ঢাকা, রোববার 25 February 2018, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪, ৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সড়ক-সেতুর সংস্কার নেই জনসাধারণের নিত্য দুর্ভোগ

গত বন্যায় সেতুটি দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে গেছে -সংগ্রাম

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : চলনবিলের বিভিন্ন রাস্তা ঘাটের মধ্যে অপরিকল্পিত সেতু, ব্রিজ নির্মান করা হলেও রাস্তার সংযোগ বিলীনের পথে। অনেক ব্রিজ, কালভার্ট, সেতুর রাস্তায় মাটি বর্ষার ভাঙ্গনের কবলে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সংস্কারের তেমন কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সুজানগর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে এবং হাসামপুর গ্রামে খালের মধ্যে কোনো সংযোগ সড়ক ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি সেতু। সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না সেতুগুলো।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের ওয়াপদা খালের মধ্যে ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে হাসামপুরে খালের সেতু নির্মাণ করা হয়। পিআইও কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে নারায়ণপুর গ্রামে খালের মধ্যে দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট সেতু নির্মাণে ব্যয় হয় ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং অপরটি হাসামপুর গ্রামের খালের ওপর প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৬ সালে কোনোরকম সংযোগ সড়ক ছাড়াই। এলাকাবাসী জানান, যে খালগুলোর মধ্যে সেতুগুলো নির্মাণ করা হয়েছে, তার একটি সেতুর এক পাড়ে নাজিরগঞ্জ থেকে নগরবাড়ী ও কাশিনাথপুর যাওয়ার প্রধান সড়কের পাশে নারায়ণপুর গ্রাম।
অন্য পাড়ে রয়েছে পদ্মা তীরবর্তী বরখাপুর, বুলচন্দ্রপুর গ্রাম এবং অপর সেতুটির এক পাড়ে রয়েছে হাসামপুর ও অন্যপাড়ে রয়েছে বারভাগিয়া গ্রাম। মঙ্গলবার দেখা যায়, সেতু দুটির দু'দিকেই খালের পানি থাকায় সেতুতে ওঠার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সেতুটি একেবারেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। নারায়ণপুর গ্রামের আক্কাজ আলী বলেন, ‘পানির মধ্যে খামোখাই সেতু বানাইয়া ফালাইয়া থুইছে।’ হাসামপুর গ্রামের রোজিনা খাতুন বলেন, 'যে সেতু দিয়ে কোনো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে পারবে না, এমন সেতু বানাইয়া লাভ কী?' স্থানীয় নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খান বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতু দুটি মানুষের কোনো উপকারে লাগছে না। সংযোগ সড়কের জন্য আমি সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেও কোনো সাড়া পাচ্ছি না।
সেতু নির্মাণের সঙ্গে জড়িত আরএন বিল্ডার্সের প্রোপাইটার আসাদুজ্জামান এবং প্রতিষ্ঠান মেসার্স উজ্জল ট্রেডার্সের প্রোপাইটার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহূত ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সুজানগর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেজাউল করিম বলেন, ঠিকাদারদের বারবার বলার পরও তারা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করছে না।
আর এ কারণে তাদের আইন অনুযায়ী কাজের বিলও প্রদান করা হয়নি। এ বিষয়ে ইউএনও আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ