ঢাকা, শনিবার 17 February 2018, ৫ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩০ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উপকূলীয় খুলনায় সমস্যা জর্জরিত কৃষিখাত

খুলনা অফিস : খুলনা দেশের উপকূলীয় একটি জেলা। এ জেলার অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। যাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায় হচ্ছে কৃষি। আর কৃষি উৎপাদন ভালো হলে জাতীয় অর্থনীতি হয়ে ওঠে সবল ও সমৃদ্ধ। অথচ এই কৃষকরা সর্বদা অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার।

জানা যায়, কৃষকরা সারা বছর রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ফসল উৎপাদন করে। খুলনা উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় এখানে ঝড় বৃষ্টি বন্যার আশঙ্কা থাকে সব সময়। এখানে সামান্য বৃষ্টিতে কিংবা বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যা কাটিয়ে উঠতে পারে না গরিব কৃষকরা। তাদের জন্য নেই কোন শস্যবীমা ও পল্লী রেশনিং। যা তাদেরকে সাময়িক ক্ষতিপূরণে সহযোগিতা করবে। কৃষকদের ফসল ফলাতে অধিক দামে কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে হয়। যা কৃষকদের সাধ্যের বাইরে। এছাড়া তারা পদে পদে হয়রানির শিকার হয় ভূমি অফিস ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে। কৃষকদের অধিকাংশ ক্ষেত অজ পাড়াগাঁয়ে হওয়ায় বিদ্যুতের সংযোগ নেই। যার ফলে সেচ প্রকল্পসহ নানা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকসমাজ। এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।

বটিয়াঘাটার কৃষক আহাদ আলী বলেন, আমাদের কৃষি জমি নদীর তীরে হওয়ায় সামান্য পানির চাপ দিলেই ফসল মাটির সাথে মিশে যায়।

অগ্নিকন্যা ও বর্তমান কৃষকনেতা লাকি আক্তার বলেন, কৃষি প্রধান দেশ হলেও সরকারের ভুল নীতির কারণে কৃষক ও কৃষি আজ বিপন্ন। আজও দেশে কার্যকর ভূমি সংস্কার হয়নি। তিনি বলেন, ভূমি ব্যবহার নীতিমালা নেই। ফলে কৃষি জমিতে অবাধে অপরিকল্পিতভাবে কলকারখানা ও আবাসন গড়ে উঠছে। কৃষক জমি হারিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পাড়ি জমাচ্ছে দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে। কৃষি জমি চলে যাচ্ছে লুটেরা ধনিকদের হাতে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় কৃষি জমি নিঃশেষ হয়ে যাবে, ভেঙে পড়বে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা।

উল্লেখ্য, কৃষক ২১ দফা দাবিতে নগরীর হাদিস পার্কে সম্মেলন করছে কৃষক সমিতি। কৃষক সমিতির উল্লেখযোগ্য দাবির মধ্যে রয়েছে, ভূমি ব্যবহার নীতিমালা ও কার্যকর ভূমি সংস্কার, বিএডিসিকে সচল ও বিএডিসির মাধ্যমে সস্তায় কৃষি উপকরণ ও ভাড়ায় কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ধান, গম, পাট, ভুট্টা, সবজিসহ ফসলের লাভজনক দাম প্রদান, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু করে খোদ কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়, আলু ও সবজি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা, ভূমি অফিস ও পল্লী বিদ্যুতের অনিয়ম-হয়রানি দুর্নীতি বন্ধ করা, শস্যবীমা ও পল্লী রেশনিং চালু করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ