ঢাকা, শনিবার 17 February 2018, ৫ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩০ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফেসবুকে প্রশ্ন আপ করা একজন ধরা পড়লো মাদারীপুরে

শেখ মো: সামসুদ্দোহা মাদারীপুর থেকে: প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিতে শিক্ষামন্ত্রীর পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার তৃতীয় দিনেই ফেসবুকে প্রশ্ন দেয়ার সময় মাদারীপুরের মস্তফাপুর এলাকায় হাতেনাতে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে একটি যাত্রীবাহি বাসের কয়েজন যাত্রী। প্রশ্নফাঁসকারী ওই যুবক বাসের সিটে বসেই অন্যদের প্রশ্ন দিচ্ছিলেন। লিটন বৈরাগী নামে পাশের আসনে বসা  যাত্রী বিষয়টি টের পেয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল গিয়ে তাকে আটক করে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও সদর থানা পুলিশ। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষিত পুরস্কার পাওয়ার দাবী সনাক্তকারীদের।
আটক যুবকের নাম জোবায়দুল ইসলাম। তিনি ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে জানিয়েছেন পুলিশকে। বুধবার এসএসসিতে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল যান।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ জানায়, সকালে ঈগল পরিবহনে ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র প্রশ্ন মোবাইলে ফেসবুকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করছিলেন। মাদারীপুরের মস্তফাপুর এলাকায় আসার পর ওই যুবকের পাশের আসনে থাকা লিটন বৈরাগী নামে একজন যাত্রী ফাঁসের বিষয়টি বুঝতে পেরে অন্যদের জানান। তখন যাত্রীরা বাসটি আটক করে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম ও পুলিশে ফোনে খবর দেয়। আর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে হাতেনাতে প্রশ্নের কপিসহ আটক করে জোবায়দুল ইসলামকে।জোবায়দুল ইসলামের বাড়ি বরগুনায়। তার বাবার নাম আব্দুস ছাত্তার চোকদার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই তরুণ জানিয়েছেন, ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে পাঁচশ টাকার বিনিময়ে একজনকে প্রশ্ন দিচ্ছিলেন তিনি।
জোবায়দুল ইসলাম মিঠু সাংবাদিকদের জানান, তিনি একটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তিনি টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার সাজেশন দিতেন।’ ওই যুবক এই প্রশ্ন কীভাবে পেয়েছেন সেটা বের করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, আটক যুবকের মোবাইল ফোনে যে প্রশ্ন পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে আজকের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। একই সাথে প্রশ্নের উত্তরও পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবিদুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এই চক্রের সঙ্গে অন্য যারা জড়িত আছে তাদের ধরতে কাজ শুরু করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সৈয়দ ফারুক আহম্মদ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-মামুন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে তোলপাড় চলছে দেশ জুড়ে। ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন সরবরাহ করে আসা হচ্ছে। আর এ জন্য কোনো রকম আর্থিক সুবিধাও চাইছে না এর সঙ্গে জড়িতরা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদেরকে ধরিয়ে দিতে পারলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন। এরপর ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপে ‘পারলে আমাদের ধরেন’ বলে পাল্টা চ্যালেঞ্জও দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ