হাসিনা ছাড়েনা। ছাড়ছে! ছাড়ছে ইউনুস মিয়ারে?” বেগম জিয়ার এই জেল সুরঞ্জিত বাবুর হুশিয়ারীর অংশ কি না বলা মুস্কিল। তবে এখানে অনেকগুলো প্রশ্ন আছে যেগুলোর উত্তর পাওয়ার দরকার।
মামলাটি বিচারাধীন থাকতেই আওয়ামী লীগ নেতা, দলটির নেতৃত্বাধীন জোট সদস্য ও মন্ত্রীরা গত ৫ বছর ধরে কিভাবে বলে আসছেন যে বেগম জিয়াকে জেলে যেতে হবে এবং দুর্নীতির দায়ে? তারা রায় কিভাবে জানলেন? এই মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া এত বছর আস্তে আস্তে চললো, হঠাৎ করে শেষ বছরে এসে এতবেশী ত্বরান্বিত হয়ে গেলে কেন? তাও নির্বাচনের বছর? প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন, এই মামলাটির রায়ের তারিখও এগিয়ে আসলো। মাত্র দশ দিনের মাথায় আট শতাধিক পৃষ্ঠার রায় কোনও ব্যক্তির পক্ষে কি লেখা সম্ভব? এটাতো শুধু লেখা নয় রীতিমত গবেষণা থিসিস লেখা! মামলার আদ্যপান্ত অধ্যয়ন করে ইস্যু ও বিচার্য বিষয় নির্ণয়, মামলার দালিলিক প্রমাণাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও তার সত্যতা ও বাস্তব দিক যাচাই অভিযোগকারী ও আসামী পক্ষের যুক্তিতর্ক, বিচার, নিজস্ব ধী শক্তি দিয়ে আইনের ধারা উপধারার প্রেক্ষাপটে প্রাপ্ত সাক্ষ্য, পারিপার্শ্বিকতা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্তে পৌঁছা এবং এরপরে রায় লিখা সহজ একটি কাজ নয়, সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। দশ দিনে ৮৮৪ পৃষ্ঠার রায় লিখতে গেলে প্রতিদিন প্রায় ৮৮ পৃষ্ঠা লিখতে হয় তাও টাইপ করা। অন্তত: ১৪ থেকে দেড়শ পৃষ্ঠা হাতে লিখলে টাইপ করলে আমাদের মানে ৮৮ পৃষ্ঠা হতে পারে। একদিনের এটা সম্ভবপর নয়। মামলার রায় লেখা ও সংবাদপত্রের রাজনৈতিক নিবন্ধ লেখা এক নয়। রায় আরও কঠিন যেহেতু এর সাথে আইন, সাক্ষ্যপ্রমাণ, ব্যক্তির জীবন মরন, মান মর্যাদা ও ইনসাফ এবং আদালতের নীতিমালা জড়িত আছে। যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা মনে করেন যে, রায়টি অন্যকেউ আগে ভাগে লিখে দিয়েছে এবং তাতে প্রকৃত অর্থে মামলা বিচারে নয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় বেগম জিয়া ও অন্যান্যদের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। মামলার যে মেরিট তাতে বেগম জিয়াসহ অভিযুক্তরা শাস্তি পান না। রায়ের আগে ও পরে ক্ষমতাসীনদের রায় নিয়ে হুমকি-ধামকী এই ষড়যন্ত্রেরই আভাষ দেয়। অবশ্য অতিকথন  ও আদালত নিয়ে বাড়াবাড়ি এই সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের অনেকেরই একটি অভ্যাস এবং এ কারণেই এই উপমহাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার আদালত অবমাননার দায়ে দু’জন মন্ত্রীর ৭ দিনের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই আরো প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন সারাদেশ এবং জাতীয় অর্থনীতির সকল খাতকে দুর্নীতির চাদরে ঢেকে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার কেন বেগম জিয়াকে নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছেন? এেেত সরকারের দুর্নাম হচ্ছে।
পাঠকদের হয়তো মনে আছে যে, ২০১৭ সালের মে মাসে গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি নামক একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পুঁজি পাচারের উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী গত দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা বাংলাদেশের মোট জাতীয় বাজেটের দ্বিগুণ থেকেও বেশি। রিপোর্টে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর গড়ে পাচার হয়েছে ৫৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। জিএফআই এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১২৫৭ কোটি ডলার বা ১ লাখ ৩ হজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে যা আগের বছরের চেয়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই দুই বছরে অন্যূন আরো ২ লাখ টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এ নিয়ে বারো বছরে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবেদনে পাচার প্রক্রিয়ার উপরও আলোকপাত করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে,  চারটি প্রক্রিয়ায় এই অর্থ পাচার হয়েছে। এগুলো হচ্ছে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির মূল্য বেশি দেখানো (Overinvoicing), রফতানি মূল্য কম দেখানো (underinvoicing), হুন্ডি, অন্য মাধ্যমে বৈদেশিক লেনদেন এবং ভিওআইপি ব্যবসা প্রভৃতি। এ রিপোর্ট প্রকাশিত হবার পর যেকোন সভ্য দেশে হুলস্থূল পড়ে যাবার কথা। আমাদের দেশে কিছু হয়নি। দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত শাস্তিমূলক কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। কোনও তদন্তের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে বলে দেশবাসী জানে না। জিয়া অরফানেজ মামলায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ নয়, কথিত অনিয়ম নিয়ে উল্লাস কেন?
সচেতন নাগরিকরা আরো প্রশ্ন তুলেছেন। তারা জানতে চান যে, এক যাত্রায় দুই ফল কেন। সেনা সমর্থিত সাবেক কেয়ারটেকার সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলাটি করা হয়েছিল। তারা বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৪টি মামলা করেছিল। তার মধ্যে একটি ছিল তার পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রীর আমলের করা নাইকো চুক্তি সমর্থন ও বহাল রাখার জন্য। সেই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেয়ারটেকার সরকার কর্তৃক রুজুকৃত ১১টি মামলায় মোট ১৪ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে নাইকো দুর্নীতি ১৩ হাজার ৬৩০.৫ কোটি টাকা, মিগ ২৯ বিমান ক্রয়ে ৭০০ কোটি টাকা, কোরিয়ান ফ্রিগেট ক্রয় ৪৪৭ কোটি টাকা, মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্নীতি ১৭.৮৯ কোটি টাকা, খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্নীতি ৩টি টাকা, টুঙ্গীপাড়া স্মৃতিসৌধ দুর্নীতি ৪১.৮৪ কোটি, আজম জে চৌধুরীর ঘুষের মামলা ৩ কোটি, কাজী তাজুল ইসলামের ঘুষের মামলা ৩ কোটি টাকা, নূর আলীর ঘুষের মামলা ৫ কোটি টাকা, বেজপায় লবিস্ট নিয়োগ ২.১ কোটি টাকা এবং নভোথিয়েটার নির্মাণে দুর্নীতি ৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১৪ হাজার ৮৬২ কোটি টাকার ঘুষ দুর্নীতির মামলা তার বিরুদ্ধে ছিল এবং এর কয়েকটি মামলা প্রায় চূড়ান্ত বিচারের পর্যায়েও পৌঁছে গিয়েছিল।
এছাড়াও আওয়ামী লীগের এমন কোনও শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন না যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলা ছিল না। প্রখ্যাত সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ভাষায় ‘একটি প্রতিবেশী দেশের বস্তা বস্তা টাকা ও পরামর্শে সেনা সমর্থিত কেয়ারটেকার সরকারের অবৈধ কাজগুলোকে বৈধতা দেয়ার শর্তে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পাতানো নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারা পুনরায় ক্ষমতাসীন হন। ক্ষমতায় এসে তারা নিজ দলের সভানেত্রীসহ সকল নেতৃবৃন্দের মামলা ও শাস্তি বাতিল করে দেন। বিরোধী দলের মামলাগুলো রেখে দেন সুযোগ মত তাদের ফাঁসানো ও রাজনৈতিক ফায়দা তুলে নেয়ার উদ্দেশ্যে। বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের মামলা এসব মামলারই একটি অংশ। অনেকে মনে করেন যে আমাদের দেশে অনেকের মধ্যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও লজ্জা-শরমের বালাই নাই বলেই এটা হচ্ছে।
গল্পের এখানেই শেষ নয়। আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এমনকি বেসরকারি ব্যাংকগুলোও অনিয়ম দুর্নীতিতে ভরে গেছে। শেয়ারবাজারের কেলেংকারির কথা কে না জানে? বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অত্যাধুনিক প্রক্রিয়ায় হাজার কোটি টাকার অর্থ চুরি হয়ে গেল। অপরাধীরা শাস্তি পেল না। শাস্তি পাওয়া তো দূরের কথা অপরাধী সাব্যস্ত করার জন্য শোনা গেল তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এ পর্যন্তই, কমিটির রিপোর্ট নাই শাস্তি নাই। চোরেরা সবাই বহাল তবিয়তে আছে। সুপেরিয়র রেসপন্সিবিলিটি নিয়ে যারা বসে আছেন তাদেরও কিছু হচ্ছে না। সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর বিরুদ্ধে ৩৫০০ কোটি টাকা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে ২৫০০ কোটি টাকা, আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ৪০০০ কোটি টাকা, আবুল বারাকাতের বিরুদ্ধে ৫৫০০ কোটি টাকা এবং কাজী জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে ৮০০০ কোটি টাকার দুনীতির অভিযোগ রয়েছে। এরা সকলেই ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা তাদের আশির্বাদপুষ্ট। যদি বিচার করতে হয় সকলের বিচার করুন। শুধু বিরোধী রাজনীতিকদের ফরমায়েসী বিচার কেন?
সোনালী ব্যাংকের রুপসী বাংলা শাখায় হলমার্ক কেলেঙ্কারীর কথা স্মরণ করুন। আজ পর্যন্ত এর বিচার হয়নি। এই কেলেঙ্কারীর ফলো আপ করতে গিয়ে গণমাধ্যমগুলো অগ্রণী, জনতা ও কৃষি ব্যাংকে আরো ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারীর ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে। পত্র-পত্রিকায় এসব রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর সাথে সরকার কর্তৃক দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে গঠিত পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর কি বিচার হয়েছে? হয়নি, সরকারি লোকেরাই খাচ্ছে বলে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নিয়োগ বাণিজ্য, সীট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, রিলিফের অর্থ আত্মসাৎ, মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা, রাস্তাঘাট, পুল কালভার্টের নামে পল্লী পূর্ত-কর্মসূচীর ও অর্থ আত্মসাতে প্রভৃতির কথা নাই বা বললাম।
প্রশ্ন হচ্ছে সরকার ও সরকারী দল এখন এত মরিয়া হয়ে উঠেছেন কেন? নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে প্রধান বিরোধী দলকে মাঠ থেকে উৎখাতের এই অশুভ পদক্ষেপ কেন নিচ্ছেন? এর কারণ সুস্পষ্ট।
অনেকেই হয়ত জানেন যে, ২০১৬ সাল থেকেই সরকারী দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তারা এই প্রস্তুতির খবর এবং পরিকল্পনা পৌঁছিয়ে দিয়েছেন এবং কাজও শুরু করেছেন। গোয়েন্দাদের দ্বারা ইতোমধ্যে তারা মাঠে একটি নির্বাচনী জরিপের কাজও সম্পন্ন করিয়েছেন। জরিপের রিপোর্টে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন হলে দলীয় ভিত্তিক ফলাফলের যে চিত্র দেয়া হয়েছে তা নিম্নরূপ :
১। আওয়ামী লীগ ৫৯
২। বিএনপি ১৫৭
৩। জাতীয় পার্টি ৭
৪। জামায়াত ২৬
৫। ভাসমান ৫১
৬। মোট আসন ৩০০
সম্ভাব্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ফলাফল বিপর্যয়ের যে কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে সে গুলো হচ্ছে :
১। দলীয় ইমেজ সংকট
২। অভ্যন্তরীণ কোন্দল
৩। জঙ্গিবাদ
৪। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নিকট দলকে ইসলাম বিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপন
৫। দলের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপপ্রচার প্রভৃতি
প্রতিবেদন অনুযায়ী জঙ্গিবাদ নির্মূলে সুদৃঢ় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা, দলীয় ইমেজ পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন ও দলীয় ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জামায়াতকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে বিএনপি জোট থেকে বের করা, শক্তিশালী সংস্কারবাদী জামায়াত সৃষ্টি করে ৩০০ আসনে তাদের একক প্রার্থী দেয়া, সংস্কারবাদী বিএনপি সৃষ্টি করে সকল আসনে তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করা, বিকল্প ধারা, বিজেপি ও এলডিপিকে বিএনপির সাথে জোট করতে না দেয়া, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও জাকের পার্টিকে মহাজোটে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিএনপি ও জামায়াতের নিশ্চিত আসনগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সংস্কারবাদী প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারলে ভোটের হিসাব পাল্টে যাবে বলে তারা মনে করেন। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ১৭৯টি বিএনপি ৫২, জাতীয় পার্টি ১৭, জামায়াত ৯ আসন পাবে। ভাসমান থাকবে ৪৩ আসন।
বেগম জিয়া ও তারেককে শাস্তি দিয়ে এবং গ্রেফতার নির্যাতনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তার অনুকূল একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তারা কি তা করতে পারবে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ