ঢাকা, মঙ্গলবার 20 February 2018, ৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বগুড়ায় নবজাতক ও প্রসূতির মৃত্যু ॥ চিকিৎসকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়া অফিস: বগুড়ার শেরপুরে ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে তোলা পালস্ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অবহেলায় প্রসূতি পুতুল রানী (২৫) ও তার সদ্যনবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের গতকাল সোমবার বগুড়ার আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক পলাতক রয়েছে। আসামীরা হলেন, হাসপাতালের মালিক ডা. আখতারুল আলম আজাদ, গাইনী সার্জন ডা. লুৎফুন নেছা, ব্যবস্থাপক আমিনুর ইসলাম ও ওয়ার্ডবয় ইউসুফ আলী। এদের মধ্যে আমিনুর ও ইউসুফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । তবে  দুই চিকিৎসক পলাতক রয়েছে।
বগুড়ার শেরপুর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পশ্চিমপাশে হামছায়াপুর কাঁঠালতলা এলাকায় পালস জেনারেল হাসপাতালটি অবস্থিত। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ২টার সময় প্রসব বেদনার কারণে ওই প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে অপারেশন করা হয়। এসময় নবজাতক মারা যায়। একইসঙ্গে ওই প্রসূতিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তিনিও মারা যান। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ওই প্রসূতিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু শজিমেক কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে নেয়ার আগেই প্রসূতি পুতুল  রানী মারা গেছেন। পরে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থাপক ও ওয়ার্ড বয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুতুল রানীর স্বামী শিবেন হাওলদার বলেন, হাসপাতালে রোগিকে ভর্তির সময় কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। ওয়ার্ডবয় তাকে একটি ভর্তির কাগজে স্বাক্ষর করে নেয়। তারপর সকালে অপারেশনের পর সন্তান এবং পরে স্ত্রী মারা যায়। থানায় তিনি নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ