ঢাকা, রোববার 25 February 2018, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪, ৮ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশে একদলীয় নির্বাচন আর হতে দেয়া হবেনা

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল ২০১৭ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এরা দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশে আইনের শাসনের পরিবর্তে দলীয় শাসন চলছে। এখন কোথাও কারও নিরাপত্তা নেই। তিনি বলেন, সরকার মনে করছে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর দমনপীড়ন চালিয়ে আবারও একতরফা নির্বাচন করা যাবে। তবে তাদের জানিয়ে দিতে চাই, ২০১৪ সালের জানুয়ারির মতো এদেশে আর একদলীয় নির্বাচন হবেনা, হতে দেয়া হবেনা। দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার আর বিসর্জন দিবেনা। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে কাউন্সিল অধিবেশনে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএফইউজে’র, সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজে সভাপতি বিশিষ্ট কবি আবদুল হাই শিকদার, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সরদার আবদুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভায় ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে আসা কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ।
মওদুদ আহমদ দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, আমরাতো  দেশের এমন অবস্থা দেখার জন্য একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ করিনি? আজকে সরকার বলছে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন সব আছে। আসলে দেশে কিছুই নেই। দেশে দলীয় শাসন আছে কিন্তু আইনের শাসন নেই। আমরা যারা বিরোধী রাজনীতিক তারা যেন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। প্রথম শ্রেণির নাগরিকের জন্য সব সুবিধা আর আমাদের জন্য আলাদা কথা।
ঢাকায় বিএনপির কালোপতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিতে পুলিশী বাধার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কালোপতাকা প্রদর্শণ করতে চেয়েছিলাম। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে। আমরাতো রাস্তা বন্ধ করিনি। আমাদের নেত্রীকে কারাগারে নেয়ার প্রতিবাদে ঢাকায় সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় কালো পতাকা মিছিল থেকে কালোপতাকা প্রদর্শণ কর্মসূিচ দিয়েছিলাম। সেখানেও সরকার বাধা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী আক্রমণ করেছে। রঙ্গিন পানি দিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।
মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারি ব্যবস্থায় নৌকা মার্কায় ভোট চাইছেন আর গণতন্ত্রের জন্য যিনি লড়াই করছেন সেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী করেছেন। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসি যদি তল্পিবাহক না হয়ে সাহসী ও স্বাধীন হতো সংবিধান  মোতাবেক কাজ করতো তাহলে তারা আওয়ামী লীগকে বাধা দিত। তা নাহলে বিএনপিকেও একই ধরনের সুযোগ দিত। কিন্তু তারা সেটা করেনি। তাহলে এখান থেকে বুঝা যায় সরকার আগামী নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছে?
তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো একদলীয় নির্বাচন হতে দেয়া হবেনা। আমাদের ওপর যত নির্যাতনই হোক।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই মন্তব্য করে মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে এই সরকারের আমলে অনেক সাংবাদিক নির্যাতনে শিকার। অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। গণমাধ্যমের প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা নেই। বিচারকদের স্বাধীনতাও নেই। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে কিভাবে দেশত্যাগ করিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তাহলে তো আইনের, ইমপিচমেন্টের ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের দরকার নেই। যেহেতু ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করানো হয়। আসলে সরকার একটা নীচু, নোংরা ও খারাপ পথ দেখিয়েছে। আসলে এই সরকার সুপ্রিম কোর্টের ভাবমর্যাদা সম্পূর্ণ ধূলিস্যাৎ করে দিয়েছে। এরপর কি আর কোনো বিচারক সুষ্ঠু রায় দিবেন? নি¤œ আদালতের একই অবস্থা।
খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের প্রতীক আখ্যা দিয়ে সাবেক এই আইনমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে বন্দী করে নৌকায় ভোট চাইছে। এ অবস্থা চলতে পারেনা। এর পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে। কারণ দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার আর বিসর্জন দিবেনা। এখন জনগণের ভোটাধিকার দেখার জন্য আওয়ামী লীগের অপেক্ষা করতে হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখন কাজ একটাই, এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখা। সেটি সবার আগে করতে পারে সাংবাদিকরা। এই সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দু:শাসনের কথা গুলো তুলে ধরতে হবে। কিন্তু মিডিয়ায় আজ সে কথা বলা যায়না।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশ আজ চরম সংকটে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে সব পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা এখন স্বাধীন নয়। তাদের নানা আইন দিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছেনা।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, আজ দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই। অনেকগুলো মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার সাংবাদিক বেকার। তিনি বলেন, আজ যারাই এই সরকারের অনিয়ম দুর্নীতির কথা বলছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এখন যেন পুরো দেশটাই একটি কারাগারে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, সময় এসেছে আমাদের জেগে উঠার। দেশের গণতন্ত্র এবং মুক্ত গণমাধ্যমের স্বার্থে সাংবাদিকদের আরো  সোচ্চার হতে হবে। সাহসের সাথে আমাদের আগামী দিনের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
এম এ আজিজ বলেন, এই সরকার মুখে আইনের কথা বললেও তারা সেটি মানেনা। তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা প্রত্যাহার করলেও দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালদা জিয়ার একটি মামলাও প্রত্যাহার করেনি। তারা তাকে সাজা দিয়ে নির্বাচনের বাইরে রাখার দিবাস্বপ্ন দেখছে। কিন্তু এটি হতে দেয়া হবেনা। তিনি বলেন, দুর্নীতি সাথে যাদের নাম ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছে সেই দল আওয়ামী লীগ।
সভাপতির বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন, এখন একটাই আন্দোলন হবে, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটানো। তিনি বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের জায়গা জিয়াউর রহমান দিয়ে গেলেও আজ বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হচ্ছেনা। এর সাথে কিছু মুনাফিক জড়িত। এদের কোনোদিন ক্ষমা করা হবেনা। তিনি বলেন, এই সরকার আমার বিরুদ্ধে ৭০টির অধিক মামলা করেছে। তারপরও আমি আপোস করবোনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ