ঢাকা, শনিবার 24 February 2018, ১২ ফাল্গুন ১৪২৪, ৭ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গরু বিক্রির টাকা ছিনতাইয়ের মূল হোতা এএসআই আব্দুর রউফ বিশ্বাস নানাভাবে আলোচিত ও সমালোচিত

খুলনা অফিস : গরু ব্যবসায়ী গোলাম রসুল লিটনের গরু বিক্রির টাকা ছিনতাই হওয়া ঘটনার মূল হোতা ডুমুরিয়া থানার এ এস আই (নি.) আব্দুর রউফ বিশ্বাস নানাভাবে আলোচিত ও সমালোচিত। সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে এই এএসআই আব্দুর রউফ ঝিনাইদহে কর্মরত থাকাবস্থায় সাতক্ষীরার তিন কেজি সোনার বিস্কুট ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনি খেয়েছিল। কিন্তু পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সমর্থ হয়।
সাতক্ষীরার বহুল প্রচারিত সব পত্র-পত্রিকায় ২০১৬ সালের সংবাদের শিরোনাম ছিল এই এএসআই আব্দুর রউফ বিশ্বাস। ঘটনাটি ছিল কেশবপুরের জনৈক বিপ্লব চ্যাটার্জি খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে তিন কেজি সোনা নিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এই সময় ঝিনাইদহ জেলায় কর্মরত এবং ছুটিতে থাকা আব্দুর রউফ বিশ্বাস ও তার সহযোগী কনস্টেবল মারুফ পিছু নেয়। বাসটি সাতক্ষীরা যাবার পথে তালায় নিজেদের ডিবি পুুলিশ পরিচয়ে বিপ্লবকে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। এএসআই রউফ আর কনস্টেবল মারুফ তাকে মোটরসাইকেলের মাঝে বসিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিতে চেষ্টা করে। অবস্থা বুঝে বিপ্লব বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করলে এলাকাবাসী তাদের তিনজনকে ধরে গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনির এক পর্যায়ে রউফ ও মারুফ নিজেদের পুলিশ পরিচয়ে দিয়ে বিপ্লবকে সোনা পাচারকারী বানায়। পরে তালা থানার তৎকালীন ওসি মহিবুল এসে তিনজনকেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বিপ্লব চ্যাটার্জির কাছে থাকা সোনা পেয়ে ইয়াবা হিসেবে দেখানো হয়। আর ছুটিতে থাকাকালে অন্য জেলায় অভিযান করার জন্য রউফ ও মারুফের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এএসআই রউফ বিশ্বাস সব ধামাচাপা দিয়ে তদবিরের জোরে ডুমুরিয়াতে বদলি হয়ে আসে। তবে তার অপরাধ কর্মকাণ্ড ছিল সাতক্ষীরার সোনা পাচারকারীদের নিয়ে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গরু ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই হলেও পুলিশ সেদিন কোন মামলা নেয়নি। এজাহারের ডিবি পুলিশ পরিচয় থাকার কথাও নেই। পুলিশ সুপার নিজাম উল হকের একক প্রচেষ্টা আর রাজনৈতিক নেতাদের পুলিশ বিরোধী অবস্থানের কারণে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে সাক্ষীদের সাক্ষ্যতে সব বেরিয়ে আসে। এই ঘটনায় যে চারজন গ্রেফতার হয়েছে তার মধ্যে রাজু ঘোষ এএসআই রউফ বিশ্বাসের সোর্স এবং দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ধারী। এদিকে পুলিশের পক্ষ হতে জানানো হয় যে, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত অপর আসামী ডুমুরিয়া থানায় কর্মরত এএসআই (নি.)/১০৬ আব্দুর রউফ (৩৫), পিতা মো. রফিকুল ইসলাম, গ্রাম ও থানা-পাটকেলঘাটা, জেলা-সাতক্ষীরাকে ২১ ফেব্রুয়ারি ২৩.৫৫টার দিকে ডুমুরিয়া থানা হতে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ডুমুরিয়া থানাধীন আরাজী ডুমুরিয়া গ্রামস্থ বেসরকারি ভাড়াটিয়া বাসা হতে লুণ্ঠনকৃত তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতে সোপর্দপূর্বক তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখসহ লিপিবদ্ধ করানো হয়েছে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ও গ্রেফতারকৃত পুলিশ সদস্য (১) এমসআই (নি.)/১০৬ মো. আ. রউফ, (২) কং/২০৩১ মো. নাদিম শিকদারদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল ইউপি ৫নং আটলিয়া থানা হতে আনুমানিক ১৫ কি.মি. পশ্চিম দিক, মৌজা নং-৯০, ঘটনাস্থল-ডুমুরিয়া থানাধীন চাকুন্দিয়া মাদরাসা থেকে আনুমানিক ১০০ গজ দূরে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ওপর। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কর্তৃক তদন্ত তদারকি করা হয়েছে।
দুই পুলিশসহ চারজনের আদালতে জবানবন্দী
খুলনার ডুমুরিয়ায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশসহ চারজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার খুলনার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তারা এ জবানবন্দী দেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দী রেকর্ড করেন। এরপর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাবিন’র আদালতে হাজির করা হলে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। আদালতে তারা এ ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে দুই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনতাই করা ৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
আসামীরা হলেন-ডুমুরিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবদুর রউফ বিশ্বাস, কনস্টেবল নাদিম, ট্রাক চালক মনির সরদার ও সহযোগী রাজু ঘোষ। ট্রাক চালক মনির সরদার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামালনগর গ্রামের মোকসেদ সরদারের ছেলে, রাজু ঘোষ সাতক্ষীরা সদরের পুরাতন সাতক্ষীরা গ্রামের স্বপন ঘোষের ছেলে।
ডুমুরিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, ১৫ ফেব্রুয়ারি ডুমুরিয়ার চুকনগরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ট্রাকের গতিরোধ করে গরু ব্যবসায়ী গোলাম রসুল ওরফে লিটনের কাছ থেকে ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা ছিনতাই হয়। সাতক্ষীরা সদর থানার নলকুড়া গ্রামের আব্দুল কাদের সরদারের ছেলে গরু ব্যবসায়ী গোলাম রসুল ওরফে লিটন ও তার সহযোগীরা ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়ার হাটে ২২টি গরু বিক্রি করে ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ট্রাকযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। উপজেলার চুকনগর খুলনা মহাসড়কের সাতক্ষীরা ফুডস থেকে মাত্র ৫শ’ গজ পৌঁছালে দু’জন লোক সাদা পোশাকে একটি নীল রংয়ের মোটরসাইকেলে ট্রাকটির সামনে গতিরোধ করে। ট্রাকে মাদক আছে বলে তারা তল্লাশি চালাতে থাকেন। তারা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অস্ত্র দেখিয়ে গরু ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে খুলনার দিকে চলে যান। ঘটনার পরদিন অজ্ঞাতদের নামে থানায় মামলা করেন গরু ব্যবসায়ী গোলাম রসুল (নং-১৪)। কনস্টেবল দিপঙ্কর রায়কে ক্লোজড : ডুমুরিয়া থানার দিপঙ্কর রায় নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে ক্লোজড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারের নির্দেশে দিপঙ্করকে ক্লোজড করা হয়েছে বলে জানা যায়।
ডুমুরিয়া থানার ওসি মো. হাবিল হোসেন বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার চার আসামীর সাথে কোর্টে দেখা করা ও তাদের সঙ্গ দেয়ার কারণে পুলিশ কনস্টেবল দিপঙ্কর রায়কে (কনস্টেবল নং-২০৫৬) ক্লোজড করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় নয়, অন্য একটি কারণে পুলিশ কনস্টেবল দিপঙ্কর রায়কে বৃহস্পতিবার ক্লোজড করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ