ঢাকা, সোমবার 26 February 2018, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪, ৯ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঘুরে রক্তচাপ মেপেও ফরিদ আহাম্মদের অভাব কাটে না

শেরপুর সংবাদদাতা: জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য ঘুরে ঘুরে রক্তচাপ মেপে দেওয়ার এক অভিনব পেশা বেছে নিয়েছেন অতিদরিদ্র ফরিদ আহাম্মদ (৪৮)। জমিজমা না থাকায় অভাব-অনটনের সংসারে দৈন্যদশার পরও তিনি কারো কাছে হাত পাততে অভ্যস্ত নন। তাই মানুষের রক্তচাপ মেপে দিয়ে উপার্জিত আয়ে জীবন সংসারের চাকা ঘুরানোর চেষ্টায় নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে। কিন্তু তাতেও চলে না তাঁর জীবন।
ফরিদ আহাম্মদ শেরপুরের নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী গ্রামের মৃত ইসরাফিল মিয়া ও সফুরা খাতুনের ছেলে। ১৯৮৮ সালে এসএসসি পাস করেন তিনি। কলেজে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মারা যান তাঁর বাবা-মা। ফলে আর্থিক সংকটে তাঁর আর পড়ালেখা করা সম্ভব হয়নি। এ সময় জীবিকার তাগিদে এলাকার খুদে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে জীবন কাটান। ১৯৯৬ সনে বানেশ্বরদী গ্রামের নাসরিন বেগমকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। ফরিদ আর নাসরিনের ঘরে রয়েছে দুই ছেলে। আর আছেন শাশুড়ি আঞ্জুমান আরা। পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে কঠিন অবস্থায় পড়েন ফরিদ। যে কারণে প্রাইভেট পড়ানোর পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে দিনমজুরের কাজ করতেও বাধ্য হয়েছেন তিনি। অর্থাভাবে দুই ছেলেকে বেশি লেখাপড়া করাতে পারেননি।
ফরিদ জানান, প্রায় এক দশক আগে সংসারের চাকা ঘুরাতে তিনি ভিন্ন পেশা বেছে নেন। একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর ওই সংস্থার দেওয়া একটি রক্তচাপ মাপার যন্ত্র নিয়ে তিনি জেলা ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন জায়গাসহ অফিস-আদালত, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ ও  বাসাবাড়িতে পায়ে হেঁটে জন প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা নিয়ে মানুষের রক্তচাপ মেপে দেন। অনেক সময় মানবিক কারণে গরীব রোগীদের বিনে পয়সায় রক্তচাপ মেপে দেন। এ পেশার মাধ্যমে যে আয় হয় তা দিয়ে জীবন চলে না তাঁর। ‘ভ্রাম্যমাণ রক্তচাপ মাপক’ হিসেবে ফরিদ এখন জেলার অধিকাংশ মানুষের কাছেই পরিচিত মুখ। তবে অল্পদিনের ব্যবধানে একই ব্যক্তির কাছে পুনরায় রক্তচাপ মাপতে গেলে বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয় তাঁকে। ‘আজ রক্তচাপ মাপার প্রয়োজন নেই’ বলে ওই ব্যক্তি অনেকটা বিরক্তির সুরে তাঁকে (ফরিদ) ফিরিয়ে দেন। এতে কষ্ট পান ফরিদ।
নিজের শরীরের অনেক সমস্যা নিয়েও জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে এ পেশায় নিয়োজিত আছেন তিনি। এ পেশার সামান্য আয় দিয়ে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ফরিদ আহাম্মদের ভবিষ্যত ইচ্ছে এক বছর মেয়াদী পল্লী চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ নেওয়ার। আর এটা করতে পারলে তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেটাও এখন তাঁর পক্ষে করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কোন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠানে তাঁকে একটি চাকুরি দেওয়া হলে সেই উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসকের প্রশিক্ষণটি নিতে চান তিনি। তাই অতিদরিদ্র এ মানুষটি সমাজের সহৃদয়বান মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা চেয়েছেন।
নকলার বানেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাজহারুল হক বলেন, ফরিদ একজন ভূমিহীন অতিদরিদ্র মানুষ। বর্তমানে বিভিন্ন মানুষের রক্তচাপ মেপে সামান্য আয়ের মাধ্যমে অতিকষ্টে সংসার চালাচ্ছেন। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে তাঁকে সহায়তা করা হলে তিনি একজন প্রশিক্ষিত পল্লী চিকিৎসক হতে এবং দরিদ্র মানুষের সেবা করতে পারতেন। ফরিদ আহাম্মদের মোবাইল নম্বর: ০১৯৫৩২৪৩৯০৩।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ