ঢাকা, রোববার 25 February 2018, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪, ৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রাঃ) ইসলাম প্রচারের কথা

চলনবিল বাংলাদেশের সুপরিচিত ও বৃহত্তমবিল। এই বিলের পাশেই গোড়াপত্তন হয়েছেন ও গাঁ নামক গ্রামের। হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রাঃ) একজন ধর্ম প্রাণ বীর পুরুষ ছিলেন। তিনি ইরাকের জিন্দান শহর হতে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে কিছু অনুচারসহ ভারত বর্ষে আসেন। ভারতের রাজধানী দিল্লী হতে ১৫২০ খিষ্টাব্দে সুলতান নাছির উদ্দিন নসরত শাহের আমলে বাংলাদেশে উপস্থিত হন এবং বিভিন্ন স্থান অতিক্রম করে চলনবিলের নওগাঁ নামক স্থানে আসেন।এ সম্পর্কে যে লোককথা প্রচলিত আছে তা এরূপঃ
তখন মানসিংহের ভ্রাতা ভানুসিংহ নামে এক প্রভাবশালী রাজা নওগাঁ শাসন করতেন। তিনি ছিলেন দেব-দেবী ভক্ত ও মুসলমান বিদ্বেষী রাজা। রাজা ভানুসিংহের অত্যাচারে রাজ্যে জনজীবন অতীষ্ঠ ছিল।হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রাঃ) ভানু সিংহ রাজার এহেন অপকর্মের কথা শুনে আর স্থির থাকতে পারলেন না।তাই তিনি একদিন স্বদলবলে বাঘের পিঠে সওয়ার হয়ে নওগাঁ আসেন এবং সরাসরি কালী মন্দিরের সামনে উপস্থিত হন।এখবর শুনে রাজা অগ্নিশর্মা হয়ে দরবেশ দলের সামনে স্বয়ং উপস্থিত হন এবং তাদের মারতে উদ্যত হন।এমন সময় দেখেন দরবেশ দলের সামনে বিশালাকার বাঘ এবং তার পাশেই সর্প। রাজা ভয়ে পলায়ন করেন এবং পরবর্তীতে স্ব পরিবারে নৌকায় চড়ে আত্মবিসর্জন দেন। হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রাঃ) খুব সহজেই নওগাঁ জয় করেন। কথিত আছে রাজার দুই পুত্র জীবিত ছিল, পরে তারা পীর সাহেবের কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রা:) নবদিক্ষিত মুসলিমদের একটা দল গঠন করেন এবং চলনবিলের অঞ্চলে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছান। মুসলমানদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের নামাজ আদায়ের জন্য ১৫২৬খ্রিঃ পৌড়াধিপতি সুলতান নসরত শাহের রাজত্বকালে এবং তার পৃষ্ঠপোষকতায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট এবং চার প্রান্তে চারটি ছোট গম্বুজ আছে। প্রধান গম্বুজের উচ্চতা ২৬ ফুট যাতে খিলানের কাজ করা। মূল মসজিদটির বাইরের দৈঘ্য ৫০ ফুট, প্রস্থ ৩৩.৫ ফুট, উচ্চতা ২২,৫০ ফুট।  মসজিদ সংলগ্ন বারান্দার দৈঘ্য ২৩.৫ ফুট এবং প্রস্থ্য ১১ ফুট। মসজিদের দেওয়ালের পুরুত্ব ৯.০ ফুট। এই মসজিদের ভেতরেই  হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রাঃ) এর মাজার শরীফ অবস্থিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ