ঢাকা, সোমবার 26 February 2018, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পৌর এলাকার আবর্জনা ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে যাচ্ছে আমনকূড়া বিল : এলাকাবাসীর দুর্ভোগ

বর্জ্যে এভাবে ভরে যাচ্ছে আসনকূড়া বিল -সংগ্রাম

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে শেরপুর পৌরসভার সকল আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশের ‘আমনকূড়া’ বিলে। ফলে দিন দিন বিলটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সেইসঙ্গে এলাকাবাসী ও পথচারীরা বর্জ্যরে দুর্গন্ধে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পৌরসভার বর্জ্য সংরক্ষণ (কর্ন্সাভ্যান্সি) বিভাগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের বিভিন্নস্থানে ফেলে রাখা আবর্জনা ও বর্জ্য পৌরসভার ট্রাক ও ভ্রাম্যমাণ ভ্যান দিয়ে সংগ্রহ করে তা শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে গৃদানারায়ণপুর এলাকার আমনকূড়া বিলে ফেলা হয়। এই বিলটি শহরের পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘ দেড় দশক ধরে এখানে শহরের বর্জ্য ফেলায় ক্রমান্বয়ে বিলটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় গৃদানারায়ণপুর, নবীনগর, চকপাঠক, রাজবল্লভপুর, মাধবপুর এলাকাসহ শহরের বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হন। সেইসঙ্গে বর্জ্যরে প্রচন্ড দুর্গন্ধে বিলের আশপাশের বাড়িঘরের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা দুর্ভোগে পড়েন। এলাকাবাসীরা জানান, পৌরসভার ময়লা-আবর্জনাবাহী ট্রাকে করে প্রায় প্রতিদিন পৌর শহরের গৃদানারায়ণপুর এলাকায় শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশের আমনকূড়া বিলে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বিলের অধিকাংশ এলাকা বর্জ্যে ভরাট হয়ে বিশাল ‘ভাগারের’ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সারাদিন ধরে নিয়মিত বেশ কয়েকটি গবাদিপশু বিলে ফেলে রাখা বর্জ্য থেকে উচ্ছিষ্ট খাবার খায়। নিয়মিত কিছু নারী, শিশু ও পুরুষ লোক  ওই বর্জ্য থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে থাকে। এতে করে মানুষসহ পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।  আমনকূড়া বিলসংলগ্নস্থানে শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনসহ পৌর পার্ক, পৌর ক্লাব, টেনিস ক্লাব, পৌর হকার্স মার্কেট, কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি অবস্থিত। বিলসংলগ্ন পৌর হকার্স মার্কেটের হোটেল ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মমিন বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে পৌরসভা থেকে ইজারা নিয়ে তিনি এখানে হোটেল দিয়েছেন।
নি¤œআয়ের শ্রমজীবী মানুষ হোটেলে খেতে আসেন। কিন্তু ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে অনেকে না খেয়েই চলে যান। বর্জ্য ফেলার কারণে এখানকার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। পৌরসভার লোকজন ময়লা-আবর্জনা নিয়ে এলে এখানে ফেলতে তিনি তাঁদের মানা করেন। কিন্তু তাঁরা কোন কথা শোনেন না। এ ব্যাপারে একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি বলে তিনি জানান। পৌর হকার্স মার্কেটের মনিহারি ব্যবসায়ী মো. চান মিয়া বলেন, ‘বর্জ্যরে দুর্গন্ধে আমাদের ব্যবসা করতে অসুবিধা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়, তখন আবর্জনার পচা পানি সড়কের ওপর এসে পড়ে এবং প্রচন্ড দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে যায়।’ গৃদানারায়ণপুর এলাকার মায়ের দোয়া ইঞ্জিনীয়ারিং ওয়ার্কসপের মালিক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে সারাদিনই দুর্গন্ধ আসে। ময়লার কারণে মাছি এসে পরিবেশ নষ্ট করছে।  আমনকূড়া বিলসংলগ্ন গৃদানারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘শেরপুরের প্রবেশদ্বারে এই ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে আমাদের বসবাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। মাঝে-মধ্যে এমন বিশ্রী দুর্গন্ধ বের হয় যে, এখানে থাকা খুব কষ্ট হয়ে পড়ে। আমরা বিভিন্ন সময়ে এখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ আমাদের কথায় কর্ণপাত না করে দিনের পর দিন এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলেই যাচ্ছেন। এতে এলাকাবাসীর খুবই ভোগান্তি হচ্ছে।’ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে পৌর হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী আমনকূড়া বিলে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে অনতিবিলম্বে বিলের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা ও পরিবেশ রক্ষা করার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান।  শেরপুরের স্বেচ্ছাসেবী প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন্’র নির্বাহী পরিচালক মো. মুগনিউর রহমান মনি বলেন, সড়কের পাশে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আমনকূড়া বিলে শহরের বর্জ্য ফেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এর ফলে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশনেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আমনকূড়া বিলে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে শহরের বাইরের কোন স্থানে তা অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি পৌর কর্র্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন বলেন, শহরের বর্জ্য অপসারণের জন্য শেরপুর পৌরসভার কোন ‘ডাম্পিং স্টেশন’ (বর্জ্য ফেলার কেন্দ্র) না থাকায় অস্থায়ীভাবে আমনকূড়া বিলে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে নগর পরিচালন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শহরের বাইরে একটি আধুনিক ‘ডাম্পিং স্টেশন’ স্থাপনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এজন্য ছয় কোটি টাকায় তিন একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অতি দ্রুতই ‘ডাম্পিং স্টেশন’ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ