ঢাকা, রোববার 25 February 2018, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪, ৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সার্বিক সহযোগিতা পেলে চলনবিল হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র

তাড়াশ থেকে শাহজাহান : পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর এই তিনটি জেলার সংযোগস্থলে যে বিশাল নিম্ন জলাভূমি এরই নাম চলনবিল। বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ এই নিম্ন জলাভূমি এককালে মাছ ও দেশী বিদেশী পাখির জন্য ছিল বিখ্যাত। এখন মুক্ত জলাশয়ের মাছের সংখ্যা কমে গেলেও তা একেবারেই ফুরিয়ে যায়নি। যে বিশাল এলাকা নিয়ে এই বিলাঞ্চল তার মধ্যে রয়েছে সিংড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, চাটমোহর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, সলঙ্গা, উল্লাপাড়া ও তাড়াশ উপজেলা। এই ৯ টি উপজেলার বিস্তির্ণ অঞ্চলের আয়তন প্রায় ১১৫০ বর্গ কি.মি। যার লোক সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষের উপরে। এই বিলে কূল কিনারাহীন ঢেউ বর্ষায় ভ্রমন পিয়াসি মানুষকে মুগ্ধ করে। চলনবিলের মধ্যে দিয়ে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে বর্ষা মৌসুমের প্রায় প্রত্যেক দিন দেশী বিদেশী পর্যটক চলনবিলের মুগ্ধতা অনুভব করে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশের কৃতি সন্তান ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা পাবনা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মন্জিলহক বলেন,এখানে যদি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা যায় তাহলে তা কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন বা কুয়াকাটার চেয়ে কোন অংশে কম দর্শনীয় স্থান হবে না। এক সময় এই বিলাঞ্চলে কোন মানুষের বসবাস ছিল না। কালক্রমে নদী বাহিত পলি মাটির চর গড়ে ওঠে বিলের নানা জায়গায়। আর সেখানে দুর্ধর্ষ প্রকৃতির সাহসী মানুষ মাছ ও পাখীর লোভে চলনবিলের মাঝে পুকুর বা দিঘী খনন করে তার পাড়ে গড়ে তুলেছে বসবাস করার জন্য গ্রাম। এখানকার বিশাল বিশাল দিঘীগুলোর মধ্যে রয়েছে জয়সাগর দিঘী,উলিপুর দিঘী,তাড়াশের কুঞ্জবন, নওগাঁয় ভানুসিংহ দিঘী, বাজার দিঘী, মথুরাদিঘী, ধানচালা দিঘী, দেবীপুরের ভটের দিঘী, মুনিয়াদিঘী, শীতলাই জমিদার বাড়ীর দিঘী, সগুনা দিঘী,সুলতানপুর দিঘী, ভায়াটের দিঘী, উনুখার দিঘীসহ আর যে বড় বড় পুকুর কত রয়েছে তার হিসাব নিকাশ নাই। এসব দিঘী এখন মৎস্য চাষের ভান্ডারে পরিনত হয়েছে। চলনবিলাঞ্চলের মাছ বিক্রি করার জন্য বিলের এক প্রান্তে বিশ্বরোড সংলগ্ন মহিষলুটি বাজারে গড়ে উঠেছে বিশাল মৎস্য আড়ৎ। সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ আড়তে মনোমুগ্ধকর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ যেমন, পবা, কৈ, বাঁচা, চিতল, কাতল, বেলে, বৌ মাছ, বাশপাতা, সোল-গজার, রুই, মাগুড়, টেংড়া, পুটি, আইড়, বোয়াল, ফলি, চিংড়ি, টাকি, বাইমসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। বিলের আকাশে রাতের তারাগুলো মানুষকে প্রানবন্ত করে। চলনবিলাঞ্চলের আরও দেখার মত নিদর্শন চাটমোহরের সাহী মসজিদ, হরিপুরের প্রমথ চৌধুরীর জন্মস্থান, জোনাইলে খ্রিস্টান গির্জা ,শাহজাদপুরে রবিন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ী, শাহজাদপুরে শাহ-মোকদমের মাজার, তাড়াশের লাল মন্দির, বিনসাড়ায় বেহুলার কূপ, হান্ডিয়ালের জগন্নাথ মন্দির, তাড়াশের দক্ষিনে ষোড়শ শতাব্দিতে তৈরী নশরত শাহের আমলে পাথরের তৈরী মসজিদ, নওগাঁয় শাহ শরীফ জিন্দনী (রঃ) এর মাজার, পাশেই পশ্চিমে আরও একটি ভাঙ্গা মসজিদসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন এতটাই কারুকার্যে তৈরী যা পর্যটককে মুগ্ধ না করে পারবে না। একটা প্রচলিত প্রবাদ বাক্যে আছে, বিল দেখতে চলন-গ্রাম দেখতে কলম-আর শিব দেখতে তালম। এই তিনটি দেখার জিনিস চলনবিলের মাঝেই দেখতে পাবেন পর্যটকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ