ঢাকা, শনিবার 17 February 2018, ৫ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩০ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চৌদ্দগ্রামে ৪২ কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: চাকরি রাজস্বকরণের দাবিতে ঢাকায় আমরণ কর্মসূচি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপিরা)। ফলে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ দিন বন্ধ রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। এতে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে তৃণমূলের মানুষ। বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত রোগে চিকিৎসা না পাওয়ায় শিশু ও বয়স্ক মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বাড়ির পাশের ক্লিনিকে সেবা না পেয়ে তারা যাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নানা বেসরকারি ক্লিনিকে। ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকায় চৌদ্দগ্রামের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতের নাগালে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সরকার সারাদেশের ন্যায় চৌদ্দগ্রামেও ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করে। এরপর মানুষকে পর্যাপ্ত সেবা দিতে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসক নিয়োগ ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। শুরু থেকেই ক্লিনিকে কর্মরত হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা মানুষকে পর্যাপ্ত সেবা দিয়ে আসলে তাদের চাকরি রাজস্বকরণ হয়নি। প্রকল্পের অধীনে বেতন পরিশোধ করা হলেও এভাবে তাদের ভবিষ্যত ভালো দেখছে না প্রোভাইডাররা। ফলে চাকরি রাজস্বকরণের দাবিতে গত ২০, ২১ ও ২২ জানুয়ারি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ রেখে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর সামনে অবস্থান নেয় সিএইচসিপিরা। ২৩ ও ২৪ তারিখেও একই কর্মসূচি পালন করা হয়। ২৭-৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চৌদ্দগ্রাম সিএইচসিপিরা ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রাজস্বকরণের কোন ঘোষণা না আসায় পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এরই মাঝে আলোচিত একটি রায়কে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটি দুই দিন কর্মসূচি স্থগিত করে আবার প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ কর্মসূচি ঘোষণা করে। বর্তমানে ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে সরে মহাখালীর বিএমআরসি ভবনের কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ কর্মসূচি চলছে। ওই কর্মসূচিতে ধাপে ধাপে যোগ দিচ্ছেন চৌদ্দগ্রামের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা গ্রামের শত শত রোগী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ