ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 February 2018, ৩ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৮ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুমিনুলের বীরত্বগাথা ইতিহাস

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুমিনুল যেন অপ্রতিরোধ্য। ছয় ইনিংসের শেষ তিনটিতে টানা সেঞ্চুরি। চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার পেসারদের বাউন্স কিংবা স্পিনারদের ফাঁদ কিছুই কাজে আসেনি। দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করে ম্যাচ বাঁচানোয় বড় অবদান রাখেন মুমিনুল হক। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের জন্য এবার আলাদা পরিকল্পনা করেছে অতিথিরা। তবে এবার তাদেও পরিকল্পনা কাজে লেগেছে। বড় ব্যবধানে তারা স্বাগতিকদেও হারিয়ে সিরিজ নিজেদেও করে নিয়েছে। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ টেস্টেও আগে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল বলেছেন, মুমিনুলের জন্য তাদের কয়েকটি পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামে সে অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে। সে টেস্টে ক্রিকেটে খুব ভালো, তার টেম্পারামেন্ট খুব ভালো। একই টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সহজ কাজ নয়। এটা সব সময়ই বিশেষ কিছু। ওর জন্য এই ম্যাচে আমাদের কিছু পরিকল্পনা থাকবে। আশা করি, মাঠে বোলাররা তা বাস্তবায়ন করতে পারবে।  চট্টগ্রামে স্পিনের বিপক্ষে মুমিনুলের ফুটওয়ার্ক ছিল নজরকাড়া। ক্রিজ ব্যবহার করেছেন দারুণভাবে। থিতু হতে দেননি স্পিনারদের। প্রথম ইনিংসে মুমিনুল করেন ১৭৬ রান, দ্বিতীয়টিতে ১০৫। দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই টেস্টের আগের ইনিংসে করেছিলেন অপরাজিত ১০০ রান।
 জোড়া সেঞ্চুরির ইতিহাস, ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস। সত্যিই দেখিয়ে দেওয়ার কিছু থাকলে এর চেয়ে ভালো জবাব আর হয় না। তবে মুমিনুল হক সেই আলোচনার পালে হাওয়া যোগাতে রাজি নন। বরং বললেন, বাজে সময়টাই তাকে পরিণত করেছে অনেক। শিখেছেন অনেক কিছু।এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেই দলের বিপক্ষে, যে দলের কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। যিনি বাংলাদেশের কোচ থাকার সময় টেস্ট দলে জায়গা হারিয়েছিলেন মুমিনুল। বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন মুমিনুলের ক্রিকেটীয় সামর্থ্য নিয়ে। হাথুরুসিংহে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পর প্রথম টেস্টে তার দলের বিপক্ষে মুমিনুল করলেন জোড়া সেঞ্চুরি। অনেকেরই বিশ্বাস, প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর মুমিনুলের উদযাপনে ফুটে উঠেছে হাথুরুসিহের প্রতি জবাব। এমনিতে শান্ত ও নিরুদ্বেগ মুমিনুলের উদযাপন ছিল অনেকটা খ্যাপাটে। প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল বলেছিলেন, মুমিনুলের কিছু প্রমাণ করার ছিল এবং সেটা সে দারুণভাবে করেছে।
তবে জবাব দেওয়া বা প্রমাণ করার প্রসঙ্গে যেতে খুব আগ্রহী নন মুমিনুল। বলেছিলেন, কাউকে জবাব দিতে চাননি। “ কোনো ক্রিকেটারের পক্ষে এটা করা সম্ভব নয় যে টার্গেট করে নামব এটা করার পর ওটা করে দেখাব। আমার কাছে মনে হয় এটা ভুল ব্যাপার। কারণ ওভাবে পারা যায় না। আগে থেকেই ভাবতে হবে যে একশ করতে হবে, ওভাবে তো ভাবা যায় না।” হাথুরুসিংহে কোচ থাকার সময় যে সময়টা তার অনুকূলে ছিল না, ক্যারিয়ারে বাজে সময় এসেছে, সেটি অবশ্য অস্বীকার করছেন না মুমিনুল। তবে বললেন, দুঃসময়ই তাকেই শিখিয়েছে এগিয়ে চলার মন্ত্র। “আমার কাছে মনে হয় আমার জীবনের জন্য ওই জিনিসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আপনারা কীভাবে ভাবেন জানি না তবে আমার কাছে মনে হয় এটা আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওরকম হ্ওয়ার কারণে হয়ত আমার মানসিকতার একটা বদল এসেছে, পরিশ্রমটা আরও বাড়ছে, অনেক চিন্তা ভাবনায় বদল এসেছে।”
এমনটা করে দেখানোর নেপথ্যে ছিল একটি মনের ভেতর ফুঁসে ওঠা অভিমান, আক্ষেপ আর কিছু করে দেখিয়ে দেয়ার জিদ! শেষ পর্যন্ত জিতেছেন মুমিনুল হক। চট্টগ্রাম টেস্টে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়ে দলকেও এনে দিয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ অবিস্মরণীয় এক ড্র। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রান করার পথে দেশের পক্ষে একদিনে সর্বাধিক ব্যক্তিগত ১৭৫ রান করা, দ্বিতীয় দ্রুততম বেগে সেঞ্চুরি এবং সবচেয়ে দ্রুত ২ হাজার টেস্ট রান পূর্ণ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রান করে উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরির অনন্য নজির গড়েন দেশের টেস্ট ইতিহাসে। আর এক টেস্টে ২৮১ রান করেন যা দেশের পক্ষে কোন ব্যাটসম্যানের মধ্যে সর্বাধিক। যে ম্যাচ প্রতিপক্ষের দিকে ঝুঁকে ছিল সেই ম্যাচটিকে কিভাবে নিজেদের দিকে আনা যায় তা যেন দেখিয়ে দিলেন মুমিনুল। হারের আশঙ্কা ছিল। ড্র করতে হলে চাই ব্যাটসম্যানের বীরত্বগাথা কোন ইনিংসের। মুমিনুল সেই কাজটিই করে দেখান। অনেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারের অনন্য কীর্তিকে ছুঁয়েছেন এবং পেছনেও ফেলেছেন। অদৃশ্য লড়াইটা ছিল সাবেক কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহের বিরুদ্ধে। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার এই কোচই একবার ‘শর্ট অব লেন্থও বাউন্সার বলে দুর্বল’ এবং আরেকবার ‘অফস্পিন খেলতে পারেন না’- এ দু’টি দোষ দিয়ে টেস্ট থেকেও বাদ দিয়েছিলেন। তিনিই এমন কীর্তি গড়ে চান্দিকাকে উপযুক্ত জবাব দেন। এজন্যই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তাকে স্বীকৃতি দিয়ে দাবি জানালেন, সে মানুষটা ছোট কিন্তু কীর্তিটা অনেক বড়!
এক টেস্টের দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করেছেন। মুমিনুলও বীরত্বগাথা ইতিহাস গড়ে দেখিয়েছেন। বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টেস্টে তামিম (৮ সেঞ্চুরি), আশরাফুলের (৬ সেঞ্চুরি) পর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬টি সেঞ্চুরিও করেছেন মুমিনুল। ম্যাচের নায়কও হয়েছেন মুমিনুল। হাতুরুসিংহে ছিলেন না বলেই যেন স্বাধীনভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন ভারমুক্ত মুমিনুল। নিজের মতো করে খেলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটেও স্ট্রোক খেলার দারুণ ক্ষমতা তিনি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই দেখিয়েছেন। আর এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে দুই রকমভাবে নিজেকে উপস্থাপন করলেন। প্রথম ইনিংসে মাত্র ২১৪ বলেই ১৬ চার ও ১ ছক্কায় ১৭৬ রান করেন। আর দ্বিতীয় ইনিংসে প্রয়োজন ছিল উইকেটে টিকে থাকা এবং কম স্ট্রোক খেলে সময় কাটিয়ে দেয়া। ১৭৪ বলের ১০৫ রানের ইনিংসে ছিল মাত্র ৫ চার, ২ ছক্কা! সময়োচিত তার এ দুটি যেমন প্রয়োজন তেমন ইনিংসে ম্যাচ বাঁচাতে পেরেছে মুমিনুল। তিনি যেন এককভাবেই চান্দিকার সব পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিলেন! প্রতিশোধটা বেশ ভালভাবেই নিলেন। টেস্টের প্রথম দিনশেষে অপ্রতিরোধ্য মুমিনুল অপরাজিত থাকেন ২০৩ বলে ১৬ চার ও ১ ছক্কায় ১৭৫ রানে। টেস্টের একদিনে কোন বাংলাদেশীর সেটাই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম বেগে (৯৬ বলে)। হাতুরাসিংহের বঞ্চনার মোক্ষম জবাব দিয়েছেন, ভুল প্রমাণিত হয়েছে তার বিশ্লেষণ- হেরে গেছেন তিনি মুমিনুলের কাছে।
মুমিনুলকে বরাবরই টেস্ট স্পেশালিস্ট হিসেবেই দলে রাখা হয়। সবসময় সেটির প্রমাণও দিয়েছেন। কিন্তু ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে মুমিনুলের দোষ হিসেবে ‘বাউন্সার এবং শর্ট অব লেন্থের বল’ খেলতে পারেন না বলে চিহ্নিত করেছিলেন তখনকার কোচ চান্দিকা। সেবার দুই টেস্টে এ ধরনের ডেলিভারিতে আউট হননি মুমিনুল। গত বছর কলম্বোয় দেশের শততম টেস্টে এবং ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাদ রাখা হয় তাকে। কারণ হাতুরাসিংহে এবার দোষ চিহ্নিত করেন ‘অফস্পিন খেলতে পারেন না’ মুমিনুল! সেই অফস্পিন কিংবা বাউন্সার- কোনকিছু দিয়েই ‘পকেট রকেট’ মুমিনুলের ব্যাটের আগুন নেভাতে পারেননি হাতুরাসিংহে তার শিষ্যদের ব্যবহার করে। পারবেন কি করে? হাতুরাসিংহের বিশ্লেষণটাই ছিল মস্ত গ-গোলে ভরা। সেটার প্রমাণ সাগরিকায় দিয়েছেন ঝড়ো ইনিংস খেলে। এই মুমিনুল টানা ১১ ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকানোর রেকর্ড গড়া ব্যাটসম্যান। মুমিনুলের ব্যাটিং গড় টেস্টে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশের পক্ষে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই রানের মধ্যে ছিলেন। তাই দ্রুততম ২০০০ রানের মাইলফলক ছোঁয়ার রেকর্ডটাও ২৬ বছর বয়সী এ বাঁহাতিরই হবে তা বোঝা যাচ্ছিল। সেটা হলোও! বাংলাদেশের পক্ষে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ২ হাজার রান পূর্ণ করেন। যা দেশের পক্ষে দ্রুততম। মুমিনুল ২৬ টেস্টে ৪৭তম ইনিংস খেলে এই গৌরব অর্জন করেন। বাংলাদেশের পক্ষে এর আগে ২ হাজার রান পূর্ণ করতে তামিম ইকবাল ২৮ ম্যাচে ৫৩ ইনিংস, হাবিবুল বাশার সুমন ৩০ ম্যাচে ৫৮ ইনিংস, সাকিব আল হাসান ৩১ ম্যাচে ৫৮ ইনিংস, মুশফিকুর রহিম ৩৪ ম্যাচে ৬৭ ইনিংস এবং মোহাম্মদ আশরাফুল ৪৭ ম্যাচে ৮৬ ইনিংস খেলেছেন। মুমিনুল স্পর্শ করেছেন ৪৭ ইনিংসে ২ হাজার রান পূর্ণ করা ডিন জোন্স, সনাথ জয়াসুরিয়া, অ্যান্ড্রু স্ট্রসদের। বিশ্ব রেকর্ডটা স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের দখলে। ১৯২৮ সালে ১৫ ম্যাচে ২২ ইনংস খেলেই ২ হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন। ইনিংস হিসেব করলে মুমিনুলের ওপরে টেস্ট ইতিহাসে এক্ষেত্রে অনেকেই আছেন। তবে তার চেয়ে পিছিয়ে আছেন ৪৮ ইনিংস খেলা এ্যালান বোর্ডার, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, সাঈদ আনোয়ার, ইউসুফ ইয়োহানা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, অ্যালিস্টার কুকরা। পিছিয়ে হানিফ মোহাম্মদ (৪৯), মহসিন খান (৪৯), ৫০ ম্যাচ খেলা জহির আব্বাস, নভজ্যোত সিধু, রিকি পন্টিং ও মাইকেল ক্লার্কের মতো ব্যাটসম্যানরা।নবেম্বর, ২০১৪-এ মাঠেই জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন, অপরাজিত ছিলেন ১৩১ রানে। এরপর মাঝে ২৩ ইনিংস গেছে, মাত্র ৫টি হাফসেঞ্চুরি এসেছিল।
যেন হাতুরুসিংহে ‘জুজু’ সাঁড়াশির মতো চেপে বসেছিল মনের ওপর জগদ্দল পাথর হয়ে। নিজের জন্য সবচেয়ে পয়মন্ত মাঠেই আবার নিজেকে উজ্জ্বলভাবে মেলে ধরলেন। ক্যারিয়ারের ৬ সেঞ্চুরি করেছেন এদিন যার ৫টিই এসেছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে! টেস্ট ক্রিকেটে বরাবরই দ্রুতবেগে ব্যাট চালিয়ে অভ্যস্ত মুমিনুল। অধিকাংশ বড় ইনিংসগুলো তিনি বেশ অনায়াসেই গড়েছেন। বুধবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ছিল অন্যরকম এক চ্যালেঞ্জ, বলা যেতে পারে মনের ভেতরে জিদ! মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ছিল সাবেক কোচ হাতুরুসিংহের বিরুদ্ধে। এ কারণেই হয়তো প্রথম ইনিংসে শুরু থেকেই যুদ্ধংদেহী রূপ মুমিনুলের। ৫৯ বলেই করেন ৫০, এরপর বাকি ফিফটি তুলতে খেলেন মাত্র ৩৭ বল! লঙ্কান বোলারদের তুলোধুনো করছিলেন আর প্রতিটি শট যেন চান্দিকার পায়ের নিচে ভূ-কম্পন সৃষ্টি করছিল। একেকটি চপেটাঘাত রূপেই আঘাত করেছে তাঁকে। কারণ একেতো তার শিষ্য বোলাররা মার খাচ্ছেন, তার ওপর তিনি কোচ এবং এই মুমিনুলকে এক সময় বঞ্চিত করেছিলেন। মুমিনুল সেঞ্চুরিতে পৌঁছেন পরপর দুই বলে চার মেরে। ৯৬ বলে ১০০! টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি! তিন অঙ্কের এ ম্যাজিক ফিগারে পা রাখার পরপরই মুমিনুল এমন উদযাপনে মেতে ওঠেন, যেমনটা তার চিরাচরিত রূপ নয়! প্রথমে নিজেদের ড্রেসিংরুমের দিকে এগিয়ে যান। পরে শ্রীলঙ্কান ড্রেসিংরুমের দিকে দেখিয়ে দোলাতে থাকেন ব্যাট! ক্রমাগত ব্যাট নাড়িয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সেখানে লঙ্কান কোচ হাতুরাসিংহে ছিলেন। তাকেই যেন দেখালেন শতকের উদযাপনটা। চান্দিকা প্রতিপক্ষের কোচ মুমিনুল দেখালেন তার ব্যাটের ক্ষমতা! হাতুরাসিংহেকে মুমিনুল দেখিয়ে দিয়েছেন কোন কিছুই তার সমস্যার মধ্যে পড়ে না। শুধু একটু সাহস দরকার। আত্মবিশ্বাসী করে তোলা দরকার। আর যে বিষয়গুলো নিয়ে সমস্যার কথা বলা হয়েছে সেই সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করা দরকার। যার সবকিছুই হাতুরাসিংহে না থাকাতে এখন মিলেছে। লিটনকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ১৮০ রানের জুটি গড়েছেন। চতুর্থ উইকেটে দেশের পক্ষে এ রেকর্ড জুটিই বাংলাদেশকে ড্রর পথে নিয়ে গেছে। মুমিনুল একাই দুই ইনিংসে মিলিয়ে করেন ২৮১ রান। এক টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে যা সর্বোচ্চ রান।
এক টেস্টে মুমিনুল যা করে দেখালেন তা গৌরবময় নৈপুণ্য। এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি তো আর বলে কয়ে হওয়ার নয়। গ্রেট ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কলিন কাউড্রে, জহির আব্বাস, শচিন টেন্ডুলকর, সৌরভ গাঙ্গুলীদের মতো ব্যাটসম্যানরাও যেখানে এমন কৃতিত্ব গড়তে পারেননি। মানুষটা আকৃতিতে ছোট হলে কি হবে, শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামনে যেন হিমালয় পর্বতের মতো হয়ে গিয়েছিলেন। তাকে সরাতে ৮৮২ মিনিট (৩৩০ মিনিট+২৫২ মিনিট) ব্যয় করতে হয়েছে তাদের। প্রথমবার ২১৪ বল অর্থাৎ ৩৫ ওভার ৪ বল আর দ্বিতীয়বার ১৭৪ বল (২৯ ওভার)।
একাই ৬৪ ওভার ৪ বল খেলে ২৮১ রান করেছেন মুমিনুল। এ কারণেই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তাকে নিয়ে বলেছেন, ‘সে মানুষটা ছোট, কিন্তু তার কীর্তি অনেক বড়। ওর হৃদয়টাও বিশাল। সে বাংলাদেশের হয়ে ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলছে।’ এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরিয়ান ব্রাডম্যান, চ্যাপেল, বোর্ডার, গাভাস্কার, দ্রাবিড়, অরবিন্দ ডি. সিলভা, কম্পটন, গুচ, গ্রীনিজ, হ্যাডলি, লারা, হানিফ মোহাম্মদ, মিয়াঁদাদ, পন্টিং, সাঙ্গাকারা, সাটক্লিফ, লরেন্স রো, সোবার্স, ওয়ালকট, এভারটন উইকস, কানহাই, হেইডেন, হ্যামন্ড, জ্যাক ক্যালিস, আর্থার মরিস, বিরাট কোহলি এবং হাশিম আমলা; এই নামগুলোর তালিকায় মুমিনুল হকের নামও জড়িয়ে পড়ল। চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়েই পেছনে ফেলেছেন দুঃসময়। এ চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়েই শুরু করেছেন নবযাত্রা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ