ঢাকা, শনিবার 17 February 2018, ৫ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩০ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের সার্টিফাইড কপি নিয়ে সরকার ‘ধূম্রজাল’ সৃষ্টি করছে

গতকাল শুক্রবার গুলশান বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ -সংগ্রাম

# রায়ের দিনই সত্যায়িত কপি দেয়ার বিধান থাকলেও সেটি মানা হয়নি -জয়নাল আবেদীন
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের সার্টিফাইড কপি নিয়ে সরকার ‘ধূম্রজাল’ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশান চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে ঢাকা বারের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নবীন আইনজীবীদের সঙ্গে জাতীয় স্থায়ী কমিটির  বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রীর মামলার রায়ের কপি নিয়ে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ধূম্রজাল সৃষ্টি করছে। বেআইনিভাবে তাকে সার্টিফাইড কপি দেয়া হচ্ছে না। এটা সম্পূর্ণভাবে আইনের লঙ্ঘন। যে বিধান রয়েছে সেখানে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে সার্টিফাইড কপি দেবার কথা। সেটা এখন পর্যন্ত তাকে দেয়া হয়নি, ৮ দিন হয়ে গেছে। এ থেকে বুঝা যায় সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আইনকে হাতে নিয়ে বেআইনি কাজ করছে এবং দেশনেত্রীর যে মুক্তি তাকে বিলম্বিত করবার চেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
‘আইন যাতে তার গতিতে চলে’ তার দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, সরকারের এই যে প্রচেষ্টা দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে, নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। জনগণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর জবাব দেবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা রায়ের দিনই( ৮ ফেব্রুয়ারি) আদালতের কাছে একটি সত্যায়িত কপি চেয়েছিলাম। এটা দেবার বিধান আছে। আমাদের হাইকোর্ট রুলসে বিধান আছে, একটি সত্যায়িত কপি দ্বারা যেকোনো আপীল ফাইল করা যায়। কিন্তু তারা আজ পর্যন্ত সত্যায়িত কপিটিও সরবারহ করে নাই। আমাদের ক্রিমিনাল রুলস অনুযায়ী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে আদালত অবশ্যই সার্টিফাইড কপি সরবারহ করবেন।
তিনি বলেন, আদালত প্রতিদিনই বলছেন যে, আগামীকালকে পেয়ে যাবেন, আমরা এক্সজামিন করছি। এখানে এক্সজামিন করার কোনো বিষয় নেই। রায় দেবার পরে এটা পরিবর্তন করার বা অন্যকোনোভাবে এক্সজামিন করার বা সংশোধন করার বা কোনো ল্যাগুয়েজ পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।
বিকেল ৫ টায় গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এই  বৈঠকে কারা অন্তরীন খালেদা জিয়ার মামলা, তার মুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং আসন্ন ঢাকা বারের নির্বাচন প্রভৃতি আলোচনা হয়। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও পরবর্তি করণীয় কী হওয়া উচিত তা নিয়ে নবীন আইনজীবীরা পরামর্শমূলক বক্তব্য শুনেন নেতৃবৃন্দ।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুবু হোসেন, মীর নাসির, নিতাই রায় চৌধুরী,  সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট ফাহিমা মুন্নী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ