ঢাকা, সোমবার 26 February 2018, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঝিনাইগাতীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ঝুুঁকিতে সেতু

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) উপজেলার সন্ধ্যাকুড়ায় মহারশি নদীর উপর এলজিইডি’র প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতু’র কাছ থেকে বালু উত্তোলন করায় সেতু’র ভীমের ব্যারেজ নিম্নাংশ মাটি শূন্য হয়ে পড়েছে

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় মহারশি নদীর ওপর সন্ধ্যাকুড়া সীমান্ত সড়কে নির্মিত সেতুর কাছে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় সেতু ও এর আশপাশের আবাদি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহারশি নদীর উপর নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া সীমান্ত সড়কে ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে ‘গ্রেটার ময়মনসিংহ প্রজেক্টের’ (জিএমপি) আওতায় ৩ কোটি ৩০লাখ ৬৮হাজার টাকা ব্যয়ে ১৬০.১৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণ করে এলজিইডি বিভাগ।
সেতুর পাশের গুমড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. এমদাদ হোসেন (৩০) বলেন, প্রায় দশ বছর ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সেতুর ভিমের ব্যাজের নিম্নাংশ মাটি শূণ্য হয়ে পড়েছে। নদীর পাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং আশপাশের আবাদি জমিগুলোতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। মাঝে-মধ্যে প্রশাসনের অভিযানে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও কিছুদিন পর আবার তা নতুন উদ্যমে শুরু হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বালু ব্যবসায়ী হেলাল, শাহালম, শাজাহান, জাফরসহ সংঘবদ্ধ একটি দল সেতুর দক্ষিণ ও উত্তর পাশে আনুমানিক ৩০০ গজ দূরে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র বসিয়ে নদী থেকে সাত-আট বছর ধরে বালু উত্তোলন করছে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এভাবে অবাধে বালু উত্তোলন করা হলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কেউ আবার প্রতিবাদ করলেও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাসহ তাদের নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
বালু উত্তোলন বিষয়ে সামিউল ফকিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, এভাবে মহারশি নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে ভাঙনের কবলে পড়ে ওই সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান আব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বেশকিছু খনন যন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ