ঢাকা, শুক্রবার 23 February 2018, ১১ ফাল্গুন ১৪২৪, ৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সর্বস্তরে বিশুদ্ধ মাতৃভাষার চর্চা চালু করতে রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ বলেন, যেই আত্মত্যাগ ও কুরবানীর বিনিময়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরে সেভাবে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা পায়নি। সরকারি দফতর ও আদালতে মাতৃভাষা বাংলার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নেই। ইংরেজিকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে সর্বস্তরে। যে কারণে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এমন একটা বার্তা যাচ্ছে যে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য অবশ্যই বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি শিক্ষাকেই গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। এটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য খুবই দুঃখের ও হতাশার। বিশুদ্ধ মাতৃভাষা বাংলার চর্চা দেশের সর্বস্তরে চালু করার বিষয়ে সবার আগে রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। পাশাপাশি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মদানকারী ২১ ফেব্রুয়ারি’র ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আত্মার শান্তির জন্য খতম ও দোয়ার আয়োজনও করেছে দলটি। গত বুধবার রাজধানীর জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসায় এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মুফতী জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আল্লামা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা নাজমুল হাসান, অর্থসম্পাদক মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আবু সালেহ, ছাত্র জমিয়তের সভাপতি মুফতী নাসির উদ্দীন খান, মাওলানা হাবীবুল্লাহ ইসলামপুরী’সহ বারিধারা শাখা জমিয়ত ও ছাত্র জমিয়তের নেতৃবৃন্দ। মহাসচিব অসুস্থ থাকায় বক্তব্য দিতে পারেননি, দোয়া পরিচালনা করেছেন।

সভায় জমিয়তের সহ-সভাপতি আল্লামা জুনায়েদ আল-হাবীব বলেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদ হয়েছিলেন- আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, রফিক উদ্দীন আহমদ, আবদুস সালাম, শফিউর রহমান, আবদুল আউয়াল, মো. অহিউল্লাহ। তারা সকলেই ছিলেন মুসলমান এবং ধর্মভীরু পরিবারের সন্তান। তাদের কেউই অমুসলিম ছিলেন না। অথচ বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য যারা আত্মদান করলেন, এই মুসলমান শহীদদের স্মরণার্থে ইসলামী তরীক্বা বাদ দিয়ে খ্রীস্টানি তরীক্বায় মিনারে ফুল দেয়া হচ্ছে, নীরবতা পালন করা হচ্ছে। এতে শহীদ সালাম, বরকত, জাব্বারদের আত্মার কোন উপকারটা হচ্ছে? এতে কবরে তাদের রুহের শান্তির জন্য কোন উপকার হচ্ছে না। বস্তুতঃ জরুরি ছিল, যারা জাতির আত্মমর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠার জন্য ভাষা আন্দোলনে শহীদ হয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জাতীয় পর্যায়ে তাদের রূহের শান্তি ও মাগফিরাতের জন্য খতম ও দোয়ার আয়োজন করা। সম্ভব হলে তাদের কবর যিয়ারতের ব্যবস্থা করে সেখানে দোয়া-দরূদ পড়ে তাদের রূহের শান্তির জন্য দোয়া করার। কিন্তু ইসলামী তরীক্বায় শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য কোন আয়োজন না করে আজ পশ্চিমা কালচারে চালু করা হয়েছে দেশে; যাতে শহীদদের কোনই উপকার হচ্ছে না। বরং এটা ইসলাম থেকে মানুষকে দূরে সরানোর আয়োজন ছাড়া কিছু নয়।

হাফেজ নাজমুল হাসান বলেন, বাংলার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদেরকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সব সময়। আমরা ভাষা শহীদদের মাগফিরাত কামনা করি। আজকে ভাষা শহীদদের জন্য আমরা খতম ও দোয়া-দরূদ শেষে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে জমিয়তের পক্ষ থেকে। অথচ দুঃখজনভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সারা দেশে শহীদদেরকে স্মরণ করার ও সম্মান করার পশ্চিমা কালচার ফুল দেয়া ও এক মিনিট নীরবতা পালন করার রেওয়াজ চালু করা হয়েছে।

মাওলানা নাজমুল হাসান বলেন, এক মিনিট নীরব দাঁড়িয়ে না থেকে এই এক মিনিট দোয়া-দরূদ পড়লেও তো শহীদদের কিছু উপকার হত। তিনি বলেন, শুধু ২১ ফেব্রুয়ারি ফুল দেয়া ও এক মিনিট নীরব থাকার মধ্যে শহীদদের যেমন কোন উপকার হচ্ছে না, তেমনি ভাষারও কোন কল্যাণ নেই। এখন জরুরি হচ্ছে, জাতীয় পর্যায়ে ভাষা শহীদদের জন্য মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি বিশুদ্ধ বাংলা ভাষার চর্চা সর্বস্তরে চালু করা। 

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী বলেন, সাংস্কৃতি চর্চার নামে আজ সারাদেশে শুধু ভারতীয় সিনেমা, নাটক ও নায়ক-নায়িকাদের আমদানি করে নগ্নপনা চালু করে ক্ষতি করা হচ্ছে- তা নয়, ভাষার ক্ষেত্রে আজ আগ্রাসন চলছে। হিন্দি নাটক-সিনেমা ও টিভি’র অবাধ প্রবাহের কারণে বর্তমানের তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশের মধ্যে হিন্দিপ্রীতি দেখা যাচ্ছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে। এ ছাড়া বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষাকেই মর্যদাকর ভাষা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে নানাভাবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ