ঢাকা, সোমবার 26 February 2018, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হারমন-ডকট্রিন থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হবে কেন?

টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সংবাদ মুদ্রিত হয়েছে দৈনিক নয়াদিগন্তে। ‘নদী কোন রাজ্যের একক মালিকানা নয়’ শিরোনামের খবরটিতে বলা হয়, একটি রাজ্যের ওপর প্রবাহমান কোন নদীর ওপর কোন রাজ্যের একক মালিকানার দাবি খাটবে না বলে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। উল্লেখ্য যে, কাবেরি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে কর্নাটক ও তামিলনাড়ু রাজ্যের বিবাদ মেটানোর এই রায়ে আদালত বলেছে, নদী হবে জাতীয় সম্পদ। কাবেরির পানি নিয়ে কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর মধ্যে বিবাদ বহু দিনের। এ নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামাও হয়েছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চের রায়ে বলা হয়, ‘অন্য কোন রাজ্যকে বঞ্চিত করে কোন নদীর ওপর কোন রাজ্য বিশেষ অধিকার দাবি রতে পারে না। এই রায় দেয়ার ক্ষেত্রে বিচারকরা অভিন্ন নদীর পানির অধিকার নিয়ে ‘হারমন-ডকট্রিন’ থেকে কালে কালে ১৯৬৬ সালের ‘হেলসিংকি রুলস’ এবং ২০০৪ সালের ‘বার্লিন রুলস’ এ পরিবর্তিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের এক কালের এটর্নি জেনারেল  জাডসন হারমনের অভিমত ছিল, যে নদীর যতটুকু যে দেশের ওপর দিয়ে বইবে তার পুরো অধিকার সে দেশেরই থাকবে। এটি ‘হারমন-ডকট্রিন’ নামে পরিচিত।
প্রসঙ্গত এখানে আমরা বাংলাদেশের সমস্যার কথা উল্লেখ করতে পারি। ভারতের সাথে বাংলাদেশের অনেকগুলো অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীতে পানি বণ্টনের সমস্যা রয়েছে। অনেক নদীতে ভারত বাঁধ দিয়ে একতরফাভাবে পানি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের পানি সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক নদী শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। বহু এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে একটা চুক্তি হলেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি আটকে আছে অর্ধযুগ ধরে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘হারমন-ডকট্রিন’ মানছে না ভারত। অথচ কাবেরি নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে তো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ‘হারমন-ডকট্রিন’ এর আলোকে রায় দিলেন। এমন রায়তো বাংলাদেশের দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করে। অভিন্ন নদীর পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা এবার ভারত কোন যুক্তিতে অস্বীকার করবে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ