ঢাকা, শনিবার 17 February 2018, ৫ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩০ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেগম জিয়ার ক্ষেত্রে রুলস্ মানা হচ্ছে না

স্টাফ রিপোর্টার : দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তিনদিনের কর্মসূচি শুরুর প্রাক্কালেই আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন,আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির উদ্যোগে আমরা ঢাকায় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ হবে। আমরা ঢাকায় সোহরাওয়ার্দি উদ্যান অথবা নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যেকোনো একটি জায়গায় অনুমতি চাই। এ ব্যাপারে অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করা হয়েছে বলে জানান রিজভী।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তিনদিনের যে টানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তার প্রথমটি হবে আজ শনিবার সারাদেশে গণস্বাক্ষর অভিযান দিয়ে। কেন্দ্রীয়ভাবে সকাল ১১টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ। তিনদিনের কর্মসূচির মধ্যে আছে ১৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারকলিপি পেশ ও ২০ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর ব্যতিরেখে সকল জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হওয়ার বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে নিয়ে ‘নির্মম নির্যাতন’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে রিজভী অবিলম্বে তার রিমান্ড প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান রিজভী। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে সর্বমোট ৪ হাজার ৬৫০ জনের অধিক নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে অভিযোগ করে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবিও জানান রিজভী।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হবিগঞ্জে পৌর মাছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কামনায় শুক্রবার সকালে কোরানখানির অনুষ্ঠান পুলিশ অতর্কিতে হামলা করে মঞ্চ ও মাইক ভেঙ্গে দিয়েছে।  শুধু তাই নয়, বগুড়ায় মহাস্থান গড় মসজিদে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মসজিদের ইমাম সাহেব মোনাজাত করলে জেলার ডিসির নির্দেশে ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিসি হুমকি দিয়ে বলেন, মসজিদে বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের নামে কোনো দোয়া কারা যাবে না। এই সরকার ও তার প্রশাসন আজ মানুষের ব্যক্তিগত ধর্মীয় কাজেও বাঁধা দিচ্ছে নির্দয়ভাবে, এরা আল্লাহর কাছে মোনাজাত পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। আমরা এই জুলুমের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
রিজভী বলেন, মিথ্যা, সাজানো ও ঘষামাজা করে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে নির্জন পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দী করার পর রায়ের সার্টিফাইড কপি পেতে ৮ দিন পার হলেও এখনও পর্যন্ত রায়ের কপি দেয়নি আদালত। রুলস্ এ রায়ের ৫দিনের মধ্যে বিবাদী পক্ষকে রায়ের কপি সরবরাহের বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে রুলস্ মানা হচ্ছে না, এটা বিচার বিভাগের ওপর সরকারের আগ্রাসী হস্তক্ষেপ প্রমান করে। সরকারের নিষেধের কারনেই রায়ের কপি পাওয়া যাচ্ছে না। এতেই প্রমানিত হয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন শেখ হাসিনা এবং হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ।
রিজভী বলেন, দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইন বিশ্লেষক ও স্বাধীন বিবেকের বু্িদ্ধজীবীবৃন্দ বিস্মিত হয়েছেন রায়ের কপি না দেয়াতে। তাহলে নিশ্চয়ই রায় সংশোধন করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই তাহলে আওয়ামী লীগের নির্দেশ মতো মনগড়াভাবে রায় সংশোধন করা হচ্ছে, এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। বিচারক ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় ১০ দিনে লিখে শেষ করতে পারেননি, এতে এটাই প্রমানিত হয়, পুরো রায় না লিখে তড়িঘড়ি সাজার অংশটুকু লিখে বিচারক রায় দিয়ে দিয়েছেন। জাল জালিয়াতি ও ঘষামাজা করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরীর মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দিয়ে যে প্রহসনের রায় দেয়া হয়েছে গোটা জাতি তা ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই মামলার কোন অংশেই বেগম খালেদা জিয়া জড়িত নন। অথচ আওয়ামী লীগ প্রধানের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে সাজানো মামলায় বন্য বিচারে প্রহসনের রায় দিয়ে তাকে  কারাবন্দী করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিত্যক্ত ও নির্জন একটি ভবনে বন্দী রেখে মানসিকভাবে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এখন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বাধাগ্রস্ত করতে রায়ের সার্টিফাইড কপি দেয়া হচ্ছে না। আইন সচিব কপি ধরে রেখেছেন কী সরকার প্রধানের শেষ নির্দেশ পাওয়ার জন্য ? আমি দৃঢ়কন্ঠে বলতে চাই-জেলে বন্দী রেখে জুলুম নির্যাতন চালিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোবল কোনভাবেই দুর্বল করতে পারবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আপোষহীন ভুমিকা রেখে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটিয়ে ছিলেন। বিগত ১/১১ সরকার বেগম খালেদা জিয়ার অনড় সাহসী ভূমিকার জন্য ‘মাইনাস টু’ ফর্মূলা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের প্রধানতো দেশ ছেড়ে চলেই গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন মনোভাবের কারণেই আজকের প্রধানমন্ত্রী সেদিন দেশে ফিরে আসতে পেরেছিলেন। এখন তাদের আন্দোলনের ফসল মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের অসমাপ্ত কাজ খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে উঠেপড়ে লেগেছে। আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই-বন্দী খালেদা জিয়া আরও অনেক বেশী শক্তিশালী। বিএনপি নেতা-কর্মীরা আগেও ঐক্যবদ্ধ ছিল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারাদেশের বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এখন আরও বেশী ঐক্যবদ্ধ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করতে সকলেই দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ