ঢাকা, শনিবার 17 February 2018, ৫ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩০ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে অভিবাসন বিল আটকে যাওয়ায় অনিশ্চয়তায় ১৮ লাখ অভিবাসী

১৬ ফেব্রুয়ারি, রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রে ‘ড্রিমার’ অভিবাসীদের সুরক্ষা প্রদানসহ অভিবাসন প্রশ্নে উত্থাপিত চারটি বিলের একটিও অনুমোদন করেনি মার্কিন সিনেট। এর মধ্য দিয়ে শৈশবে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ১৮ লাখ অভিবাসীর ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার চারটি ভিন্ন বিল পাসে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছে সিনেট।

শৈশবে বাবা-মায়ের সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো অভিবাসীদের কাজের অনুমতি দিতে ‘ড্রিমার’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন। এর আওতায় কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত ছিল হোয়াইট হাউস। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত তরুণ অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সুরক্ষা দিতে চেয়েছিল ওবামা প্রশাসন। এ কর্মসূচির দাফতরিক নাম ‘ডেফারড অ্যাকশন ফর চিলড্রেন অ্যারাইভাল’ (ডিএসিএ)। এ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পান প্রায় ৭ লাখ তরুণ। এই তরুণদের বলা হয় ‘ড্রিমার’। তবে গত সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি সমাপ্তির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্য দিয়ে মার্চ থেকে বিতাড়িত হওয়ার হুমকিতে পড়েন ড্রিমাররা। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ঘোষিত ‘ডিএসিএ কর্মসূচি’ পরিচালনায় বরাদ্দ অর্থ নিয়ে বিভক্ত ছিল মার্কিন সিনেট। সম্প্রতি ওই কর্মসূচির আওতায় থাকা সাত লাখ তরুণ অভিবাসীর ব্যাপারে স্থায়ী সমাধানকে সমঝোতার শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছিল ডেমোক্রাটরা। এ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রাটদের মধ্যে মতানৈক্যের জেরে ৩ দিন শাটডাউনে থাকে মার্কিন সরকার। তবে রিপাবলিকান নেতা ম্যাককনেলের দেওয়া ভবিষ্যৎ বিতর্কের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে সরকার সচলে ডেমোক্রাট সিনেটররা অস্থায়ী বাজেট পাসে সম্মত হয়। ওই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ড্রিমারদের ভাগ্য নির্ধারণে সিনেটে সোমবার থেকে বিতর্ক শুরু হয়। তবে বৃহস্পতিবার অভিবাসন প্রশ্নে উত্থাপিত চারটি বিলের একটিও পাস হয়নি।

চারটি বিলের মধ্যে একটি ট্রাম্প সমর্থিত; আর বাকি তিনটি দ্বিদলীয় বিল। গভীরভাবে বিভাজিত সিনেটে এ বিলগুলো পাস হবে বলে আশা করা হয়েছিল। ট্রাম্প যে রিপাবলিকান বিলটিতে সমর্থন দিয়েছিলেন তা ছিল মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ড্রিমার অভিবাসীদের নাগরিকত্ব প্রদান। অন্যদের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজ দলের ১৪ সিনেটরও বিলটির বিরোধিতা করে। ৬০-৩৯ ভোটে বিলটি হেরে যায়। দ্বিদলীয় বিলগুলোও প্রয়োজনমাফিক সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়। সিনেটে ভোটাভুটির কয়েক ঘণ্টা আগে দ্বিদলীয় বিলগুলোকে ‘সম্পূর্ণ বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

ডেমোক্রাটদের অভিযোগ, ট্রাম্পের অসমঝোতামূলক আচরণ কংগ্রেসে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে ডুবিয়ে দিচ্ছে। সিনেট ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার বলেন, ‘এ ভোটই প্রমাণ দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা কখনও আইনে পরিণত হবে না। তিনি যদি দ্বিদলীয় প্রচেষ্টাকে ভ-ুল করার চেষ্টা না করতেন তাহলে একটি ভালো বিল পাস করা যেতো।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বিল পাস না হওয়ার জন্য ডেমোক্রাটদের দায়ী করে বলা হয়, ‘তারা অভিবাসন সংস্কারকে গুরুত্ব সহকারে নেয়নি। তারা দেশের নিরাপত্তার ব্যাপারেও উদগ্রীব নয়।’

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারের সময় থেকেই অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর তোলার কথা বলে আসছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ডেমোক্রাটরা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার বিরোধী। এ ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতাদের দীর্ঘদিন ধরে টানাপড়েন চলছে। ২০১৫ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী ১ কোটি ১০ লাখ। সম্প্রতি ট্রাম্প ঘোষিত অভিবাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে মার্কিন নাগরিকত্বদানে ১০ থেকে ১২ বছরের একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ওই অভিবাসীদের মধ্যে রয়েছে প্রায় সাত লাখ ‘ড্রিমার’, যারা ছোটবেলায় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করেছিল। তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের ডেফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) কর্মসূচির অধীনে প্রত্যাবাসন থেকে রেহাই পেয়ে আসছে। বাকি ১১ লাখ হচ্ছে ‘ডাকা’র জন্য আবেদন করেনি, কিন্তু এর আওতাভুক্ত হওয়ার যোগ্য এমন অভিবাসী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ