ঢাকা, শুক্রবার 23 February 2018, ১১ ফাল্গুন ১৪২৪, ৬ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মহান বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের পরিচিতি

মো: জোবায়ের আলী জুয়েল : বাংলার ইতিহাসে বাঙালির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দু’টি গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা হলো বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই দুটি মহান আন্দোলনে বিজয়ী হয়েছি। আজ সেই মহান ফেব্রুয়ারি মাস, ১৯৫২ এর মহান ভাষা আন্দোলনে এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শরীক হয়েছিলেন।

একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা সবাই শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করি। আমরা সবাই একত্রিত হয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই, কিন্তু অনেকেই আমরা জানি না ১৯৫২ এর একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের গুলীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কত জন ছাত্র ও জনতা প্রাণ দিয়েছিলেন। এটা অবশ্যই আমাদের সকলের জানার দরকার রয়েছে। আমাদের বাঙালির ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর নবাবপুরে আওয়ামী মুসলিম লীগ অফিসে আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের সভায় অলি আহাদ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহ-সভাপতি গোলাম মওলা, আব্দুল মতিন ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তৎকালীন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে একুশে চুয়াল্লিশ ধারা নিষেধাজ্ঞা ভাঙ্গার পন নিয়েছিল মোট ১১ জন ছাত্র নেতা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতই সে সময়ে একশ চুয়াল্লিশ ধারা নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে মিছিলে অংশগ্রহণ করার দূ:সাহসিক সিদ্ধান্ত হয়। এই সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদের সভাপতি ছিলেন শামসূল হক (তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, টাঙ্গাইলের অধিবাসী, মাওলানা ভাষাণীর স্নেহধন্য)। সদস্য ছিলেন যথাক্রমে-

১) হাবিবুর রহমান শেলী (প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান বিচারপতি- ইন্তিকাল করেছেন)

২) জিল্লুর রহমান (প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ ভূতপূর্ব গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রপতি, ইন্তিকাল করেছেন)

৩) আব্দুল মোমেন (প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রি, ইন্তিকাল করেছেন)

৪) মোহাম্মদ সূলতান (তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম সভাপতি ইন্তিকাল করেছেন)

৫) এস.এ. বারী এটি (প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ দপ্তর, ইন্তিকাল করেছেন)

৬) এম.আর. আখতার মুকুল (তৎকালীন স্বাধীন বাংলা বেতারের চরমপত্র পাঠক, ইন্তিকাল করেছেন)

৭) আনোয়ারুল হক খান

৮) মঞ্জুর হোসেন

৯) কমরুদ্দীন শহীদ

১০) গাজী উল হক (ভাষা সৈনিক ও প্রখ্যাত আইনজীবী, ঢাকা সুপ্রীম কোর্ট, ইন্তিকাল করেছেন)

১১) আনোয়ার হোসেন

প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় যে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সে’ সময় কতজন শহীদ হয়েছিলেন তা’ সঠিকভাবে বলা আজ কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিনা উস্কানিতে পুলিশের গুলীতে শহীদ হন রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, আবুল বরকত। ২১ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩ টায় পুলিশের গুলী বর্ষণের অব্যবহতি পরেই সশস্ত্র পুলিশের দল রাস্তার পাশে পড়ে থাকা গোটা কয়েক লাশ তাদের ভ্যানে করে সরিয়ে নিয়ে যায়। সে সময় রাস্তার প্রত্যক্ষ দর্শীদের কাছ থেকে সে রূপ জবানবন্দী পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে এদের কাছে মতামত নিয়ে জানা গেছে, আহতদের সংখ্যা ন্যূনতম পক্ষে প্রায় ১০০ জন হবে। 

এছাড়া ও ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত গভীর রাতে সেই সময় সশস্ত্র পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা একযোগে হামলা চালিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালের মর্গে থেকে শহীদদের বেশ কয়েকটি লাশ সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। সেই জন্য বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মৃতের সঠিক সংখ্যা বলা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

এছাড়াও গুলীবর্ষণে আহতদের মধ্যে অপারেশন থিয়েটার এবং হাসপাতালে পরবর্তীতে যারা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন তাঁদেরও সঠিক হিসাব সংগৃহীত হয়নি বলা চলে। বিশেষজ্ঞদের মতে ৮ জন ছাত্র, জনতার মৃত্যুর খবরর সন্দেহাতীত ভাবে পাওয়া যায়। ৮ জন শহীদদের নাম, পরিচয় ঠিকানা ইত্যাদির সন্ধান পাওয়া গেলেও তাঁদের বংশ পরিচয় ও বিস্তারিত বিষয়াদির মধ্যে অনেক ভূল-ভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে ৮ জনের মৃত্যু এই তথ্যটি বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে। মহান বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ২১ ফেব্রুয়ারির সেই ৮ জন শহীদদের পরিচিতি এখানে তুলে ধরা হলো-

১) আবুল বরকত : শহীদ হয়েছেন ২১-২-১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দ। পরিচয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের এম.এ ক্লাশের ছাত্র। পিতার নাম: মৌলভী শামসূজ্জোহা ওরফে ভূলু মিয়া (১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু)। মাতার নাম: হাজি হাসিনা বিবি (১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু)। ৩ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে আবুল বরকত ছিলেন পিতামাতার চতুর্থ সন্তান। ছোট ভাই আবুল হাসনাত ১৯৬৭ সালে ১৭/১৮ বছরে অসুখে মারা যান। বোনেরা হচ্ছেন শামসুন নাহার, নূরুন নাহার এবং নুরজাহান। জন্ম: ১৬ জুন ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ, জন্মস্থান: গ্রাম- বাবলা, ভরতপুর, জেলা- মুর্শিদাবাদ, রাষ্ট্র- ভারত।

ঢাকার ঠিকানা: বিষ্ণু প্রিয়া ভবন, পুরানো পল্টন, ঢাকা। ২১ ফেব্রুয়ারি বরকতের তলপেটে গুলী লেগেছিল। ঐদিন রাত দশটার দিকে বরকতের লাশ হাসপাতাল থেকে পুলিশের কড়া পাহারায় বের করে আজিমপুর গোরস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১২টার মধ্যে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হয় আজিমপুর গোরস্তানে।

২) আব্দুল জব্বার : শহীদ হয়েছেন ২১-২-১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দ। পরিচয় : সাধারণ গ্রামীন কর্মজীবী মানুষ ছিলেন। পিতার নাম: মরহুম হাছেন আলী (১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু), মাতার নাম: সফাতুন্নেসা (১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু), ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে আব্দুল জব্বার ছিলেন দ্বিতীয়। আব্দুল জব্বারের স্ত্রীর নাম আমেনা খাতুন ও তাঁর একমাত্র ছেলের নাম নূরুল ইসলাম বাদল (১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে ভাষা আন্দোলনের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ মাস), জন্ম: ১৩ আগষ্ট ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ, জন্মস্থান: পাঁচুয়া, ইউনিয়ন: রাওনা, উপজেলা: গফরগাঁও, জেলা: ময়মনসিংহ, ২১ ফেব্রুয়ারি আব্দুল জব্বার গুলীবিদ্ধ হন। হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর ঐ রাতেই ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। পুলিশের গুলীতে মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে তিনি গুলীবিদ্ধ হন। 

৩) রফিক উদ্দীন আহমদ: শহীদ হয়েছেন ২১-২-১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দ। পরিচয়: মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র। পিতার নাম: মরহুম আব্দুল লতীফ (১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু), মাতার নাম: রাফিজা খানম (মৃত্যু ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে), জন্ম: ৩০ অক্টোবর ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ, গ্রাম: পারিল, উপজেলা: সিঙ্গাইর, জেলা: মানিকগঞ্জ। পাঁচ ভাই দুই বোনের মধ্যে রফিক ছিলেন সবার বড়। অন্যান্য ভাই-বোনেরা হলে- আব্দুর বশিদ, আব্দুল খালেক, আব্দুস সালাম, খোরশেদ আলম, আলেয়া বেগম, জাহানারা বেগম। একুশে ফেব্রুয়ারি পুলিশেরা আকস্মিক গুলী চালাতে চালাতে ব্যারাকের গেট দিয়ে ঢুকে গুলী চালাতে থাকে। রফিকের এ সময় মাথায় গুলী লেগে মগজ বেরিয়ে যায়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে রফিক ছিলেন সর্বপ্রথম শহীদ। ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পান।

৪) আব্দুস সালাম: গুলীবিদ্ধ হন ২১-২-১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে। হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ৭-৪-১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে বেলা ১১ টায় মৃত্যুবরণ করেন, মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে লাশ কি করা হয়েছিল তা’ কেউ জানেনা। তাঁর কবর কোথায় সেটাও অজানা। পরিচয়: ডাইরেক্ট অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ড্রাষ্টি অফিসে রেকর্ড কিপার পদে চাকরী করতেন। পিতার নাম: মরহুম মো: ফাজিল মিয়া (১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু), মাতার নাম: দৌলতন নেছা (১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু), ৩ বোন ও ৪ ভাইয়ের মধ্যে আব্দুস সালাম ছিলেন সবার বড়। তার সবচেয়ে ছোট ভাই এখনও জীবিত আছেন। জন্ম: ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে, জন্মস্থান: গ্রাম- লক্ষণপুর, ইউনিয়ন- মাতৃভূঞা, থানা- দাগন ভূইয়া, জেলা- ফেণী। তিনি থাকতেন ঢাকা ৩৬ বি’নীলক্ষেত ব্যারাকে।

৫) শফিউর রহমান: শহীদ হয়েছেন ২২-২-১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দ। পরিচয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ক্লাসের প্রাইভেট ছাত্র ও ঢাকা হাইকোর্টের কর্মচারী। বংশাল রোডের মাথায় শহীদ হন (ঢাকা)। পিতার নাম: মরহুম মাহবুবুর রহমান, মাতার নাম: মরহুমা কাণেতাতুন্নেসা, শফিউর রহমানেরর স্ত্রীর নাম আকিলা খাতুন। শফিউরের ছেলের নাম শফিকুর রহমান ও মেয়ের নাম  আসফিয়া খাতুন। বর্তমানে তারা সবাই উত্তরা মডেল টাউনের বাসিন্দা। জন্ম: ২৪ জানুয়ারি ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ, জন্মস্থান: গ্রাম- কোন্নাগর, জেলা- হুগলী, রাষ্ট্র- ভারত। ঢাকার ঠিকানা: হেমেন্দ্রনাথ রোড, ঢাকা। ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় রাষ্ট্রভাষার মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন শফিউর। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ভাষা আন্দোলনের ছাত্র-জনতার মিছিলের ওপর গুলী চালায়। পুলিশের গুলীতে রক্তাক্ত হন শফিউর রহমান। পেছন থেকে গুলীবিদ্ধ হয়ে তাঁর কলিজা ছিড়ে গিয়েছিল। ঐ দিনই সন্ধ্যা ৬টায় তিনি শাহাদত বরণ করেন। ১৯৯০ সালে শহীদ শফিউর রহমান কে মরণোত্তর একুশে পদক দেয়া হয়। 

৬) আব্দুল আউয়াল: শহীদ হয়েছেন ২২-২-১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দ। বর্তমান ঢাকা রেল হাসপাতাল কর্মচারী সংলগ্ন এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর মোটর গাড়ীর নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু)। পরিচয়: রিকশা চালক (আব্দুল আউয়াল বিবাহিত। ৬ বছরের একটি কন্যাও ছিল নাম বসিরণ)। পিতার নাম: মো: আব্দুল হাশেম, জন্ম: ১১ মার্চ ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ (আনুমানিক), জন্মস্থান: ১৯ নং হাফিজুল্লাহ রোড, ঢাকা।

৭) মো: অহিউল্লাহ: শহীদ হয়েছেন ২২-২-১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দ। ঢাকার নবাবপুর এলাকার বংশাল রোডের মাথায় সশস্ত্র পুলিশের গুলীতে নিহত হন এবং তার লাশ পুলিশ অপহরণ করে। পরিচয়: শিশু শ্রমিক, পিতার নাম: হাবিবুর রহমান, পিতার পেশা: রাজ মিস্ত্রি, জন্ম- ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ (আনুমানিক), জন্মস্থান- অজ্ঞাত।

৮) অজ্ঞাত বালক: শহীদ হয়েছেন ২২-২-১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দ, মৃত্যু: সম্ভবত কার্জন হল এলাকায় মোটর গাড়ী দুর্ঘটনায়, পরিচয়: সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।

২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে যে শোক মিছিল বেরিয়েছিল এই অজ্ঞাতনামা বালক এই মিছিলে অংশ নিয়েছিল। মিছিলটিকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য মিছিলের মধ্যখানে তৎকালীন সশস্ত্র বাহিনী ট্রাক চালিয়ে দিলে এই অজ্ঞাতনামা বালকটি সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলনে যে সব ছাত্র, জনতা, সাধারণ মেহনতি মানুষ জীবনকে বাজী রেখে, তুচ্ছ জ্ঞান করে নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা, মায়ের ভাষাকে ছিনিয়ে এনেছেন ইতিহাসের যুগসন্ধিক্ষণে তাঁদের আমরা আজ হৃষ্ট চিত্তে অভিবাদন জানাই।

আমাদের মহান বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ইউনোস্কোর সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রূপে ঘোষণা করা হয়।

ইউনেস্কোভুক্ত বিশ্বের ১৮৮টি দেশে ২১ ফেব্রুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” রূপে পালনের মধ্য দিয়ে আমাদের মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালবাসা ও অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা জানিয়ে চরম আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এটি সমগ্র বাঙালি জাতির গর্বের বিষয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির জাগ্রত চেতনার পথ ধরেই ১৯৭১ সালে এসেছে আমাদের স্বাধীনতা। এদেশের বুকে লেখা হয় নতুন ইতিহাস, শুরু হয় রক্ত অক্ষরে লেখা ভাষা আন্দোলনের নতুন অধ্যায়। বর্তমানে “একুশ” শব্দটি কিংবদন্তীর খ্যাতি পেয়েছে। এটি বাঙালির জীবন দর্শন এবং বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস। ৫২’র একুশ বাঙালিকে দিয়েছে আপন সভ্যতা অবিস্কারের মহিমা। একুশে ফেব্রুয়ারির মাধ্যমেই আমরা অজর্ন করেছি স্বাধিকার আন্দোলনের চেতনা।

মহান বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে বীর শহীদদের গৌরবজ্জোল ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে।

লেখক : সাহিত্যিক, গবেষক, ইতিহাসবিদ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ