ঢাকা, সোমবার 19 February 2018, ৭ ফাল্গুন ১৪২৪, ২ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আবু জেহেলরাতো সমাজে আছে-

পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার বারআনি গ্রামে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে এক ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর মুদ্রিত হয়েছে দৈনিক সংগ্রামে। ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে মুদ্রিত খবরটিতে বলা হয়, ১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত মাহফিলের প্রধান অতিথি মাওলানা আজিজুল হককে বেদম প্রহার করেছে ধুলাউড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জরিফ আহমেদ মাস্টার, সেক্রেটারি রঞ্জু ফকিরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা। একটি কথাকে কেন্দ্র করে মাহফিলের প্যান্ডেলসহ পুরো এলাকার লাইট বন্ধ করে দিয়ে তারা বক্তব্য পেশকারী মাওলানাকে নির্মমভাবে প্রহার করে।
বিবেচনার বিষয় হলো, মাহফিলের সম্মানিত আলেম এমন কী বলেছেন যে, যার জন্য তাকে প্রহার করতে বাধ্য হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা? পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাওলানা সাহেব যখন বললেন ‘আবু জেহেলের বংশধর এখনো আছে’, তখনই তার ওপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা। প্রশ্ন জাগে এই বক্তব্যে এমন কি ভুল আছে যে, যার জন্য মাওলানার ওপর হামলা চালালো আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা? মূর্খতাপূর্ণ আচরণের জন্যইতো আরবের তৎকালীন শীর্ষ নেতা ‘আবু জেহেল’ তথা ‘মূর্খের পিতা’ উপাধি পেয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে কি আমাদের সমাজে বহুলোক মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করছেন না? প্রতিদিনের পত্রিকার পাতা উল্টালেইতো তার বহু উদাহরণ পাওয়া যায়। মাওলানা সাহেবতো সঠিক কথাই বলেছেন। আর সঠিক ও সত্য কথা বলার জন্য মাওলানার ওপর যারা হামলা চালালেন, তাদের আমরা কোন্্ বিশেষণে অভিহিত করবো? তারাতো অবশ্যই মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করেছেন। এখন কেউ যদি বলেন, মাওলানা তো ঠিকই বলেছেন যে ‘আবু জেহেলের বংশধর এখনো আছে’, তবে তাকে কি মন্দ বলা যাবে?
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ওই স্থানীয় নেতা সবকিছু নিজের ইচ্ছামতো চালাতে চান, এমনকি তাফসির মাহফিলও! তার মতের বাইরে কিছু গেলেই মহাবিপদ। তাফসির মাহফিল পণ্ড করার ঘটনা তার বড় উদাহরণ। আর জরিফ মাস্টারসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা যেভাবে মাওলানার ওপর হামলা চালিয়েছেন তাতো রীতিমত সন্ত্রাসী ঘটনা। আমরা মনে করি এ কারণে তাদের আইনের আওতায় নেওয়া প্রয়োজন। পুলিশ ও প্রশাসন যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা- সেটাই এখন দেখার বিষয়। আর সরকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল হিসেবে এ রকম সন্ত্রাসী ঘটনা প্রশ্রয় পেলে আওয়ামী লীগের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কি ব্যবস্থা নেয়- সেটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে জনগণের জন্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ