ঢাকা, শুক্রবার 23 February 2018, ১১ ফাল্গুন ১৪২৪, ৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মানব সভ্যতার বিকাশে বই

সাকী মাহবুব : মানব সভ্যতার বিকাশে বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যভাবে বলা যায় সভ্যতা বিনির্মাণে যেই জিনিস সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রাখে তার নাম বই।যুগে যুগে মানব সভ্যতার বিকাশে, ঞান বিঞানের উন্নয়নে বই গুরুত্বপূৃর্ন  অবদান রেখে চলেছে।মানুষের মনের ভাব প্রকাশের নিজের অভিঞতা, সুচিন্তিত মতামত, জীবন দর্শন ইত্যাদি গ্রণ্হিত করে যুগ থেকে যুগে, কাল থেকে কালে এবং মহাকালের গর্ভে ছড়িয়ে দিতে বইয়ের কোন বিকল্প নাই। বই মানব সভ্যতার বিকাশে অন্যতম উপাদান। যুগে যুগে বই মানব জীবনের মানকে উন্নত করছে,বুদ্ধিমত্তাকে শানিত করেছে,ধারণাকে গভীর করেছে এবং এভাবে এগিয়ে  নিয়েছে মানব সভ্যতাকে। বই সত্যের পথে,ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে মানুষকে বিশুদ্ধ করে তোলে। বই ছাড়া মানব সভ্যতার বিকাশ সম্ভব নয়। মানুষের ভাবনার বহি:প্রকাশের চিরায়ত মাধ্যম বই। মানুষের অমিতশক্তির দ্বারকে উন্মোচিত এবং বিকশিত করেছে বই। আর তাই বই-ই সভ্যতার বাহন। বই না থাকলে আমরা ব্ঝুতে পারতাম না, মানুষ কেন অন্য প্রাণীর মতো নয়। বই আছে বলেই আমরা বুঝতে পারি প্রাণী কেন মানুষ নয়। মানুষের প্রকৃত বন্ধু বই। বই মানুষকে পথ দেখায়,মানুষকে আলোকিত করে। সভ্যতের বিকাশে বইয়ের ভূমিকা বেশী। সৃষ্টির উষালগ্ন থেকে শুরু করে আজ অবধি মানুষ বই পড়ে। বই নির্জনে আমাদের বন্ধু,কোলাহলেও। বই সর্বাস্থায়ই আমাদের সহায়ক শক্তি। বই জীবনকে আলোকিত করে,পরিপূর্ণ করে। বস্তুত যারা বই পড়ে না কিংবা বই পাঠের আনন্দ কিংবা রস যারা উপভোগ করতে জানে না তারা এক অর্থে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে মূর্খ। মূর্খদের কাছে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ‘বিদ্যা অপেক্ষা প্রভাব প্রতিপত্তিই অনেক বড়। এসব বাস্তব কারণে সমাজে ও রাষ্ট্রে অবক্ষয় দেখা দেয়। ফলে সমাজে বাটপাড়, ধুরন্ধর, সন্তাস,ও চাদাঁবাজদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। সুতরাং এসব উৎপাত থেকেও রক্ষা পেতে আমাদের বইয়ের দারস্ত হওয়া উচিত নয়। ব্যক্তি জীবনের উন্নতি, চরিত্র গঠন, বুদ্ধিমত্তাজনিত কার্যক্রম ও সংবেদনশীলতাকে সমৃদ্ধ এবং উপলব্ধির নিমিত্তে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারেরর ক্ষেত্রে বইয়ের বিকল্প নেই। ঞান বিঞানের চরম উৎকর্ষের যুগে আজ পৃথিবী হাজির হয়েছে। সফলতার চরম শিখরে প্রদীপ্ত আমাদের জীবন। চারিদিকে শুধু ঞান- বিঞানের জয়জয়কার অবস্থা বিরাজ করছে। ঞান ক্রমবর্ধমান ও সম্প্রসারণশীল, সর্বোপরি সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক, শিল্প সাহিত্য, ধর্ম -দর্শন,সংস্কৃতি, বিঞান, শিল্পকলা,ইতিহাস ঐতিহ্য, সম্ভাবনা,কারিগরি  ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিত্যনতুন পরিবর্তন,সমস্যার উদ্ভব ও নবনব আবিস্কৃত ক্রমবর্ধমান ঞানকে জানতে  ও আহরণ করতে প্রয়োজন বইয়ের। সভ্যতার কাঠামো গড়ে ওঠে এই ভিত্তিকে আশ্রয় করে। ঘটে মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ।

উৎকৃষ্ট সংস্কৃতির মহাসরণি রচিত হয় বইয়ের বুক চিরে। বইহীন সভ্যতার আরেক নাম হতে পারে নিরাশার বালিয়াড়ি। যা দৃষ্টি নন্দন হলেও পরিণামে প্রাণঘাতী। ঞানের চূড়ান্ত মালিকানা যেহেতু বইয়ের দখলে সুতরাং সভ্যতার বীজমন্ত্র বইয়ের পাতায়  লুকায়িত এতে সন্দেহেরর অবকাশ নেই। বইয়ের গ্ররুত্বের কথা বলতে গিয়ে প্রখ্যাত সাহিত্যিক লিও টলস্টয় বলেছেন জীবনে তিনটি জিনিস প্রয়োজন। বই, বই এবং বই। জীবন যেহেতু সভ্যতার বাইরে নয়, তাই টলস্টয়ের সাথে সুর মিলিয়ে আমরা ও বলতে পারি সভ্যতের জন্য তিনটি জিনিস প্রয়োজন। বই, বই এবং বই।

তথ্যসূত্র :

১। রচনা সম্ভার  নবম দশম শ্রেণি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোড।

২। বই, মার্চ-এপ্রিল-২০০৬

৩। দৈনিক ইত্তেফাক ০৮ ডিসেম্বর ২০১৫.

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ