ঢাকা, শনিবার 24 February 2018, ১২ ফাল্গুন ১৪২৪, ৭ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ওএমএস’র আটার বাজারে প্রভাব নেই

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীতে সরকারিভাবে খোলাবাজারে আটা বিক্রি (ওএমএস) চলমান রয়েছে। এই আটা বিক্রি করা হচ্ছে ১৭ টাকা দরে। কমমূল্যে আটা বিক্রির পরও দ্বিগুণ দামে বাজারে আটা বিক্রির কমতি নেই। ক্রেতারা আগের থেকে ওএমএস’র আটা বিক্রির দিন না জানায় আটা ক্রয়ে পড়ছে বিভ্রান্তিতে। খুব শিগগিরই আটার বাজার নিয়ন্ত্রণে আসার আশা করছেন খাদ্য কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, মহানগরীতে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ওএমএস’র মাধ্যমে ন্যায্য দামে আটা বিক্রি করা হচ্ছে। মহানগরীর সর্বমোট তালিকাভুক্ত ৭৭ জন ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে এই আটা। মহানগরীতে প্রতিদিন ২০ জন বিক্রি করছে। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে এক মেট্রিক টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও আটা বিক্রি না হলে খাদ্য বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে নিজেদের কাছে রেখে দেয় বলেও জানা গেছে। খাদ্য বিভাগের নির্ধারিত রোস্টারের মাধ্যমে দৈনন্দিন ২০ জন নির্ধারিত ডিলার এই আটা বিক্রি করে। একই সাথে ডিলারদের কাছে জমা থাকা আটাও বিক্রি করে। খোলাবাজারে বিক্রির জন্য এই আটার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ টাকা। জনপ্রতি ৫ কেজি করে আটা ক্রয় করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট ডিলাররা তাদের আটা বিক্রির দিন হিসাব করে নিয়ে আসে ঠিকই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এলাকার হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষেরা বিষয়টি জানতে পারে না। সামনে পড়লেই বুঝতে পারে আটা বিক্রি হচ্ছে। কেননা ডিলারদের ওখানে কোন দিন আটা বিক্রি করা হবে তা আগে থেকে জানানো হয় না ক্রেতাদের। আর বরাদ্দকৃত আটা খাদ্য বিভাগের কাছে মজুদও থাকছে না। তবে এই আটা যাচ্ছে কোথায় এমন প্রশ্ন যেন জনমনে? এদিকে নগরীর বাজারগুলোতে আটা প্রকারভেদে বিক্রি করা হচ্ছে ২৬ থেকে ৩৬ টাকা পর্যন্ত। যা ওএমএস’র আটার দামের দ্বিগুণ।
নগরীর বড় বাজারের খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ী মো. আজিজুল হক বলেন, লুজ সাদা আটা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৬ থেকে ২৮ টাকা এবং প্যাকেট আটা ৩৪-৩৬ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আর ওএমএস’র আটার প্রভাব তিনি দেখছেন না।
নগরীর মিস্ত্রিপাড়া এলাকার দিনমজুর কেরামত আলী বলেন, কোথায় কবে আটা বিক্রি করা হয় তা তিনি জানেন না। আর ওই আটা বিক্রি হচ্ছে তা দোকানে তো আটার দাম কমেনি। বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ওএমএস’র আটা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কে হোসেন ট্রেডার্সের সুমন শেখ বলেন, তারা রোস্টার অনুযায়ী নির্ধারিত দিন আটা এনে বিক্রি করেন। আর আটা থাকলে তা খাদ্য বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে তা পরে বিক্রির জন্য রেখে দেন।
মেসার্স এ এন্ড টি ট্রেডার্সের মালিক লুৎফর কবীর বলেন, খাদ্য বিভাগ থেকে রোস্টার অনুযায়ী আটা আনা হয়। তবে একদিন বিক্রি করার পরে কবে বিক্রি করা হবে তা খাদ্য বিভাগের রোস্টারে থাকে। আটা বিক্রির পরে খাদ্য বিভাগে গেলে জানা যায়। খুলনা জেলা বাজার কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, ওএমএস’র আটার তেমন কোন প্রভাব তিনি বুঝতে পারছেন না।
খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন বলেন, ওএমএস’র মাধ্যমে আটা বিক্রির ফলে বাজারে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আর এই আটা বিক্রির জন্য নিয়মানুযায়ী সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কোন ধরনের নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি। আর খুব শিগগিরই আটার বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশা করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ