ঢাকা, মঙ্গলবার 13 February 2018, ১ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৬ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কলাপাড়ায় পা দিয়ে লিখে দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছে বেল্লাল

এইচ,এম, হুমায়ুন কবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নেছার উদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পা দিয়ে লিখে দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছে বেল্লাল। শারীরিক প্রতিবন্ধী বেল্লাল উমেদপুর দাখিল মাদ্রসার মানবিক বিভাগের মেধাবী ছাত্র। দু’ হাত নেই তবু ও পা দিয়ে লিখে চলছে দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থী বেল্লাল। জানাগেছে, কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের দিনমজুর মো.খলিল আকনের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট মো.বেল্লাল হোসেন। জন্মগতভাবেই তার দু’টি হাত নেই। পা দুটোও স্বাভাবিক নয়। এমনকি বেল্লালের জন্মের পর নানান রকমের কুসংস্কার  ছড়াতে থাকে গ্রামের লোকজন। এসবের কারনে বাবা মা প্রথমদিকে বেল্লালকে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখতো। গ্রামের লোকজনদের তাচ্ছিল্যের কারণে মা হোসনে আরা বেগম ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার শপথ নেন। এর পর ঘরে বসে বেল্লালকে পড়াতে শুরু করেন আর পায়ের আঙ্গুলের মধ্যে চক দিয়ে সিলেটে লেখানোর অভ্যাস করান। এভাবেই বেল্লাল আয়ত্ব করে ফেলে পা দিয়ে লেখার। সে এখন পা দিয়ে সুন্দর করে লিখতে পারে। এর পর ভর্তি করা হয় এক কিলোমিটার দুরের উমেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শুরু হয় বেল্লালের শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার জীবন সংগ্রাম। শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও সে মায়ের সহায়তায় প্রতিদিন এক কিলোমিটার দুরের বিদ্যালয় নিয়মিত উপস্থিত হয়। পা দিয়ে লিখে বেল্লাল ৫ম শ্রেনীতে পিএস সি ও জেডিসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছে। বেল্লাল পা দিয়ে লিখে ও প্রথম শ্রেনি থেকে সে এখন দাখিল পরীক্ষা আরবী ২য় পত্র পর্যন্ত ভাল দিচ্ছে। বেল্লাল বলেন, প্রথমে আমি পড়তে পারলেও লিখতে পারতাম না। বর্তমানে লেখতে  পড়তে কোনো সমস্যা নেই। আমার ইচ্ছা উচ্চ শিক্ষা শেষে এক জন আদর্শ শিক্ষক হওয়া। বেল্লালের মা হোসনে আরা বলেন, ও জন্ম থেকে লুলা (প্রতিবন্ধী) হওয়ায় গ্রামের মানুষেরা অনেক কথা কইথ। তাই পোলাডারে লেহা পড়া শিখাইয়া মানুষ করার চিন্তা করলাম।ওরে পা দিয়া লেহা শিখাইছি। নিত্য ওরে স্কুলে লইয়া যায়। কিন্তু ওর বাপে টাহার লইগ্যা এহন ওরে লেহা পড়া করাইতে চায়না। মো.খলিলুর রহমান আকন বলেন, আমার দু’ মেয়ে এবং দু’ছেলে । তার মধ্যে মেয়ে দুঠা বিয়া দিয়া দিছি আর বড় ছেলেহেডা এ্যাহন বিএম কলেজে লেহা পড়া করে। আমার সংসারের অভাব অনটনের কারনে বেল্লালের জন্মের পর ভালোভাবে চিকিৎসা করতে পারিনি। আমার আর্থিক অবস্থা ভালো নয় ,বেল্লাল প্রতিবন্ধী তাই তার লেখাপড়ার সহায়তার জন্য সবার সাহায্য সহযোগিতা চাই। উমেদপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো.হাবিবুর রহমান (বেল্লালী)  জানান, শিক্ষকরা ওর শিখনে সাধ্যমত চেষ্টা করছে সে ক্লাস করছে তখন। সে অত্যন্ত মেধাবী । রোদ ,ঝড় বৃষ্টি যাই থাকুক না কেন সে নিয়মিত মাদ্রাসা আসতো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ