ঢাকা, রোববার 25 February 2018, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪, ৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিলুপ্ত হতে চলেছে খেজুর গাছ

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : ব্যাপক নিধন যজ্ঞ ও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ। ইট ও টালী ভাটায় অন্যতম প্রধান জ্বালানি হিসেবে খেজুর গাছ সরবরাহে গত কয়েক বছরে আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে খেজুর গাছ। এক সময় শীতের সকালে খেজুরের মিষ্টি রস ও পীঠা, সন্ধ্যায় রসের পায়েশ ছাড়া যেন জমতইনা। প্রত্যুষে গাছির দল বেরিয়ে পড়ত রস পাড়তে, আর ফিরত কাঁধে ভর্তি রসের ঠিলা, ভাঁড় বা কলস নিয়ে। রস সংগ্রহে গাছির দল শীতের আগমনকে আগাম স্মরণ করিয়ে দিতেন। আর আজ যেন তাদের দেখা মেলাভার। আশঙ্কাজনকহারে গাছ নিধনে ভাটা পড়েছে সংশ্লিষ্টদের কর্মতৎপরতায়। অনেকেই পেশা বদল করে চলে গেছেন ভিন্ন পেশায়। সকালে গাছিরা রস সংগ্রহ করে আনার পর গাছিনী বা তাদের গৃহিণীরা তা প্রক্রিয়া করণ গুড়, পাটালি, পায়েস, পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত থাকতেন। আর আজ যেন চির চেনা গ্রামের সেসব অচেনা এক ইতিহাস।
জানা গেছে, জনসংখ্যার অস্বাভাবিক আধিক্য’র ফলে তাদের বাড়তি ঘর-বাড়ি তৈরীতে ও আধুনিক সভ্যতার সাথে পাল্লা দিয়ে নগরায়নে ইটের যোগান মেটাতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ইট ও টালীর ভাটা। দামে কম ও জ্বালানী হিসেবে ভাল হওয়ায় ইট ভাটা মৌসুমে ব্যাপকহারে নিধন হচ্ছে খেঁজুর গাছ। ইট ভাটায় জ্বালানী হিসেবে কাঠের ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভাটা মালিকরা অবাধে বিভিন্ন কাঠের সাথে ব্যবহার করছে খেঁজুর গাছ। লোনা পানির জনপদে কৃষি ও কৃষকদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে নিধন হচ্ছে মিষ্টি রসের ভান্ডার খেজুর গাছ। কোনো কোনো এলাকায় কিছু গাছের অস্থিত্ব থাকলেও গাছির অভাবে নিদারুন অবহেলা আর অযত্নে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ