ঢাকা, রোববার 18 February 2018, ৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ১ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভালবাসা দিবসে রক্তাক্ত ঘটনা

১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবসে বন্দুকধারীর নির্বিচার গুলিতে রক্তাক্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিদ্যালয়। সাবেক এক ছাত্রের এই হামলায় নিহত হয়েছেন শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৭ জন। আহতও হয়েছেন ১৭ জন। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পার্কল্যান্ডের সার্জোরি স্টোনম্যান ডগলাস উচ্চ বিদ্যালয়ে ওই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এটি চলতি বছরে মাত্র দেড় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যালয়ে হামলার ২০তম ঘটনা বলে জানিয়েছে এএফপি।
উল্লেখ্য যে, হামলাকারী নিকোলাস ক্রুজ (১৯) ওই বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে। ব্রোয়াড কাউন্টির শেরিফ স্কট ইসরায়েল বলেছেন, ভালবাসা দিবসকে এআর-১৫ রাইফেল দিয়ে রক্তাক্ত করা ক্রুজ গ্রেফতার হয়েছেন নিকটবর্তী কোরাল স্প্রিংস শহর থেকে। এই হামলা ঠেকাতে না পারার জন্য কর্তৃপক্ষের অক্ষমতাকেই দায়ী করা হচ্ছে।
ভালবাসা দিবসকে রাইফেল দিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনা অবশ্যই একটি নৃশংস ঘটনা। এখানে বিবেচনার বিষয় হলো, কোনো মাফিয়া এই ঘটনা ঘটায়নি। ঘটনাটি ঘটেছে বিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে এবং ঘটিয়েছে একজন ছাত্র। আর ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, এটি একমাত্র ঘটনা নয়, চলতি বছরে মাত্র দেড় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যালয়ে হামলার ২০তম ঘটনা। মার্কিন সমাজের এটি একটি অন্ধকার দিক।
পার্কল্যান্ডের ঘটনাকে ভয়ঙ্কর উল্লেখ করে শেরিফ স্কট ইসরায়েল বলেন, আমরা ক্রুজের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিষয়বস্তু ইতোমধ্যে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেছি। সেখানে যা পাওয়া গেছে তা খুবই অস্বস্তিকর। এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রুজ অস্থির চিত্তের তরুণ এবং আগ্নেয়াস্ত্র ভালবাসতেন বলে জানিয়েছেন তার সাবেক সহপাঠীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আধুনিক সব অস্ত্র হাতে তিনি ছবি পোস্টও করেন। ভাবনার বিষয় হলো, মার্কিন সমাজে ক্রুজের মত ভয়ঙ্কর চরিত্রের সংখ্যা দিনদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বছরের মাত্র দেড় মাসে ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্দুক নিয়ে হামলার ঘটনায় সহিংসতা ব্যাপক বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে চলে এলো। তবে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফ্লোরিডার গভর্নর রকস্কট কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যালয়ে কোনো শিশু, শিক্ষক বা অন্য কাউকেই কখনো অনিরাপদ ভাবা উচিত নয়’। অদ্ভুত বক্তব্য! ভালবাসা দিবসে একজন ছাত্রের রাইফেলের গুলিতে বিদ্যালয়ে ১৭ জন নিহত হওয়ার পরও প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী শিশু, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এখনো নিজেদের নিরাপদ ভাবতে হবে? আর ফ্লোরিডার গভর্নর তো আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ক প্রশ্নে অবলম্বন করলেন নীরবতা। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব কি এখন কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারছেন না, নাকি তারা বিভ্রান্ত? স্কুল কর্তৃপক্ষ না হয় অক্ষমতার পরিচজয় দিয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে তো অক্ষমতার পরিচয় দিলে চলবে না। কারণ, তারা বিশ্ব রাজনীতি ও বিশ্ব সভ্যতার অন্যতম নিয়ন্ত্রক। তাদের দেশের ঘটনা প্রবাহের তো একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আর এমন প্রশ্নও এখন জাগছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও রাজনীতিকদের নেতিবাচক ও আগ্রাসী আচরণের প্রভাব তরুণদের মধ্যে পড়ছে না তো?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ