ঢাকা, মঙ্গলবার 20 February 2018, ৮ ফাল্গুন ১৪২৪, ৩ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কয়রার সমন্বিত চাষাবাদ করে ভাগ্য ফিরেছে সামিরার

খুলনা অফিস: খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশাী ইউনিয়নের বতুলবাজার গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান সামিরা খাতুন সম্বনিত চাষাবাদ করে তার পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আর ধান, মাছ, সবজি চাষ প্রকল্পের মাধ্যমে সংসারের অভাব ঘুচিয়ে স্বামী ছেলে সন্তান নিয়ে ভাল আছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। সরেজমিনে ঘুরে সামিরার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সালে ‘আইলায়’ বতুলবাজ গ্রাম সহ কয়রা উপজেলার পাঁচটি ইউনয়ন সম্পুর্ণ বিধস্ত হয়। দীর্ঘ দিন লবণ পানি আটকে থাকার কারণে কয়রা উপজেলার সামাজিক পরিবেশ মরুভুমিতে পরিণত হয়। বাদ যায়নি সামিরার খাতুনের ঘরবাড়ি, পানির তোরে ভাষিয়ে নিয়ে যায় তার ঘরবাড়িসহ সকল সহায় সম্পদ। পাউবোর বেড়ি বাঁধের উপর ২/৩ মাস অতিকষ্ট করে কোন রকম বসবাস করে। দুই বছর পর লবন পানির ছোবল থেকে কোন রকম রক্ষা পেয়ে পরবর্তিতে স্বামীর ভিটায় কোন রকম মাথা গোজার ব্যবস্থা করেন সামিরা। তার স্বামী খোরশেদ গাজী দরিদ্র জীবন থেকে ঘুরে দাঁড়াবার জন্য নিজের উপজেলা কয়রা সহ ঢাকা, খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছিল। সেই উপার্জন থেকে পরিবারে খরচের পাশাপাশি কিছু কিছু করে টাকা সঞ্চয় করে রাখে। সামিরা চেষ্টায় গচ্ছিত অর্থ আর স্থানীয় সমিতি থেকে লোন নিয়ে এবং কিছু টাকা ধার করে বাড়ির পার্শ্বে ৩৩ শতক জমি ক্রয় করে সামিরার পরিবার। সেই জমিতে থাকার ব্যবস্থা সহ কৃষি কাজ শুরু করে। তার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ায় জেজেএস রেজিলিয়েন্স প্রকল্প।
প্রতি মাসের মিটিং এ নিয়মিত হাজির হয়ে দুর্যোগে খাপখাওয়ান, ডাইবে সবজিচাষ, সমন্বনীত চাষা বাদ (ধান , মাছ, সবজি) বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ, পানি বাহিত বিভিন্ন রোগ বিষয় ধারনা পান এবং সমন্বনীত (একই জমিতে ধান, মাছ ও সবজি) চাষা বাদ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন সামিরা। রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের মাধ্যমে কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে সমন্বীত চাষাবাদ এর উপর প্রশিক্ষণ পান তিনি। রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের কর্মকর্তারা সমিরা খাতুনের জমি পরিদর্শন করে ২০১৫ সালের শেষের দিকে কৃষি কাজে সহযোগিতা হিসাবে প্রায় ১০ হাজার টাকা সহয়তা প্রদান করেন। উক্ত টাকা দিয়ে লেবার নিয়ে নিজেরা সাথে থেকে ক্যানেল কেটে মাটি দিয়ে চার পার্শ্বের ডাইক তিন হাত চওড়াসহ উচু করে। উক্ত ক্যানেল ও পুকুরে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, কালবাউস, গল্দা চিংড়ি এবং কার্প জাতিয় মাছ চাষ করেন। ডাইকে পুইশাক, কুমড়া, শশা, লাউ,  বেগুন, করল্লা, মিনা, বরবটি, কচুরমুখি, ওল, আলু চাষ করেন এবং জমিতে ধান চাষ করে ৪৮ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকার উৎপাদিত ফসল বিক্রয় করে। সেই অর্থ দিয়ে ভালভাবে সংসার চালাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ