ঢাকা, মঙ্গলবার 20 February 2018, ৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সংশোধন এবং নৈতিক বোধের প্রশ্ন

সমাজের মান নির্ণয়ে নীতি-নৈতিকতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির হার দিয়ে সমাজের মান নির্ণয়ের কাজটি সম্পন্ন করা যায় না। এমন বিবেচনা আমাদের সমাজের জন্য এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। যখন পত্রিকার শিরোনাম হয় ‘পুলিশের ঘুষ মাদকে উশুল’, তখন আমাদের থমকে যেতে হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো পত্রিকায় মুদ্রিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পুলিশের ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে দেশে মাদক ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না। শুধু মাদক ব্যবসা নয়, বাহিনীতে লোকবল নিয়োগ, পদায়ন ও বদলিতেও ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। এই ঘুষের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারাও জড়িত। ১৮ ফেব্রুয়ারি অপরাধ বিষয়ক ত্রৈমাসিক সভায় পুলিশের কর্মকর্তাদের আলোচনায় এসব বিষয় ওঠে আসে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য যে, পুলিশের সদর দফতর সম্মেলন কক্ষে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, নতুন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর উপস্থিতিতে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের নিজস্ব সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এক পুলিশ কর্মকর্তা মাদক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, কাকের মাংস কাকে খায় না, কিন্তু পুলিশের মাংস যদি পুলিশে খায় তাহলে অপরাধ বন্ধ হবে কীভাবে? ওই কর্মকর্তা বলেন, কোন কোন থানায় নতুন ওসি যোগদান করতে হলে তাকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। শুধু ওসি নন, এসআই এবং এএসআই বদলি করতেও লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এতো টাকা ঘুষ দেওয়ার পর ওই কর্মকর্তা মাদকের সাথে যুক্ত হবেন এটাইতো স্বাভাবিক। কারণ ঘুষের এই অর্থ তিনি তুলবেন কী করে? আবার জেলার প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা যদি ওসি থেকে টাকা নেন তাহলে তাকে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে বলবেন কীভাবে? মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও ডিআইজিরাও টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিচ্ছেন। যে কারণে মাদকের সঙ্গে পুলিশের সংযোগ কমছে না, মাদক বন্ধও হচ্ছে না। পুলিশের ঘুষের টাকা মাদকে উশুল হচ্ছে।
পুলিশের আইজি অবশ্য এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জুনিয়রদের কাছ থেকে সিনিয়ররা যদি লজ্জা পেতে না চান তাহলে এখনই সংশোধন হোন। তা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইজি তো সংশোধনের কথা বললেন, আমরাও পুলিশের সংশোধন চাই। তা না হলে সমাজে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন হবে কেমন করে? কিন্তু সংশোধনের জন্য তো প্রয়োজন নৈতিকবোধ। আর এই নৈতিকবোধের উৎস হলো স্রষ্টা প্রেরিত পবিত্র ধর্ম। এই ধর্ম দর্শনের চর্চা আমাদের সমাজে, প্রতিষ্ঠানে কতটা হচ্ছে? নৈতিকবোধের উৎস থেকে বিমুখ হয়ে শুধু সংশোধনের আহ্বান জানালে তা কি তেমন ফলপ্রসূ হবে? আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা কী বলে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ