ঢাকা, মঙ্গলবার 27 February 2018, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৪, ১০ জমদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্রের নতুন পাঠ!

‘বিএনপির কালো পতাকার জবাবে পুলিশের লাঠিপেটা’ শিরোনামটি যে কোনো নাগরিকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো পত্রিকায় মুদ্রিত খবরটিতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় বিএনপির ‘কালো পতাকা’ প্রদর্শনের কর্মসূচি প- করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে পুলিশ জলকামান থেকে রঙিন পানি ছোঁড়ে। দলের নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে থেকে অন্তত ৫৯ জনকে আটক করা হয়। ঘটনার সময় পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন ৩০ নেতাকর্মী। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার পর যোগাযোগ করা হলে পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আটক ৩২ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারীর বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা ও অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি পালনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। এদিকে ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ১৫০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের লাঠিপেটায় বিএনপির অন্তত ২৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চেয়েছিল বিএনপি। পুলিশ সমাবেশ করার অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে দলটি প্রথমে ‘কালো পতাকা মিছিল’ কর্মসূচি দিয়েছিল। পরে ‘মিছিল’ বাদ দিয়ে শুধু কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি দেয়া হয়। কর্মসূচি উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি প্যান্ডেল করা হয়েছিল। সেটিও পুলিশ ভেঙে দিয়েছে। পরে কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতেও বিএনপি নেতাকর্মীদের দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ। তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং বেদম লাঠিপেটা করা হয়। কারো কারো গলা চেপে ধরা হয়, টুঁটিও চেপে ধরা হয়। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, লাঠিপেটার সময় সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও সাংবাদিকদের মারধর করা হয়, করা হয় হেনস্তা।
প্রশ্ন জাগে, একটি গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলের  কর্মসূচি পালনের অধিকার কি নিষিদ্ধ করা হয়েছে? বিএনপি তো সমাবেশ করার অনুমতি পেল না। কালো পতাকা মিছিল করতে চেয়েছিল, কিন্তু সরকারের হাবভাব দেখে ‘মিছিল’ বাদ দিয়ে শুধু ‘কালো পতাকা প্রদর্শন’ কর্মসূচি দিয়েছিল। কিন্তু এমন নিরীহ কর্মসূচিও সহ্য হলো না সরকারের। তাহলে বিরোধীদল হিসেবে বিএনপির করণীয় কী? সরকার কি তা বাতলে দেবে? আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য অবশ্য এখন নানা রঙে-রসে ভরপুর। গণতন্ত্রসম্মত নিরীহ কর্মসূচি দিলে তারা বলেন, ওদের আন্দোলন করার মুরোদ নেই। আবার আন্দোলনের কর্মসূচি দিলে বলে, ওরা দেশে অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জঙ্গীবাদে মত্ত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতারা আসলে আছেন মহামৌজে। সরকারে থাকলে বোধহয় এমনই হয়। সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবার বিএনপির করণীয় বাতলে দিয়েছেন। তিনি বিএনপিকে বলেছেন, আপনারা যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেন; তাহলে ঘরে বসে করুন, অফিসে করুন, রাস্তায় কেন? প্রশ্ন জাগে, আওয়ামী লীগ কি কখনো ঘরে বসে, অফিসে বসে আন্দোলন করেছিল? বিরোধী দলের প্রতি এই যদি হয় সরকারের মানসিকতা, তাহলে বিএনপি তো এখন অফিস-টফিস বন্ধ করে রাজনীতিটা বাদ দিলেই পারে। কারণ ক্লাস না হলে স্কুল বন্ধ করে দেয়াই ভাল। এটাই হয়তো গণতন্ত্রের নতুন পাঠ!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ