ঢাকা, রোববার 25 February 2018, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪, ৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবদমন গুম এবং ধরপাকড়ের অভিযোগ

গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল  বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকারের ওপর বাধা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। চলছে গুম, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ধরপাকড়, মানবাধিকার কর্মীদের হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের মত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ২০১৭ সালের মানবাধিকার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ওই রিপোর্টে ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বন্ধ হয়নি। ২০১৭ সালে কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। নিহত হন সমকাল-এর শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম। স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারে অন্যায়ভাবে বাধা সৃষ্টি এবং সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের নিশানা বানানো ও হয়রানি করার লক্ষ্যে সরকার দমনমূলক আইনের প্রয়োগ করে যাচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) নিপীড়নমূলক ধারা বাতিলে মানবাধিকার কর্মীরা বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও শাস্তিমূলক বিধানগুলো অক্ষত রাখা হয়েছে। সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন চালুর যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তা অনলাইনে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারে আরও বাধা সৃষ্টি করবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকার ভীষণভাবে সীমিত। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বৈঠক সমাবেশ আয়োজনের অধিকারে বাধা দেয়া হচ্ছে। বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম) নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় সীমিত রাখা হচ্ছে বেসরকারি সংগঠনগুলোর (এনজিও) তৎপরতাও। অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের ঘটনা ঘটছে নিয়মিতভাবে। এর প্রধান শিকার হচ্ছেন বিরোধীদলীয় সমর্থকেরা। গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের কারও কারও লাশ মিলছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিচার বিভাগের ওপর ক্রমবর্ধমান সরকারি হস্তক্ষেপে উদ্বেগ বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে গত বছরের জুলাইয়ে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা নিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ওই রায়ের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেন। এর ধারাবাহিকতায় নভেম্বরে এস কে সিনহা দেশ ছাড়েন এবং পরে পদত্যাগ করেন।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে যে সব বক্তব্য ও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য শোভন হতে পারে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে গণতান্ত্রিক চেতনা এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মাধ্যমে। তাই স্বাধীন বাংলাদেশে মত প্রকাশে বাধা, অবদমন, গুম ও বিচার বিভাগের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া যায় না। এসব ব্যাপারে সরকারেরও বক্তব্য থাকতে পারে। সে বক্তব্য প্রকাশ পেলে বিষয়গুলো জনগণের কাছে আরও স্পষ্ট হতে পারে। দেশের জনগণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চায়, চায় গণতান্ত্রিক অধিকার। এছাড়া ন্যায় ও সুশাসনও তাদের কাম্য। দেশের রাজনীতি এবং সরকারের কার্যক্রম সেই লক্ষ্যে পরিচালিত হলে সবার মঙ্গল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ