ঢাকা, শনিবার 17 February 2018, ৫ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩০ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঝালকাঠিতে ইংলিশ মিডিয়াম প্রি-ক্যাডেট কিন্ডারগার্টেন ও নূরানী মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণহীন

মোঃ আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি: নেই কোনো অনুমতির বালাই। নেই সরকারি নিয়ন্ত্রণ। জেলাজুড়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গজিয়ে উঠছে হাজার হাজার কিন্ডারগার্টেন। কিন্ডারগার্টেন, প্রি-ক্যাডেট, ইংলিশ মিডিয়াম, রেড আর্মি স্কুল ও নুরানী মাদ্রাসাসহ নানা চটকদার নামে জেলা শহরসহ প্রত্যন্ত এলাকায়ও প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে এসব স্কুল।
মানহীন শিক্ষকরা সেখানে পাঠদান করাচ্ছেন। অন্য কোথাও কোনো চাকরি না পেয়ে কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতায় ঢুকে পড়েছেন শিক্ষিত বেকার যুবকরা। আবার সংসার সামলানোর পাশাপাশি 'বাড়তি আয়' করার জন্যও এসব স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন অনেক গৃহিণী। পড়ানো হচ্ছে অননুমোদিত মানহীন পাঠ্যবই। টিউশন ফি নির্ধারিত হচ্ছে স্কুল মালিকের ইচ্ছামাফিক। পাড়া-মহল্লায় অতি স্বল্প পরিসরে গড়ে ওঠা এসব স্কুল অনেক ক্ষেত্রেই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্তরায়।
ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জেলার কিন্ডারগার্টেনের পরিসংখ্যান না থাকলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে খোজ খবর নিয়ে জানাগেছে জেলায় ৪৮ টি কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের বিদ্যালয় রয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলায় ইংলিশ মিডিয়াম রয়েছে ২ টি এবং  কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের স্কুল রয়েছে ১২ টি । নলছিটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  মোঃ মোজাম্মেল জানান, উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন সমমানের স্কুল রয়েছে ২৩ টি । রাজাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  মোঃ এবিএম রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলায় ইংলিশ মিডিয়াম রয়েছে ১টি এবং কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের স্কুল রয়েছে ৮টি । কাঠালিয়া উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা কর্মকর্তা  রিয়াজুল ইসলাম জানান, কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের স্কুল রয়েছে ১২ টি । তবে প্রত্যেক শিক্ষা কর্মকর্তাই জানান তাঁদের তালিকায় নূরানী মাদ্রাসা অথবা নূরানী কিন্ডারগার্টেন অন্তর্ভুক্ত নেই।
ঝালকাঠি সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সিটি কিন্ডারগার্টেনের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর রুস্তম আলী বলেন, ঝালকাঠি জেলা শহরসহ প্রত্যšত্ম এলাকায় অনেক কিন্ডারগার্টেন গড়ে উঠেছে। যেখানে সরকারী নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা নেই। কিন্ডার গার্টেন শিক্ষার কাঠামোও জানেন না।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইয়াদুজ্জামান জানান, মন্ত্রণালয় থেকে কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের স্কুলগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। শিক্ষকদের ইচ্ছে মাফিক বেতন প্রদান করে প্রতিষ্ঠাতা সবসময়ই ১ মাসের বেতন আটকিয়ে রাখে।
তার সাথে শিক্ষার্থীদের বাবদ অভিভাবকদের কাছ থেকে গলাকাটা ফি আদায় করছে। স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক টিউশন ফি ৩ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যšত্ম আদায় করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। তাই এসব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত নীতিমালার আওতায় আনা উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ