ঢাকা, শনিবার 24 February 2018, ১২ ফাল্গুন ১৪২৪, ৭ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রূপগঞ্জে কলেজ শিক্ষার্থী এমরানকে হাত-পা ও গলা কেটে হত্যা

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার হারিন্দা এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী এমরান মোল্লা (২৫) কে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা বালুর টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরেই হাত-পা ও গলা  কেটে হত্যা করেছে বলে নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। এ ঘটনায় নিহত এমরান মোল্লার বড় ভাই মোস্তফা মোল্লা বাদী হয়ে ৭ জনকে নামীয় ও অজ্ঞাত ২ থেকে ৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে হারিন্দা এলাকার কোট বাড়ির গোপ এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর মাছের ঘেরের ঝোপ থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই লাশটি এমরান মোল্লার লাশ বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা। নিহত এমরান মোল্লা উপজেলার হারিন্দা এলাকার মৃত আব্দুল মবিন মোল্লার ছেলে। এমরান মোল্লা স্থানীয় আব্দুল হক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী। 

রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জোবায়ের জানান, ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হারিন্দার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন এমরান মোল্লা। যথাসময়ে বাড়িতে ফিরে না আসার কারণে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে গত ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন। ডায়েরি করার পর পুলিশ আশ-পাশের থানাসহ বিভিন্ন স্থানে এমরান মোল্লার বিষয়ে ম্যাসেস দেয়া হয়। এ বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে হারিন্দা এলাকার কোট বাড়ির গোপ এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীতে মাছ ধরার সময় মাছের ঘেরের খুটি উঠাতে গিয়ে একটি পঁচা-গলা লাশ ভেসে উঠে। ওই লাশটি এমরান মোল্লার লাশ বলে সনাক্ত করেন বড় ভাই মোস্তফা মোল্লা। গলিত লাশের সঙ্গে মাথার কোন অস্তিত্ব নেই। কাঁধ হতে দুই হাত নেই। নেই হাটুর নিচ থেকে দুই পাঁ। লাল ও কালো বৈদ্যুতিক তাঁর দিয়ে বাঁধা ছিলো। পরে পুলিশ লাশটি ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন ও ডিএনও টেস্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে, এ ব্যপারে নিহত এমরান মোল্লার ভাই মোস্তফা মোল্লা বাদী হয়ে ৭ জনকে নামীয় ও অজ্ঞাত ২ থেকে ৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়,  শীতলক্ষ্যা নদীর পারের হারিন্দা এলাকায় ওমেরা ফুয়েল নামে একটি প্রতিষ্ঠান বেশ কয়েক বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। আর জমি ক্রয়, জবরদখল ও বালু ভরাট কাজে সহযোগিতা করতে একটি বাহিনী রয়েছে। ওই বাহিনীতে নেতৃত্বে রয়েছে, হারিন্দা এলাকার ফটিক মিয়ার ছেলে সজীব মিয়া, দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রমজান, হরজু মিয়ার ছেলে দোহাই, নুর মোহাম্মদের ছেলে মিছির আলী, দুলাল মিয়া, আবু সাঈদের ছেলে রাজিব মিয়া, পিতলগঞ্জ এলাকার মৃত কাশেম মিয়ার ছেলে রাজিব হোসেন। সঙ্গে রয়েছে নিহত এমরান মোল্লাও। এরা সকলেই ইয়াবাসক্ত। প্রায় সময়ই তারা হারিন্দা এলাকার কোট বাড়ির গোপ এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ইয়াবা সেবন করে আড্ডা মারতো। 

মামলার বাদী মোস্তফা মোল্লা জানান, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল হত্যাকারীদের আড়াল করতে ও হত্যার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। নিখোঁজের মাস খানেক আগেও ওমেরা ফুয়েল কোম্পানির বালু ভরাটের বিলের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দুলাল, রমজান সজীবসহ তাদের লোকজনের সঙ্গে এমরান মোল্লার বাকবিতন্ডা ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এছাড়া নিখোঁজের পর সুরিয়াবো এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে সালাউদ্দিন (বর্তমানে জেল হাজতে) তাদের জানিয়েছিলেন, প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা এমরান মোল্লাকে হত্যার পর গুম করার উদ্দেশ্যে ৩ টুকরা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে পুতে রাখা হয়েছে। এরপর পুলিশসহ তারা নদীর বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও পায়নি। প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরাই বালুর টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরেই হাত-পা ও গলা কেটে হত্যা করেছে বলে মোস্তফা মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।  

মা মফিজা বেগম জানান, হারিন্দা এলাকার কোট বাড়ির গোপ এলাকার শীতলক্ষ্যা পাড়ে সব সময় ওই বাহিনীর সদস্যরা আড্ডা মারতো। সেখানেই তার ছেলে এমরান মোল্লার লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এমরানকে নেশার জগতে ঢুকিয়ে নষ্ট করে ফেলেছে এরাই। 

স্থানীয় হারুন মোল্লা ও সানাউল্লাহ মোল্লা জানান, তারা শীতলক্ষ্যা নদীতে মাছের ঘের থেকে মাছ ধরতে গিয়ে একটি গাছের ডাল টানতেই লাশটি ভেসে উঠে। ধারণা করা হচ্ছে, পানির তলে খুটি গেড়ে, ওই খুটিতে বেঁধে রাখা হয়েছিলো গুম করার উদ্দেশ্যে। 

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানিয়েছেন, এ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্রবাজী, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত এ বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনার পর থেকেই এদের এলাকায় দেখা যাচ্ছেনা। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়ে যাবে। 

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ কাজ করছে। 

চাঁদাবাজ আটক

নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১১ এর একটি দল। শুক্রবার সকালে উপজেলার তারাবো এলাকার তালুকদার ক্যামিকেল এর সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। আকটকৃত মাসুদ ওরফে কুত্তা মাসুদ উপজেলার উত্তর তারাবো এলাকার তমিজউদ্দিনের ছেলে।

র‌্যাব-১১ এর পরিদর্শক (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, মাসুদ ওরফে কুত্তা মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন ওয়েল মিল থেকে তেল নিয়ে আসা-যাওয়ার সময় ট্রাক চালকদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা নিয়ে থাকে বলে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ ছিল। গত ২২ ফেব্রয়ারি বিকেলে শবনম ওয়েল মিল লিমিটেড নামে ওয়েল মিল লিমিটেডের ট্রাক তেল নিয়ে যাওয়ার সময় মাসুদ ওরফে কুত্তা মাসুদসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ট্রাক চালক সাইফুল ইসলাম কাছ থেকে  ৫’ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় মাসুদ ওরফে কুত্তা মাসুদসহ তার লোকজন চালক সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। এ ঘটনায় শবনম ওয়েল মিল লিমিটেডের কর্মকর্তা হাছিবুল ইসলাম একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে মাসুদ ওরফে কুত্তা মাসুদকে চাঁদাবাজির নগদ ৯’ হাজার টাকাসহ আটক হয়। পরে আটককৃতকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ্য করা হয়। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ