ঢাকা, শনিবার 24 February 2018, ১২ ফাল্গুন ১৪২৪, ৭ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিকালে পা ফেলার জো নেই বইমেলায় 

ইবরাহীম খলিল : অমর একুশে বইমেলা প্রায় শেষ সময় পার করছে এখন। এবারের মেলায় গত কয়েক বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুপ্রহর ছিল। শুক্রবার সকালে মেলার সপ্তম শিশু প্রহরে শিশু কিশোরদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বাবা মায়ের হাত ধরে তারা মেলায় এসেছেন আর কিনেছেন নতুন সব বই। কচিকাচার মিলন মেলায় এদিন বেচাকেনাও হয়েঠে অন্য যে কোন শিশু প্রহর থেকে বেশি। ছুটির দিন হওয়ায় বিকালেও সব বয়সী মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে পা ফেলার জো নেই। মেলায় আসাদের বেশির ভাগ মানুষ বই কিনে ফিরেছেন। 

অন্য প্রকাশের আলা উদ্দিন টিপু বলেন, বেচাকেনা ভালোই চলছে। শিশুপ্রহর হলেও সব বয়সীরাই সকালের মেলায় হাজির হয়েছেন। তারা বইও কিনছেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে আসা ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী বলেন, মেলাতো প্রায় শেষ দিকে। তাই সময় সুযোগ করে চলে এসেছি। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে এসেছি। আর আইয়ুব আলীর স্কুল পড়ুয়া তৃতীয় শ্রেণির সন্তান আফসার হোসেন বলেন, মেলা থেকে দুটি বই কিনেছি। ছোট বোনের জন্যও একটা কিনেছি।

বরাবরের মতো ছুটির দিনের অপেক্ষায় থাকেন লেখক-প্রকাশকরা। তাদের প্রত্যাশা, ছুটির দিনে অন্যদিনের তুলনায় বই বিক্রি বেশি হবে। এ দিন পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় হবে জেনে প্রকাশনাগুলো পাঠক টানতে ইতোমধ্যে হাতে নিয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। এসব স্টলের সামনে জনপ্রিয় লেখকদের ছবি ও লোগো সংবলিত প্ল্যাকার্ড, লালগালিচা এবং লাল-সবুজ রঙের কার্পেটসহ বিভিন্ন আয়োজন চোখে পড়ার মতো।

‘ভূতের রাজা গ্রেফতার, গ্রন্থের লেখক সাংবাদিক ও আইনজীবী মিয়া হোসেন বলেন, শিশুদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই বইটি লেখা হয়েছে। বিক্রিও চলছে ভাল। ‘ছন্দে ছড়ায় শব্দের মিছিল, নামের বইয়ের লেখক সফি উল্লাহ আনসারী জানান, মেলায় এবার সবচেয়ে বেশি চলছে শিশুদের বই। বিশেষ করে ছড়া আর রূপ কথার বই শিশুদের বেশি পছন্দ বলে মনে করেন তিনি। মেলা প্রাঙ্গনে দেখা হয় সরকারের অতিরিক্ত সচিব শিশু সাহিত্যিক ছড়াকার ফারুক হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, এবারের বই মেলায় তার তিনটি বই এসেছে। সবগুলোই শিশুদের জন্য লেখা। এর মধ্যে রয়েছে ‘ছোট ছোট ছড়া’, ‘৮ শ’ ছড়া’ এবং পানামা রহস্য। বই গুলো বিক্রি ভালই চলছে বলেও জানান তিনি। 

এদিকে দুপুরের পর থেকেই মেলায় সব বয়সী মানুষের ভীড় বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে কেনাবেচাও। প্রতিদিন আসছে নতুন নতুন বই। জানা গেছে.বইমেলায় ২২ তারিখ পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৬২টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে কবিতার বই। আর মেলার ২২তম দিনে নতুন বই এসেছে ১০৩টি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন,সব বয়সের পাঠক আসছেন এবং আমাদের বই কিনছেন। বিক্রির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, নবী করিম (স.) এর ওছিয়ত, আল কুরআনে বিজ্ঞান এ তিনটি বইয়ের প্রতি পাঠকদের চাহিদা বেশি।

বইমেলায় তবুও আছেন তারা : 

এদিকে বেঁচে না থাকলেও মেলায় প্রধান্য ছিল জনপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ, শওকত আলীসহ কয়েকজন লেখকের বই। মেলাজুড়ে বিভিন্ন স্টলে শোভা পায় খ্যাতিমান লেখকদের ছবি। খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক শওকত আলী মারা গেছেন গত ২৫ জানুয়ারি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করে ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশের স্টলের সামনে গেলেই আপনি মুখোমুখি হবেন ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ খ্যাত এই লেখকের সঙ্গে। স্টলে শোভা পায় শওকত আলীর বড় ছবি। একই সঙ্গে রয়েছে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ছবিও। এছাড়া বাংলা একাডেমির মূল ভবনের পাশের চত্বরটির নাম দেয়া হয়েছে কথাশিল্পী শওকত আলী চত্বর। কাকলী প্রকাশনী ও অন্বেষা প্রকাশনের স্টলে রয়েছে তুমুল জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ছবি। অন্যপ্রকাশের স্টলেও শোভা পাচ্ছে হুমায়ূন আহমেদের বড় ছবি।

কয়েকটি স্টলের বিক্রয়কর্মীরা জানান, হুমায়ূন আহমেদের বইগুলোর বিক্রি এখনও বেশ ভালো। এছাড়া সৈয়দ শামসুল হক ও শওকত আলীর বইগুলো পাঠকরা খুঁজে খুঁজে কিনছেন।

বিক্রির শীর্ষে শিশুদের বই : 

অন্যান্য দিনগুলোতে পাঠকেরা বিচ্ছিন্নভাবে আসলেও ছুটির দিন হওয়ায় গতকাল স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মেলায় আসার সংখ্যাটাই বেশি ছিল। আনন্দ উল্লাসের পাশাপাশি নিজেদের পছন্দের বইটি কিনেছে শিশুরা। তবে পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ভূতের বই। এছাড়াও আগামীর প্রযুক্তি আর বিজ্ঞান বিষয়ক বইগুলোও আগ্রহ নিয়ে কিনছে শিশুরা।

অমর একুশে বইমেলার বাংলা একাডেমি অংশে গিয়ে চোখে পড়ে শিশুদের বইয়ের স্টলগুলোতে অভিভাবক ও শিশুদের ভিড়। প্রায় প্রতিটি স্টলে ১০-১৫ জন দাঁড়িয়ে বই দেখছেন। প্রকাশক ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলায় শিশুদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে- টোনাটুনির গল্প, ভূতগুলো খুব দুষ্টু ছিল, অনেকগুলো ভূতের গল্প, ভূতের নাম হাবাগঙ্গারাম, পরিটি উনিশ দিন ছিল, হালুম, ‘ইশপের গল্প, আলীবাবা ৪০ চোর, গল্পগুলো ভয়ংকর, জমিদার বাড়িতে ভয়ংকর ভূত, হরতালের ভূতবাবা, ভূত ও পরী, ভয়, তুমি কেমন বুদ্ধিমান, বিজ্ঞান কি বলে, নিজে নিজে বিজ্ঞানী হও, নলেজ এনসাইক্লোপিডিয়া, রবি কিশোর, সাগর তলের মৎস্য কন্যা, সিন্ড্যারেলা ইত্যাদি বইগুলো। মেলায় স্থাপিত শিশু একাডেমির স্টলেও ছিল শিশু আর অভিভাবকদের ভিড়। স্টলটি থেকে নিজেদের পছন্দমতো বই কিনছে শিশুরা। আবার অনেক অভিভাবককে দেখা গেছে তাদের পছন্দমতো শিশুদের বই কিনে দিতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ