ঢাকা, শনিবার 24 February 2018, ১২ ফাল্গুন ১৪২৪, ৭ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবহার

এ্যাপোলোর মতো বিশেষায়িত হাসপাতালেও যদি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং রি-এজেন্ট ব্যবহৃত হয় তাহলে রোগীরা যাবেন কোথায়? হাসপাতেলের মালিক ও চিকিৎসকদের সবাই এমন বিবেক এবং বিবেচনাহীন তাও কি আমাদের মেনে নিতে হবে? না, আমরা এতোটা নিচে নামতে চাই না। তবে বিভিন্ন হাসপাতালসহ চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব খবর পাওয়া যায় তা সত্যই হতাশাব্যঞ্জক এবং দুর্ভাগ্যজনক। গত মঙ্গলবার ইত্তেফাকসহ কয়েকটি কাগজে এমনই একটি খবর ছাপা হয়। ঘটনা তার আগের দিন সোমবারের। ঢাকার বসুন্ধরায় অবস্থিত এ্যাপোলো হাসপাতালের নিজস্ব ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহৃত রি-এজেন্ট পায় র‌্যাব-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ্যাপোলোতে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-এর টিমটি। টিমে ছিলেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম, র‌্যাব-১ এর মেজর মঞ্জুর মেহেদী ইসলাম এবং এএসপি নাজমুল হক।
অভিযান পরিচালনাকালে র‌্যাব-এর টিম সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও রি-এজেন্ট দেখতে পায়। এ ওষুধ এ্রাপোলোতে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসায় এবং রি-এজেন্ট বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহৃত হতো। ভক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫২, ৫৩ এবং দ্য ড্রাক এক্ট-১৯৪০ এর ১৮ ও ২৭ ধারা মোতাবেক মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত এবং রি-এজেন্ট দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপরাধে এ্যাপোলো হাসপাতাল ও তাদের নিজস্ব ফার্মেসিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে র‌্যাব-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। উল্লেখ্য, এই বিশেষায়িত হাসপাতালটিকে একই রকম অপরাধের জন্য এর আগেও জরিমানা করা হয়। অথচ  এদেশের অবস্থাপন্ন রোগীরা কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার বিনিময়ে হাসপাতালটিতে সুচিকিৎসার আশায় ভর্তি হন। কিন্তু চিকিৎসার নামে রোগীদের দেয়া হয় মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহার করা হয় অফডেটেড রি-এজেন্ট। এমন ভয়ঙ্কর এবং বিনাশী খবর আমাদের শুনতে হচ্ছে কেন বারবার? তাও আবার এ্যাপোলোর মতো একটি ব্যয়বহুল এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে!
চিকিৎসা একটি সেবামূলক খাত। কিন্তু একশ্রেণির অর্থপিপাসু এবং কিছুসংখ্যক চিকিৎসক একে নিছক বাণিজ্য হিসেবে ধরে নিয়েছেন। এদের আসল লক্ষ্য বাণিজ্য। মানুষের সেবা নয়। কেউ কেউ চিকিৎসকের এপরোন পরে অন্যায়ভাবে এবং প্রতারণা করে বিপন্নের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। অনেক সময় দরকার নেই তবু কেবল টাকা নেবার জন্য রোগীকে আইসিইউ’তে রেখে বিল বাড়ানো হয়। এমন অভিযোগ এ্যাপোলোসহ আরও নামিদামি অনেক হাসপাতালের বিরুদ্ধে রয়েছে। এই প্রতারণা কেবল রোগীর জন্য অর্থের অপচয়ই নয়; অনেক সময় তা জীবনঘাতীও হয়। তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি। এছাড়া মাত্র ৫ লাখ টাকা জরিমানা এ্যাপোলোর মতো হাসপাতালের জন্য নস্যিমাত্র। এ টাকা এমন হাসপাতালে দু’-একদিন রেখেই একজন রোগীর কাছ থেকে আদায় করা হয়। তাই চিকিৎসাবণিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ জরিমানার অর্থ আরও কয়েক গুণ বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া এমন অরাজকতা কেবল এ্যাপোলোতেই নয়, আরও অনেক হাসপাতালে একই প্রতারণা করে রোগীদের কাছ থেকে যথেষ্ট অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আমরা এমন অবস্থার অবসান চাই দ্রুত। বিপন্ন মানুষের চিকিৎসা নিয়ে অমানবিক বাণিজ্য এবং প্রতারণা চলতে দেয়া যায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ