ঢাকা, শুক্রবার 23 February 2018, ১১ ফাল্গুন ১৪২৪, ৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছড়া

বাংলা ভাষা

মোশাররফ হোসেন খান

 

বাংলাভাষার জন্য

   প্রাণটা দিলো যারা

ধন্য এবং জগত সেরা

    সত্যিই অমর তারা। 

 

বাংলা ভাষা বাংলা ভাষা

          যতই বলি মুখে 

আসলে ভাই বাংলাটা যে

     মিশেই আছে বুকে।

 

ভাষার জন্য

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

 

একুশ এলে আগুন ছড়ায়

কৃষ্ণচূড়ার ডালে,

রাস্তা জুড়ে লড়াই তো হয়

হাজার শ্লোগান,

ভাষার জন্য তোমার আমার

মনেতে জয়গান।                           

মিছিল চলে এই জনতার

বাহান্নর ঐ সালে।

 

বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা

বীর বাঙালীর মনের আশা

প্রতিবাদে রাজপথে সব

মশাল হাতে কারা।

রক্ত দিলো দামাল ছেলে 

হাসি মুখে কেউ বা জেলে

আজও অমর আনতে ভাষা

রক্ত দিলো যারা।

 

শ্রেষ্ঠ কথা

বাতেন বাহার

 

যেই ভাষা রোজ পাখির ঠোঁটে

যেই ভাষাতে গোলাপ ফোটে

প্রজাপতির রঙিন পাখায়

যে ভাষাটি আঁকা

ঝুমকো লতা, নতুন কুঁড়ি

বউ বুবুদের হাতের চুড়ি,

সেই ভাষাতে গল্প করে

গরু-গাড়ীর চাকা।

লাল ললিনী পদ্ম পাতা

যেই ভাষাতে সবুজ ছাতা

গল্প করে রক্ত পলাশ

সূর্য আঁকে ছবি

সেই ভাষাতে ঝর্ণা ধারা

সাগর খুঁজে আত্মহারা,

শৈল প্রপাত বন্ধু খুঁজে

খুঁজে স্বভাব কবি

সে ভাষা মা’র প্রীতির ধারক

শহীদ মিনার স্মৃতির স্মারক,

যার জন্য বিশ্ব উতাল

মুক্ত স্বাধীন শির

মায়ের ভাষার স্বাধীনতা

শ্রেষ্ঠ মনের শ্রেষ্ঠ কথা,

যুদ্ধ করে পেলাম যারে

বীর বাঙালি বীর।

 

একুশ এলেই 

মো: জাহের আলী

    

একুশ এলেই পাগল হয়ে ফুলের মালা গাঁথি

বাংলা ভাষা মায়ের ভাষা শ্লোগান নিয়ে মাতি

বাংলার ফাঁকে ইংলিশ দিয়ে কথা বলি বেশ

দাবী করি বাঙ্গালী আর বাংলা আমার দেশ

বাঙ্গালীদের দেশে আবার বড় কর্তা যারা

বাংলা বলা ভীষণ কষ্ট ইংরেজীটা ছাড়া

আইনের মোড়ল বিচারপতি লিখে বাংলা ছাড়া

ইংরেজীতেই লিখে নোটিশ বাড়ি দেবে ভাড়া

ডাক্তার বাবু ঔষধ লিখেন বাংলা কোথাও নাই

দাপ্তরিক কাজেও কভু বাংলা পাওয়া দায়

রাস্তা ঘাটে যতই মিলে বিজ্ঞাপনের দেখা

বাংলা হরফ দিয়েই থাকে ইংরেজীটা লেখা

সত্যিকারের বাঙ্গালী জ্ঞান তখন মোদের হবে

যখন থেকে বাংলা ভাষা সব খানেতেই রবে।।

 

 

একুশ মানে

আতাউল হক মাসুম

 

একুশ মানে উন্নত শির

মাথা নত না করা

একুশ মানে মধ্য দুপুরে

রাজপথে রক্তঝরা।

 

একুশ মানে ব্যানারে ব্যানারে

রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।

একুশ মানে রাখাল গলায়

‘আমি বাংলায় গান গাই’।

 

একুশ মানে বাংলার বুলি

বাংলায় কাঁদি- হাসি

একুশ মানে বাংলায় বলতে পারা

‘মাগো তোমায় ভালবাসি’।

 

 

মায়ের ভাষায়

রওশন মতিন

 

ক্লাসের খাতা, বইয়ের ছবি

মায়ের ভাষায় আঁকি,

বুকের ভিতর শহীদ মিনার-

বর্ণমালার পাখি।

 

পদ্ম বিলে পদ্ম ফোটেÑ

শাপলা-শালুক খই,

দমায়ের ভাষায় উজান-ভাটি

প্রাণের কথা কই!

 

এদেশ আমার এদেশ তোমার,

মায়ের ভাষার প্রাণের দাবি,

রক্ত-রাঙা শহীদ মিনারÑ

বর্ণমালার বিজয়-চাবি।

 

মায়ের ভাষা নীল আকাশে

মুক্ত পাখির মুক্ত ডানা

বর্ণমালা স্বাধীনতারÑ

মুক্তিসেনা, হার না মানা।

 

মায়ের ভাষা

শাহ্ আলম শেখ শান্ত

 

ক খ আর অ আ বেরোয় আমার প্রতি

শ্বাসে

গগন পবন জল ভূ-তলে বাংলা ধ্বনি

ভাসে

আমি বাংলা ছাড়া অন্ধ ;

তাজিংডং আর কেওক্রাডং নাচে

বাংলা তালে

এই ভাষাতে দোয়েল গায় বসে

তরুডালে

আহা ! কী যে মধুর ছন্দ !

 

একুশ তারিখ ঘিরে

শরীফ সাথী

 

সবুজ মাঠের দূর-দূরান্তে বাংলার পথে চলি,

হাসি মুখে সবার সাথে বাংলায় কথা বলি।

মা জননীর মুখের ভাষা বাংলা ভাষা পেয়ে, 

ধন্য মাগো ধন্য আমরা তাই থাকি মা চেয়ে। 

ঊনিশ শত বায়ান্ন সাল একুশ ফেব্রুয়ারি,

ভাইয়ের রক্তে কেনা ভাষা তা কি ভুলতে পারি ? 

বঙ্গ দেশের বঙ্গ ভাষা 

এক ইতিহাস গড়ে আসা 

সকল জনের করুণ কণ্ঠ চোখের কোণে পানি, 

শহীদ হওয়া সেই ভাইয়েদের স্মরণ করতে জানি।

 

ফুলের মালার মিলন মেলা একুশ তারিখ ঘিরে, 

রাজ পথে ভাই মিছিল নিয়ে আবার এলো ফিরে। 

সব বাঙালির প্রাণের আশা 

মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা 

সকল ভাষার ভিড়ে, 

স্বীকৃত সে বাংলা এখন সারা বিশ্বের নীড়ে।

 

 

ভাষার মাসে

নজমুল হক চৌধুরী

 

ভাষার মাসে সূর্য হাসে

রক্তজবা ফুলেল শোভা

দেয় ছড়িয়ে আশ-পাশে,

সব শহীদের স্মৃতি নিয়ে

আজও ভাষার মাস আসে।

 

বাংলা ভাষা মনের আশা

রাখলো ধরে প্রাণটি ভরে

আজও আমার মা হাসে,

ভাষার জন্যে জীবন দেয়ায়

বিশ্ব থেকে বাহবা আসে!

 

সেই সে ভাষা প্রাণ-পিপাসা

মিটায় আজও সবাই সাজো

রণাঙ্গনের মতো ঠিক,

শত্রুরা সব দেখে এসব

ছুটবে তখন দিগি¦দিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ