ঢাকা, সোমবার 26 February 2018, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শেরপুরে শাইন্’র উদ্যোগে লক্ষ্মী প্যাঁচা উদ্ধার

শেরপুরের সদর উপজেলার বলাইরচর ইউনিয়নের জঙ্গলদী গ্রাম থেকে একটি লক্ষ্মী প্যাঁচা উদ্ধার করা হয়েছে। শেরপুরের পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন্’র নির্বাহী পরিচালক মো. মুগনিউর রহমান মনিসহ কয়েকজন পরিবেশকর্মী অতি সম্প্রতি সদর থানার জঙ্গলদী গ্রাম থেকে এটিকে উদ্ধার করেন।
শাইন্’র নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান মনি বলেন, উদ্ধার করা প্যাঁচাটি লক্ষ্মী পেঁচা। এটি আহত ছিল। তাই বর্তমানে এটিকে সেবা-শুশ্রুষা ও পরিচর্যার জন্য তাঁদের একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সুস্থ হবার পর প্যাঁচাটিকে উন্মুক্ত প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার জন্য জেলা বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরো বলেন, এটি আকারে কবুতরের মতো; ৩৬ সে.মি: হালকা সোনালী পিঠ এবং সাদাটে পেট। সাদা পান-পাতার মতো মুখমন্ডল। পিছন দিক থেকে দেখলে ঘাড়, পিঠ ও লেজ সোনালি-হলুদ। বুক, পেট ও লেজে অসংখ্য সরু দাগ। মেটে-সাদা থেকে মেটে-বাদামি চঞ্চু। চোখ কালো। পা হালকা মেটে এবং আঙুল কালচে। সাপের মতো হিসহিস শব্দ করে ডাকে। সারা দেশে আছে; সহজে দেখা মেলে। 
কিন্তু সচেতনতার অভাবে বিভিন্ন যায়গায় নানাভাবে এসব পাখি শিকারীদের হাতে মারা পড়ছে। আর এতে করে পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। লক্ষ্মী প্যাঁচার ইংরেজী নাম Common Barn Owl. বৈজ্ঞানিক নাম Tyto alba.
শাইন্’র নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান মনি আরো বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাখি উদ্ধারকাজে আমাদের সহায়তাকারী রয়েছে। কোথাও কোনো শিকারী ফাঁদ পেতে পাখি ধরার চেষ্টাকালে আমাদের কাছে ০১৭১৬১১৮০৭০ মুঠোফোনে খবর পৌঁছায়। পরবর্তীতে আমরা তা উদ্ধার করে আকাশে অবমুক্ত করি। শুধু তাই নয়, পাখি শিকারের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি আটক করে তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়।শিকারীদের বোঝানোও হয় পাখি, বন্যপ্রাণী পরিবেশের অন্যতম অনুসঙ্গ। এদের শিকার করলে পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। এ ধরনের সচেতনতামূলক ও উদ্ধার কার্যক্রম আমাদের প্রতিনিয়ত অব্যাহত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন শাইন’র নির্বাহী পরিচালক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ