ঢাকা, মঙ্গলবার 20 February 2018, ৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নতুন গিরিপথ হতংকুচো এবং মাতাই তুয়ারী

খাগড়াছড়ি : নতুন গিরিপথ হতংকুচো

খাগড়াছড়ি জেলার নুনছড়ি এলাকায় অবস্থিত দুর্গম কিন্তু অসাধারণ একটি গিরিপথ এবং একটি ঝর্ণা নজরে এসেছে সম্প্রতি। মাতাই তুয়ারী ঝর্ণা দিয়ে নেমে এসে যে পথটা দুই পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে চলে গেছে বহুদূর তার নাম হতংকুচো। গুগলে খুঁজে এ সম্পর্কিত কোন তথ্য পাবেন না আপনি। পথ হারানোর ব্যাপক সম্ভাবনা এখানে হাতছানি দেয়, যে কোন সময় অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে বড় দুর্ঘটনা, পুরো পথ যেন এ্যাডভেঞ্চারে ভরপুর। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এই হতংকুচো ও মাতাই তুয়ারী সম্পর্কে জানেই না। এখানে গেলে আপনি দেখতে পারবেন মানুষের সংস্পর্শ বহির্ভূত নির্জন মায়াময় প্রকৃতি রুপ, শুনতে পারবেন নিস্তব্ধতার ভাষা, অনুভব করতে পারবেন বিধাতার অপরিমেয় সৌন্দর্য। এই এলাকাটা মূলত ত্রিপুরা অধ্যুষিত, তাদের ভাষায় মাতাই মানে হল দেবতা আর তুয়ারী মানে ঝর্ণা তার মানে দেবতার ঝর্ণা। মাতাই তুয়ারী তে এখানকার স্থানীয়রা পূজা দেয়, এটাকে তারা আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচনা করে, পাহাড়ের ঢালে যে ছোট ছোট পাড়া আছে তাদের জীবন ঐ মাতাই তুয়ারী থেকে বয়ে চলা ঝিরির উপর নির্ভরশীল।
এই মাতাই তুয়ারী ঝর্ণার নিচে রয়েছে একটা বড় কুম বা বেশ গভীর একটা পুকুর। এই কুমের পানি প্রচণ্ড রকম ঠান্ডা এবং স্বচ্ছ যেটা আশেপাশের পাহাড়ি গাছের প্রতিফলনে নীল দেখায়, পানি সুপেয় এবং কোন বড় প্রাণী চোখে পড়েনি। হতংকুচো হল এই মাতাই তুয়ারী থেকে ফেরার গিরিপথ। দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বড় বড় পাথর আর ঠান্ডা পানির সংমিশ্রণে এটাকে ভয়ংকর একই সাথে অনিন্দ্য সুন্দর করে তুলেছে। এখানে সূর্যের আলো খুব কম অর্থাৎ সরাসরি সূর্যকিরণ পৌঁছানো মেলা ভার। নিচে বড় বড় পাথার আর কোথাও হাটু পানি কোথাও বা বুক পানি আবার কোথাও সাঁতরে পার হতে হয়। পানির নিচে পাথর না দেখতে পেয়ে অসাবধান হয়ে পা দিলেই পড়ে যেতে হবে এবং যেন তেন ভাবে নয় খুব মারাত্মক ভাবে। এখান থেকে বের হওয়ার সহজ কোন রাস্তা নেই, হয় পাহাড় চড়তে হবে না হলে এই গিরিপথ পাড়ি দিতে হবে। আমাদের সাথে থাকা একটা মেয়ে আছাড় খেয়েছিলো যদিও সে খুব বেশি আহত হয়নি এবং হেটেই ফিরে আসতে পারেছিলো। সামনে কখনোবা পড়বে বড় পাথর যা আপনার পথ একদম আটকে দিয়ে বসে আছে, কখনোবা দেখতে পাবেন পুরো পথটা মাকড়শার জালে আটকে আছে, যা প্রমাণ করে এ জায়গায় মানুষ খুব একটা আসে না। কখনোবা দেখবেন অনেক উপর থেকে গেছের ছড়া নিচে নেমে এসেছে কুণ্ডলী পাকিয়ে, চাইলে সেটা ধরে একটু টারজান হয়ে দোল খেয়ে নিতে পারেন, ভয় নেই ছেঁড়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আমাদের গাইডের তথ্যমতে হাতে গোনা দু একটা গ্রুপ এই গিরিপথ পাড়ি দিয়েছে। ফেসবুক গ্রুপ Adventure Madness এখানে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে গত বছর, এবারের ফেব্রুয়ারিতে তারা একটি সফল ট্যুরের আয়োজন করে এখানে। ২৭ জনের একটি গ্রুপ নিয়ে প্রথমে দেবতা পুকুরে যায় যেটা সম্পর্কে একটু না বলেই নয়, এই দেবতা পুকুর বা মাতাই পুকরির নাম অনেকেই শুনে থাকবেন। যেটা একটি ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেখানে যেতে হলে আপনাকে পাড়ি দিতে হবে ১৭৭৬ টি সিঁড়ি আমি আবার বলছি সতেরশো ছিয়াত্তর টি সিঁড়ি। এরপর বেশ কয়েকটা পাহাড় বেয়ে মাতাই তুয়ারীতে পৌছায় তারপর হতংকুচো গিরিপথ পার হয়ে তারা আবার দেবতা পুকুরে ফিরে আসে।
- জাকির হোসেন রাজু

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ