ঢাকা, বুধবার 14 February 2018, ২ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৭ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মোড়কে নয় শুধু পণ্যের ওপর শুল্ক

স্টাফ রিপোর্টার: ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন, দ্রুত আমদানি পণ্যের শুল্কায়ন ও পণ্য খালাসের জন্য  মোড়কের শুল্কায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন শুধুমাত্র আমদানি পণ্যেরই শুল্কায়ন করতে হবে।
পণ্য শুল্কায়নের ক্ষেত্রে ২০১৭ সালের অক্টোবরে দেওয়া নির্দেশনা স্থগিত করেছে এনবিআর। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, আমদানি পণ্যের পাশাপাশি মোড়কেরও শুল্কায়ন করতে হবে।
 সোমবার এনবিআর সদস্য (শুল্কনীতি ও আইসিটি) মো. ফিরোজ শাহ আলম সই করা এক আদেশে আগের নির্দেশনা স্থগিত করা হয়। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
শুল্ক আইন ও বিধিমালা, ২০০০ অনুযায়ী এতদিন ব্যবসায়ীরা আমদানিকরা মোড়কজাত (প্যাকেজিং) পণ্যের শুধুমাত্র ওজনের (নিট ওয়েট) ওপর শুল্ক প্রদান করে আসছে।
এছাড়া কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের ভ্যালুয়েশন ডাটাবেজ মোড়কের ওপর লেখা পণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে এতদিন কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্যের শুল্কায়ন করে আসছে।
কিন্তু ২০১৭ সালের অক্টোবরে এনবিআর পণ্যের মূল্যের সাথে মোড়কের মূল্য যোগ করে শুল্কায়ন করার নির্দেশনা জারি করে। এ নিয়ে কাস্টমস হাউসে শুল্কায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, আমদানিকৃত যেসব পণ্য (প্যাকেট/বোতল/জার কিংবা অন্যান্য ম্যাটেরিয়াল) বাজারে মোড়কসহ বিক্রি হবে তার গ্রস ওয়েট শুল্কায়ন করতে হবে।
গ্রস ওয়েট বলতে পণ্য ও এর সঙ্গে মোড়কের (বোতল/টিনের কনটেইনার/কাগজের প্যাকেট/ স্টিল/আয়রন/গ্লাস/অ্যালুমিনিয়ামসহ যেকোনো প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল) ওজন বোঝানো হয়।
সূত্র আরও জানায়, ব্যবসায়ীরা এ আদেশের বিরোধীতা করে এ নির্দেশনা প্রত্যাহারে এনবিআরকে চিঠি দেয়। জটিলতা নিরসনে কাস্টমস হাউস ও কমিশনারেট পৃথক চিঠি দেয়।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, বাংলাদেশ এখনও মোড়ক তৈরির ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি। মোড়কের শুল্কায়নের ফলে পণ্যের ব্যয় বাড়বে, দ্রুত পণ্য খালাস হবে না এবং পণ্য মূল্য বৃদ্ধি পাবে।
কাস্টমস হাউস ও কমিশনারেট চিঠিতে উল্লেখ করে, আমদানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিধিমালায় পণ্যের নিট ওয়েট বিবেচনায় নিয়ে শুল্কায়ন করার কথা বলা আছে। এসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের ডাটাবেজও পণ্যের নিট ওয়েট বিবেচনায় নিয়ে শুল্কায়ন করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন করে মোড়কের আলাদা শুল্কায়ন করা হলেও তা এসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে যুক্ত হয় না। ফলে শুল্কায়নে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত শুল্কায়নের জন্য নির্দেশনায় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ আদেশের ফলে কাস্টমস হাউস ও কমিশনারেটে আমদানিকৃত পণ্যের জট লেগে যায়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এ সংক্রান্ত দুইটি প্রতিবেদন এনবিআরে জমা দেয়।
প্রতিবেদনে আদেশটি বাতিল করার অনুরোধ জানানো হয়। এ নিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এনবিআরে বৈঠক হয়। বৈঠকে সম্প্রতি এনবিআরের দেওয়া নির্দেশনা স্থগিত করা হয়।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোড়কসহ পণ্য শুল্কায়ন করা হয়। আমাদের দেশে পণ্যের শুল্কায়ন করা হলেও মোড়কের শুল্কায়ন করা হয়। ফলে দেশে মোড়ক খাতে কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না। সরকার মোড়ক থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নতুন আদেশের ফলে পণ্য জট লাগার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন শুল্কায়ন চর্চা শুরু হয়। এতে আমদানিকারকরা নানামুখী জটিলতায় পড়েন। এনবিআর সব সময় ব্যবসায়ীদের ভালো চায়। এখন হতে পূর্বের আইন ও বিধিমালা অনুসারে শুল্কায়ন সম্পন্ন হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ