ঢাকা, শুক্রবার 16 February 2018, ৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৯ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভেঞ্চার ক্যাপিটালের অর্থায়ন যেন সন্ত্রাসবাদে না হয় স্টাফ

স্টাফ রিপোর্টার: ভেঞ্চার ক্যাপিটালের(বিকল্প অর্থায়ন) মাধ্যমে যেন সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন না হয় সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান। বাংলাদেশে এসএমই এবং পরিবেশ বান্ধব ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রসারে ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফাইন্যান্সিং ইন বাংলাদেশ: এন এক্সপ্লোরেশন’-শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক ( প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিএসইসি এর কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা, বিডি ভেঞ্চার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এহসানুল হক, মসলিন ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন, বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি প্রমুখ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন, লেনদেন ও মোবাইল ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে বিকাশ একটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু দিন দিন এ লেনদেন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। জনপ্রিয় এ মাধ্যমের অপব্যবহার হচ্ছে। অর্থপাচার, মানিলন্ডারিং এর মতো ঘটনা ঘটছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নন ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে উদ্যোগ তৈরি, অর্থায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন যাতে না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রাখার আহ্বান জানান রাজী হাসান। ডেপুটি গবর্নর বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ক্ষেত্রে বেশকিছু বাঁধা রয়েছে। এসব বাঁধা একসঙ্গে দূর করা সম্ভব নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এসব বাঁধা কমিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। তিনি বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তহবিলের সঙ্গে জড়িতদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনেক দেশে ভিসিএফ (ভেঞ্চার ক্যাপিটাল) সংস্থাগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আর্থিক অথরিটির কাছে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না। অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়না বলে তিনি উল্লেখ করেন। বক্তারা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রসারে সমন্বিত নীতিমালা জরুরি উল্লেখ করে এই ডেপুটি গবর্নর বলেন, কয়েক বছর ধরেই নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের বিষয়টি বাংলাদেশে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে একটি আইনও সরকার অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু, সমন্বয়হীনতার কারণে নতুন উদ্যোগের বিকল্প অর্থায়নের এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রসারে সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন। যা আগামী দিনে মধ্য আয়ের বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, এসএমই এবং পরিবেশ বান্ধব ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রসারে ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, নতুন উদ্যোগতাদের সহজামানত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু আইটি এবং পর্যটন খাতে এসব উদ্যোগতাদের আর্থিক সহায়তা দিতে হবে যাতে তাদের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হয়। এতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মার্কেটের উন্নয়নে অনভিজ্ঞদের অভিজ্ঞ করে তুলতে হবে। তা নাহলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হবে না। এ খাতের উচ্চ ঝুঁকির বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এসডিজি অর্জনে ভূমিকা রাখবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল। ইয়াছিন আলী বলেন, নতুন আইডিয়াই হচ্ছে একটা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল। ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ফান্ডে সহযোগী হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ভূমিকা পালন করতে হবে। সিকিউরিটি একচেঞ্জ কমিশনকে এক্ষেত্রে সক্রিয় হতে হবে। বিডি ভেঞ্চারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, যেকোনো উদ্যোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকবে। পোর্টফোলিও দেখে সেটা নির্দিষ্ট করতে হবে। ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ঝুঁকিগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসম্মত অডিট রিপোর্ট না পাওয়াসহ অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড দুটোই আলাদা বিষয়। এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখা উচিত। ভেঞ্চার ক্যাপিটালের স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার নীতিমালা প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ